Farjana yeasmin

Farjana yeasmin

Share

Sharing My Journey, Creativity, and Daily Adventures | Let’s Grow Together!

30/09/2026

مَنۡ کَانَ عَدُوًّا لِّلّٰہِ وَمَلٰٓئِکَتِہٖ وَرُسُلِہٖ وَجِبۡرِیۡلَ وَمِیۡکٰىلَ فَاِنَّ اللّٰہَ عَدُوٌّ لِّلۡکٰفِرِیۡنَ

মুফতী তাকী উসমানী
যদি কোনও ব্যক্তি আল্লাহর, তাঁর ফিরিশতাদের, তাঁর রাসূলগণের এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, তবে (সে শুনে রাখুক) আল্লাহ কাফিরদের শত্রু।

মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু।
শানে নুজুলঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নবী হওয়ার পর ইহুদীদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলে তাদের একদল তাঁর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, আমরা আপনাকে কয়েকটি প্রশ্ন করব, আপনি সঠিক উওত্তর দিতে পারলে আমরা ইমান আনব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর অনুমতিক্রমে তাঁরা বলল, তাওরাত অবতীর্নের পূর্বে ইয়াক্বূব (আঃ) কোন বস্তু নিজের জন্য হারাম করেছিলেন? স্ত্রী-পুরুষের সম্মিলিত শুক্র হতে কখনও ছেলে কখনও মেয়ে কেন জন্মে? তাওরাতে শেষ নবীর পরিচয় কি লেখা আছে এবং কোন কোন ফেরেশতা তাঁর সঙ্গী হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সঠিক ভাবে তাদের প্রশ্ন সমূহের উত্তর দিলেন। ইহুদীরা উত্তর মেনে নেয়ার পর বলল, জিবরাঈল তো পূর্ব হতেই আমাদের শত্রু, তদস্থলে অন্য কেউ হলে আমরা ইমান আনতাম। ফলে এই আয়াত নাযিল হয়।- ইব্‌নে কাছীর
—আল বাকারা - ৯৮

16/09/2026

*রাসূল ﷺ - যাদেরকে সর্বোত্তম বলেছেন। আসুন চেক করে দেখি আপনি আমি সেই লিস্টে আছি কি না❓*

⭕ ১.রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُﻛُﻢْ ﻣَﻦْ ﺗَﻌَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥَ ﻭَﻋَﻠَّﻤَﻪُ
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে নিজে কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়।’
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ৫০২৭)

⭕ ২.রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣَﺎﺳِﻨُﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻼَﻗًﺎ
‘নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি, যে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম আচরণের অধিকারী।’
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ৬০৩৫)

⭕ ৩.রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
ﺇِﻥَّ ﺧِﻴَﺎﺭَﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﻗَﻀَﺎﺀً
তোমাদের মধ্যে সর্বসেরা ব্যক্তি সে, যে ঋণ পরিশোধের বেলায় ভালো।
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ২৩০৫)

⭕ ৪.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ঐ ব্যক্তি, যার কাছ থেকে সবাই কল্যাণ আশা করে, অনিষ্টের আশঙ্কা করে না।’
(তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ২২৬৩/২৪৩২)

⭕ ৫.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
‘তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ঐ ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে ভালো।’
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নম্বর : ৪১৭৭)

⭕ ৬.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧِﻴَﺎﺭُﻛُﻢْ ﺃَﻃْﻮَﻟُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﺭًﺍ ﻭَﺃَﺣْﺴَﻨُﻜُﻢْ ﺃَﻋْﻤَﺎﻟًﺎ
তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সেই, যে তোমাদের মধ্যে বয়সে বেশি এবং (নেক) কাজে উত্তম।
(আহমাদ ৭২১২, ৯২৩৫, সিঃ সহীহাহ ১২৯৮)

⭕ ৭.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﺃﻧْﻔَﻌُﻬُﻢْ ﻟِﻠﻨَّﺎﺱِ
সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।
(সহীহুল জামে’ হা/ ৩২৮৯, দারাক্বুত্বনী, সিঃ সহীহাহ ৪২৬)

⭕ ৮.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﻣَـﺨْﻤُﻮْﻡِ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ ﺻَﺪُﻭْﻕِ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺻَﺪُﻭْﻕُ ﺍﻟﻠِّﺴَﺎﻥِ ﻧَﻌْﺮِﻓُﻪُ ﻓَﻤَﺎ ﻣَـﺨْﻤُﻮﻡُ ﺍﻟْﻘَﻠْﺐِ
শ্রেষ্ঠ মানুষ হলো যার অন্তর পরিচ্ছন্ন ও মুখ সত্যবাদী। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসুল! সত্যবাদী মুখ বোঝা গেল, কিন্তু পরিচ্ছন্ন অন্তরের অধিকারী কে? রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেন, যে অন্তর স্বচ্ছ ও নির্মল, মুত্তাকি, যাতে কোনো পাপ নেই, বাড়াবাড়ি বা জুলুম নেই, নেই খেয়ানত ও বিদ্বেষ।
(ইবনে মাজাহ ৪২১৬ ,সহিহুল জামে, হাদিস : ৩২৯১)

⭕ ৯.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻷَﺻْﺤَﺎﺏِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺼَﺎﺣِﺒِﻪِ ﻭَﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟْﺠِﻴﺮَﺍﻥِ ﻋِﻨْﺪَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺧَﻴْﺮُﻫُﻢْ ﻟِﺠَﺎﺭِﻩِ
‘আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আর আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম প্রতিবেশী সে, যে তার প্রতিবেশীর কাছে উত্তম।’
(তিরমিজি, হাদিস নম্বর : ১৯৪৪)

⭕ ১০.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেন,
ﺇِﻥَّ ﻣِﻦْ ﺧِﻴَﺎﺭِﻛُﻢْ ﺃَﺣْﺴَﻨَﻜُﻢْ ﺃَﺧْﻠَﺎﻗًﺎ
তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যার চরিত্র সবচেয়ে বেশি সুন্দর।’
(বুখারি, হাদিস নম্বর : ৩৫৫৯)

⭕ ১১.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেন
ﺧَﻴْﺮُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻨْﺰِﻟَﺔً ﺭَﺟُﻞٌ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺘْﻦِ ﻓَﺮَﺳِﻪِ ﻳُﺨِﻴﻒُ ﺍﻟْﻌَﺪُﻭَّ ﻭَﻳُﺨِﻴﻔُﻮﻧَﻪُ
মর্যাদায় সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি সে, যে নিজ ঘোড়ার পিঠে সওয়ার হয়ে শত্রুকে সন্ত্রস্ত করে এবং শত্রুরাও তাকে সন্ত্রস্ত করে।
(বাইহাক্বীর শুআবুল ঈমান ৪২৯১, সিলসিলা সহীহাহ ৩৩৩৩)

⭕ ১২.রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ
ﻟَﻤُﺆْﻣِﻦٌ ﻣُﺠَﺎﻫِﺪٌ ﺑِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﻭَﻣَﺎﻟِﻪِ ﻓﻲ ﺳَﺒﻴﻞِ ﺍﻟﻠﻪِ
ঐ মু’মিন (সর্বশ্রেষ্ঠ) যে আল্লাহর পথে তার জান ও মাল দিয়ে যুদ্ধ করে।
(বুখারী ২৭৮৬, ৬৪৯৪, মুসলিম ৪৯৯৪-৪৯৯৫)

*রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে এইরকম সর্বোত্তম মানুষ হবার তাওফীক দান করুন। আমীন-ইয়া রব্বুল আলামীন।* (copy)

> *_নবীজির সূন্নাহ (ﷺ)_🫀✨*

15/09/2026

কখনো কখনো মানুষকে সব কথা বলা যায় না…
কিন্তু আল্লাহর কাছে সব কথা বলা যায়।

قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

“সে বলল, ‘আমি তো আমার দুঃখ ও কষ্টের অভিযোগ শুধু আল্লাহর কাছেই করছি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি এমন কিছু জানি, যা তোমরা জানো না।’”
— সূরা ইউসুফ: ৮৬

হয়তো হৃদয়ে এমন কিছু কষ্ট আছে, যা কাউকে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
কাউকে বোঝাতে পারছেন না, কাউকে বলতেও পারছেন না।

তাহলে ইয়াকূব (আ.)-এর মতো আল্লাহর কাছেই বলুন। 🤍

মানুষ আপনার কষ্ট পুরোপুরি বুঝতে না পারলেও,
আল্লাহ আপনার না-বলা কথাও জানেন।

আপনার দুঃখ আল্লাহর কাছে বলুন।
দোয়া ছাড়বেন না।
আশা ছাড়বেন না।

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا
“নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।”
— সূরা আশ-শারহ: ৫

15/09/2026

সত্যের আলো ও শয়তানি ধোঁকার ফারাক: সন্তানদের প্রতি চূড়ান্ত নির্দেশিকা
প্রিয় সন্তানেরা,
আজকের পৃথিবী বস্তুবাদের আলোয় আলোকিত মনে হলেও, আত্মিক দিক থেকে তা এক গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। প্রযুক্তির মিথ্যা চাকচিক্য, ব্যবসায়িক লোভ এবং সুদী ব্যবস্থার সুচতুর মায়াজাল মানুষকে তার আসল স্রষ্টা ও আখেরাত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। আধুনিক দুনিয়ার এই বহুমুখী ধোঁকা থেকে নিজেদের ঈমান ও চরিত্র রক্ষা করতে পরম সৃষ্টিকর্তার এই শাশ্বত সত্যগুলো সর্বদা মনে রাখবে:
১. পরম সত্যের মানদণ্ড কেবল আসমানি কালাম
প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা: মানুষের তৈরি এআই (AI), ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কেবল তথ্যের স্তূপ তুলে ধরতে পারে, কিন্তু কোনটি পরম ভালো আর কোনটি মন্দ—তা নির্ধারণের ক্ষমতা কোনো যান্ত্রিক অ্যালগরিদমের নেই।
বিশ্বজনীন কুরআন: কুরআন কেবল কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য নয়; এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য একমাত্র সঠিক হেদায়েতগ্রন্থ। মনগড়া মতবাদ ছেড়ে সর্বদা কুরআনের শাশ্বত বাণীর দিকে ফিরে আসবে।
২. মানবজীবনের পবিত্রতা ও ভ্রাতৃত্ব
এক জীবনের মূল্য: সমাজে ক্ষমতা ও সামরিক দাপটের লড়াই চললেও মনে রাখবে—কারো অহেতুক রক্তপাত ঘটানো সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল, আর একজনের প্রাণ রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতিকে বাঁচানোর সমতুল্য (সূরা আল-মায়েদাহ্: ৩২)।
নিদর্শনের ওপর ভাবনা: আল্লাহ মানুষের চেহারা, চিন্তাভাবনা এবং প্রতিটি আঙুলের সূক্ষ্ম রেখা (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পর্যন্ত আলাদা ও অনন্য করে সৃষ্টি করেছেন (সূরা আল-কিয়ামাহ্: ৪)। নিজের অস্তিত্বের এই আসমানি কুদরতি নিদর্শন দেখে সর্বদা স্রষ্টাকে স্মরণ করবে।
৩. ক্ষণস্থায়ী দুনিয়া ও সময়ের মূল্য
আসল আমল করার সময় অতি সামান্য: ৭০ বছরের জীবনে ঘুম ও শৈশব বাদ দিলে মানুষ পরম সৃষ্টিকর্তাকে চেনার ও নেক আমল করার জন্য গড়ে মাত্র ১০-১৫ বছরের জাগ্রত সময় পায়।
আকস্মিক মৃত্যু ও আফসোস: দুনিয়ার লোভ-লালসায় মত্ত হয়ে পাঁচটির জায়গায় দশটি অট্টালিকা গড়ার প্রতিযোগিতায় সময় নষ্ট করো না। পরকালে যেন আফসোস করে বলতে না হয়—"আহা! আমি যদি আমার চিরস্থায়ী জীবনের জন্য আগে থেকে কিছু পাঠাতাম!" (সূরা আল-ফজর: ২৪)।
৪. শয়তানি ফাঁদ ও আধুনিক শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান
সুদী ব্যবস্থার ধ্বংসকামিতা: সুদ, ব্যভিচার ও জুয়া হলো সমাজকে ভেতর থেকে পচে দেওয়ার শয়তানি চক্রান্ত। সুদী ব্যাংকিং ব্যবস্থা মানুষকে আর্থিক ও মানসিকভাবে দাস বানিয়ে রাখে। কখনো এর অংশ হবে না।
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো: সম্পদ জমিয়ে রাখাই সাফল্য নয়; বরং দুর্দিনে অনাহারী ও অভাবীদের মুখে অন্ন তুলে দেওয়াই হলো দ্বীনের আসল ঘাঁটিতে প্রবেশ করা (সূরা আল-বালাদ: ১১-১৬)।
চূড়ান্ত উপদেশ:
দুনিয়াতে হাজার হাজার মতবাদ ও প্রযুক্তির মোড়কে সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু তোমরা সর্বদা মনে রাখবে—আমাদের প্রিয় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন বিশ্বমানবতার পরম হিতাকাঙ্ক্ষী ও দয়ালু পথপ্রদর্শক। তাঁর আনীত পথ এবং পরম সৃষ্টিকর্তার গ্রন্থকেই নিজেদের জীবনের একমাত্র দিকনির্দেশক বানিয়ে নেবে।
আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে হেফাজত করুন এবং সত্যের আলোয় পথ চলার তৌফিক দান করুন। আমিন।

09/05/2026

সূরা কাহাফ—৪টি ঘটনা থেকে ৪টি শিক্ষা

অনেকেই প্রতি জুমায় সূরা কাহফ পড়েন।

কিন্তু একটা প্রশ্ন আছে—

আমরা কি শুধু পড়ি, নাকি বুঝেও পড়ি?

কারণ সূরা কাহফ শুধু তিলাওয়াতের সূরা না। এটা বোঝার সূরা। ভাবার সূরা। নিজের জীবনকে যাচাই করার সূরা।

এই সূরায় আছে ৪টা অসাধারণ গল্প। আর প্রতিটি গল্পে আছে এমন শিক্ষা, যা একজন মানুষের চিন্তা, ঈমান, ধৈর্য, এবং দুনিয়ার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে পারে।

আজকের পোস্টে আমরা সেই ৪টি গল্পের দিকে তাকাবো— আর দেখবো, আসলে সূরা কাহফ আমাদের কী শেখাতে চায়।

সূরা কাহফ সম্পর্কে সংক্ষেপে

সূরা কাহফ একটি মক্কী সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ১১০।

নবীজি ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমার মাঝখানে নূর জ্বলবে।

আর সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, এর শুরুর ১০ আয়াত দাজ্জালের ফিতনা থেকে হিফাজতের কারণ হবে।

অর্থাৎ, এই সূরার সাথে শুধু ফজিলতই জড়িত না, এর সাথে জড়িত ফিতনা থেকে বাঁচার শিক্ষা।

আর এ কারণেই সূরা কাহফকে শুধু পড়লেই হবে না, বোঝাও দরকার।

গল্প ১: আসহাবে কাহফ—ঈমান বাঁচানোর গল্প

সূরা কাহফের প্রথম বড় গল্প হলো গুহার যুবকদের গল্প।

একদল যুবক ছিল, যারা আল্লাহকে মানতো। কিন্তু তাদের সমাজ ছিল শিরকে ভরা। চারপাশে মূর্তিপূজা, অন্যায়, চাপ, হুমকি।

তাদের সামনে দুটো পথ ছিল— একটা হলো সমাজের সাথে মিশে গিয়ে ঈমান হারিয়ে ফেলা, অন্যটা হলো কষ্ট মেনে নিয়ে ঈমান আঁকড়ে ধরা।

তারা দ্বিতীয় পথটা বেছে নিল।

শহর ছেড়ে বের হয়ে গেল। গুহায় আশ্রয় নিল। আর আল্লাহ তাদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন বহু বছর।

যখন তারা জাগলো, তখন দুনিয়া বদলে গেছে।

এই গল্প আমাদের কী শেখায়?

এটা শেখায়— ঈমান সবার আগে।

যুবকরা আরাম বেছে নেয়নি। সমাজের প্রশংসা বেছে নেয়নি। নিরাপদ অবস্থান বেছে নেয়নি।

তারা ঈমান বেছে নিয়েছে।

আজও এই শিক্ষা খুব প্রয়োজন।

যখন চাকরি আর দ্বীনের মধ্যে টান পড়ে, যখন ব্যবসা আর হারাম-হালালের মধ্যে পার্থক্য মুছে যেতে চায়, যখন সমাজের চাপের কারণে কেউ হিজাব, দাড়ি, সত্য, নামাজ, বা দ্বীনের কোনো অংশ ছেড়ে দিতে চায়— ঠিক তখন আসহাবে কাহফের গল্প মনে করিয়ে দেয়—

দুনিয়া হারালে সব হারায় না।
ঈমান হারালে সব হারায়।

তাদের দোয়াটা খুব গভীর—

رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا

অর্থাৎ— হে আমাদের রব, তোমার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দাও এবং আমাদের কাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করো।

যে মানুষ কঠিন সিদ্ধান্তের সামনে দাঁড়ায়, তার জন্য এই দোয়া আজও জীবন্ত।

গল্প ২: দুই বাগানের মালিক—অহংকারের পরিণতি

দ্বিতীয় গল্পটা দুইজন মানুষের।

একজন ছিল ধনী। তার ছিল বিশাল বাগান, ফসল, নদী, সম্পদ, সবকিছু।

আরেকজন ছিল তুলনামূলক গরিব। কিন্তু তার ছিল ঈমান, বিনয়, আর সঠিক দৃষ্টি।

ধনী ব্যক্তি নিজের সম্পদ দেখে অহংকারী হয়ে গেল। সে ভাবলো— এগুলো কখনও শেষ হবে না। আমিই বড়। আমার চেয়ে শক্তিশালী আর কে?

সে শুধু সম্পদের ওপর ভরসা করলো না, বরং আখিরাত নিয়েও সন্দেহ দেখালো।

আর গরিব সঙ্গী তাকে সতর্ক করলো— এসব আল্লাহর দান। অহংকার কোরো না। বল— মাশাআল্লাহ, লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।

কিন্তু সে শোনেনি।

তারপর একদিন তার বাগান শেষ। সব ধ্বংস। সব শুকিয়ে গেল। সবকিছু ভেঙে পড়লো।

এই গল্পের শিক্ষা কী?

এটা শেখায়— অহংকার ধ্বংস ডেকে আনে।

আল্লাহ সম্পদ দিলে, সেটা পরীক্ষা। সেটা স্থায়ী মালিকানা না।

আজকের জীবনেও এই শিক্ষা খুব প্রয়োজন।

কেউ চাকরি পেলে ভাবে— এটা আমার যোগ্যতায় হয়েছে।

কেউ ব্যবসায় সফল হলে ভাবে— এটা শুধু আমার বুদ্ধির ফল।

কেউ সুন্দর বাড়ি, গাড়ি, ফলোয়ার, ক্ষমতা, নাম—এসব পেলে মনে করে, আমি অন্যদের চেয়ে বড়।

ঠিক এখানেই বিপদ।

কারণ মানুষ যখন নেয়ামতকে আল্লাহর রহমত না ভেবে নিজের কৃতিত্ব ভাবে, তখন তার ভেতরে অহংকার জন্ম নেয়।

সূরা কাহফ শেখায়— সম্পদ পেলে বলো, মাশাআল্লাহ। নিজেকে বড় ভাবো না। গরিবকে তুচ্ছ কোরো না। কারণ আল্লাহ চাইলেই চোখের পলকে সব বদলে যেতে পারে।

গল্প ৩: মূসা (আ.) ও খিজির—যা দেখছেন, সবটাই শেষ সত্য নয়

তৃতীয় গল্পটা খুব গভীর। এটা ধৈর্য, বোধ, এবং আল্লাহর অদৃশ্য পরিকল্পনার প্রতি আস্থার গল্প।

মূসা (আ.) খিজির (আ.)-এর সাথে সফরে গেলেন, আর পথে এমন কিছু ঘটনা দেখলেন, যা বাইরে থেকে অন্যায়, অযৌক্তিক, এমনকি কষ্টদায়ক মনে হয়েছিল।

একটা নৌকায় ক্ষতি করা হলো। একটা বালককে হত্যা করা হলো। একদল কৃপণ মানুষের গ্রামে গিয়ে তাদের জন্যই একটা দেয়াল মেরামত করা হলো।

মূসা (আ.) প্রতিবার প্রশ্ন করলেন। কারণ বাহ্যিকভাবে এসব কাজের অর্থ বোঝা যাচ্ছিল না।

কিন্তু শেষে খিজির (আ.) ব্যাখ্যা দিলেন— আর তখন বোঝা গেল, যা বাইরে থেকে খারাপ দেখাচ্ছিল, তার পেছনে ছিল রহমত, সুরক্ষা, এবং গভীর হিকমত।

এই গল্পের শিক্ষা কী?

এটা শেখায়— আল্লাহর পরিকল্পনা আপনার দেখা দৃশ্যের চেয়েও বড়।

আমরা জীবনে কত কিছু দেখি, যা সঙ্গে সঙ্গে বুঝি না।

কোনো চাকরি চলে যায়। কোনো সম্পর্ক ভেঙে যায়। কোনো বিয়ে হয় না। কোনো সুযোগ হাতছাড়া হয়। কোনো অসুখ আসে। কোনো দুঃখ দীর্ঘ হয়।

তখন আমরা প্রশ্ন করি— কেন?

সূরা কাহফ বলে— সব “কেন”-এর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না।

কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা পরে মেলে। কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা আখিরাতে মেলে। আর কিছু জিনিসের ব্যাখ্যা শুধু আল্লাহই জানেন।

এই গল্প আমাদের শেখায়— সব সময় বুঝতে না পারলেও, বিশ্বাস রাখতে হবে।

যে রব নৌকার ভেতরে রহমত লুকিয়ে রাখতে পারেন, যে রব কষ্টের পেছনে মঙ্গল রাখতে পারেন, তিনি আপনার জীবনেও বৃথা কিছু ঘটতে দেন না।

গল্প ৪: জুলকারনাইন—ক্ষমতা মানে সেবা, অহংকার না

চতুর্থ গল্পটি জুলকারনাইনের।

আল্লাহ তাকে দিয়েছিলেন ক্ষমতা, ভূখণ্ড, সামর্থ্য, জ্ঞান, শক্তি।

কিন্তু তিনি সেই ক্ষমতাকে নিজের বড়ত্ব দেখানোর জন্য ব্যবহার করেননি।

তিনি মানুষের উপকারে ব্যবহার করেছেন। অসহায়দের সাহায্য করেছেন। ইয়াজুজ-মাজুজের ফিতনা থেকে মানুষকে বাঁচাতে প্রাচীর নির্মাণ করেছেন।

সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো— এত বড় কাজ করার পরও তিনি বলেননি, “এটা আমার কৃতিত্ব।”

তিনি বলেছেন—

هَـٰذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي

অর্থাৎ— এটা আমার রবের রহমত।

এই গল্পের শিক্ষা কী?

এটা শেখায়— ক্ষমতা মানে সেবা।

আজ আল্লাহ কাউকে টাকা দেন, কাউকে পদ দেন, কাউকে জ্ঞান দেন, কাউকে প্রভাব দেন, কাউকে নেতৃত্ব দেন।

প্রশ্ন হলো— এসব দিয়ে সে কী করছে?

শুধু নিজের অবস্থান মজবুত করছে? নাকি মানুষের উপকার করছে?

জুলকারনাইন শেখান— যে শক্তি পেয়েছ, তা দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াও। আর কৃতিত্ব নিজের নামে নিও না। বলো— এটা আল্লাহর রহমত।

সূরা কাহফ আসলে আমাদের কী শেখায়?

এই ৪টি গল্প আলাদা আলাদা হলেও, এগুলো এক সুতোয় বাঁধা।

আসহাবে কাহফ শেখায়— ঈমান বাঁচাও।

দুই বাগানের গল্প শেখায়— অহংকার থেকে বাঁচো।

মূসা ও খিজিরের গল্প শেখায়— আল্লাহর হিকমতের উপর ভরসা রাখো।

জুলকারনাইনের গল্প শেখায়— ক্ষমতা পেলে মানুষকে উপকার করো।

খেয়াল করলে দেখবেন, এই ৪টি শিক্ষাই আজকের পৃথিবীতে খুব দরকার।

কারণ আজ মানুষ ঈমান হারাচ্ছে, অহংকারে ডুবে যাচ্ছে, আল্লাহর ফয়সালায় অধৈর্য হয়ে যাচ্ছে, আর ক্ষমতাকে সেবার বদলে প্রভাবের উপায় বানিয়ে ফেলছে।

পরেরবার সূরা কাহফ পড়লে কী করবেন?

শুধু তিলাওয়াত করবেন না। থামবেন। ভাববেন। নিজেকে প্রশ্ন করবেন।

আমি কি আসহাবে কাহফের মতো ঈমানকে গুরুত্ব দিচ্ছি? আমি কি দুই বাগানের মালিকের মতো অহংকারী হয়ে যাচ্ছি? আমি কি মূসা (আ.)-এর মতো ব্যাখ্যা না বুঝেই অস্থির হয়ে যাচ্ছি? আমি কি জুলকারনাইনের মতো ক্ষমতা দিয়ে উপকার করছি?

যখন সূরা কাহফ এভাবে পড়বেন, তখন সেটা শুধু সওয়াবের সূরা থাকবে না, বরং জীবন বদলে দেওয়ার সূরা হয়ে যাবে।

হৃদয়ে রাখার মতো কথা

আমরা অনেক সময় কুরআন পড়ি, কিন্তু কুরআনকে নিজেদের ভেতরে নামাই না।

সূরা কাহফ আমাদের থামিয়ে দেয়। নিজেকে দেখতে বাধ্য করে। মনে করিয়ে দেয়—

ঈমানকে বাঁচাতে হবে। নেয়ামতে বিনয়ী হতে হবে। অদৃশ্য ফয়সালায় ধৈর্য ধরতে হবে। আর যা পেয়েছি, তা দিয়ে আল্লাহর বান্দাদের উপকার করতে হবে।

তাই সূরা কাহফকে শুধু জুমার তিলাওয়াত বানাবেন না। এটাকে বানান— আপনার চিন্তার সূরা, আপনার সংশোধনের সূরা, আপনার বাঁচার সূরা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সূরা কাহফ বুঝে পড়ার, এর শিক্ষাগুলো জীবনে ধারণ করার, এবং এর নূর দিয়ে জীবন আলোকিত করার তাওফিক দিন। আমিন।

**সূরাতুল কাহাফ এর মধ্যে যা রয়েছে**
সূরা কাহাফ পবিত্র কুরআনের ১৮তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে দাজ্জালের ফিতনাসহ পার্থিব জীবনের বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে বাঁচার জন্য ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই সূরায় বর্ণিত প্রধান চারটি ঘটনা হলো: আসহাবে কাহফ (ঈমানের পরীক্ষা), দুই বাগানের মালিক (ধনের পরীক্ষা), মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ভ্রমণ (জ্ঞানের পরীক্ষা) এবং যুলকারনাইন (শক্তির পরীক্ষা)।
১. আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের ঘটনা (ঈমানের পরীক্ষা)
ঘটনা: ঈমান রক্ষার উদ্দেশ্যে একদল যুবক অত্যাচারী রাজার হাত থেকে বাঁচতে একটি গুহায় আশ্রয় নেন। আল্লাহ তাদের দীর্ঘ ৩০০ বছরের বেশি সময় (চন্দ্রবর্ষ অনুযায়ী ৩০৯ বছর) ঘুম পাড়িয়ে রাখেন এবং পরবর্তীতে জাগ্রত করেন।
শিক্ষা: প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ঈমানের ওপর অটল থাকা এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করা।
২. দুই বাগানের মালিকের ঘটনা (ধনের পরীক্ষা)
ঘটনা: জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া অঢেল সম্পদ ও দুটি সুন্দর বাগান পেয়ে অহংকারী হয়ে ওঠে এবং পরকালকে অস্বীকার করে। তার সঙ্গী তাকে সতর্ক করলেও সে শোনেনি, ফলে আল্লাহ তার বাগান ধ্বংস করে দেন।
শিক্ষা: সম্পদ আল্লাহর নেয়ামত, যা নিয়ে অহংকার করা উচিত নয়। পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ী ধনের চেয়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী সম্পদ উত্তম।
৩. মূসা (আ.) ও খিজির (আ.)-এর ঘটনা (জ্ঞানের পরীক্ষা)
ঘটনা: হযরত মূসা (আ.) যখন জানতে চাইলেন তার চেয়ে বড় জ্ঞানী কেউ আছে কি না, আল্লাহ তাকে খিজির (আ.)-এর নিকট পাঠান। খিজির (আ.)-এর করা কিছু আপাতদৃষ্টিতে অন্যায় কাজের (নৌকা ভাঙা, বালক হত্যা, দেওয়াল ঠিক করা) রহস্য পরে মূসা (আ.)-কে ব্যাখ্যা করে বোঝানো হয়।
শিক্ষা: মানুষের জ্ঞান সীমিত, আর আল্লাহর জ্ঞান অসীম। আপাতদৃষ্টিতে খারাপ কিছুতেও আল্লাহর কল্যাণ নিহিত থাকতে পারে।
৪. যুলকারনাইনের ঘটনা (শক্তির পরীক্ষা)
ঘটনা: ন্যায়পরায়ণ বাদশা যুলকারনাইন প্রাচীর বা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ইয়াজুজ-মাজুজ জাতিকে অবরুদ্ধ করে দুনিয়াবাসীকে রক্ষা করেছিলেন।
শিক্ষা: ক্ষমতা ও শক্তিকে আল্লাহর পথে এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত, অহংকারে নয়।
হাদিসের আলোকে ফজিলত:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য দুই জুমাবারের মাঝে নূর বা জ্যোতি প্রজ্বলিত হবে (সহীহ হাদিস)। এছাড়াও, এই সূরার প্রথম ১০ আয়াত মুখস্থ করলে দাজ্জালের ফিতনা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
পবিত্র কোরআনের ১৮তম সুরা আল কাহাফ। কাহাফ মানে গুহা। এ সুরার আয়াত সংখ্যা ১১০।

জুমাবারে সুরা আল কাহাফ পড়তে বলা হয়েছে। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) রাসুল (সা.)–এর পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর বর্ষিত হবে।’

সুরা কাহাফে চারটি ঘটনা, চারটি বক্তব্য ও উপদেশ রয়েছে। সুরার ১ থেকে ৮ আয়াতে রয়েছে বক্তব্য। ৯ থেকে ২৬ আয়াতে আছে আসহাবে কাহাফের ঘটনা। ২৭ থেকে ৩১ আয়াতে আবার বক্তব্য এসেছে। ৩২ থেকে ৪৪ আয়াতে দুটি বাগানের মালিকের ঘটনা রয়েছে। এরপর আবার লম্বা বক্তব্য ও উপদেশ এসেছে ৪৫ থেকে ৫৯ আয়াতে।

এ সুরায় দুটি কাহিনি এসেছে ৬০ থেকে ১০১ আয়াতে। সে দুটি হলো মুসা (আ.) ও খিজির (আ.) ঘটনা এবং জুলকারনাইন সম্পর্কিত ঘটনা। আবার সুরা শেষ হয়েছে বক্তব্য ও উপদেশ দিয়ে।
সুরা কাহাফের ৯ থেকে ২৬ আয়াতে আছে আসহাবে কাহাফের ঘটনা। ২৭ থেকে ৩১ আয়াতে আবার বক্তব্য এসেছে।

গুহাবাসীর চমকপ্রদ আখ্যান

অবিশ্বাসে ভরা সমাজে কয়েকজন যুবক আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছিলেন। বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাঁরা একটি গুহায় গিয়ে লুকালেন। সেখানে আল্লাহ তাঁদের সবাইকে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঘুম পাড়িয়ে রাখলেন।

ঘুম ভাঙার পর তাঁরা বুঝতেই পারেননি, তাঁদের ঘুমের মধ্যে আল্লাহ অনেকগুলো বছর অতিবাহিত করে ফেলেছেন। এ অবস্থায় তাঁদের একজন খাবার কিনতে শহরে গেলেন। তিনি ভেবেছিলেন, লোকজন তাঁকে চিনে ফেলবে এবং তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করবে। কিন্তু অবাক হয়ে দেখলেন, কেউ তাঁকে চেনে না। খাবার কিনে টাকা পরিশোধ করার সময় পুরোনো মুদ্রা দেখে শহরের লোকেরা হতবাক হয়ে গেল।

এ ঘটনার তাৎপর্য একাধিক। তবে আল্লাহ কীভাবে তাঁর ওপর সমর্পিত বান্দাদের কী করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন, তা দেখানো হয়েছে।
বাগানের মালিকের সম্পদের ঘটনা
এক ব্যক্তির সুন্দর একটি বাগান ছিল। কিন্তু লোকটি ছিলেন অহংকারী। পবিত্র কোরআন আছে, ‘আর তার প্রচুর ধনসম্পদ ছিল, তারপর কথায় কথায় সে তার বন্ধুকে বলল, ধনসম্পদে আমি তোমার থেকে বড় এবং জনবলেও তোমার চেয়ে শক্তিশালী’।

অহংকারী হয়ে আল্লাহর নিয়ামতের কথা ভুলে যাওয়ায় আল্লাহ তাঁর বাগান ধ্বংস করে দেন।

ঘটনাটি তাদের জন্য, যারা নিজের অহংবোধে আল্লাহর নিয়ামতের কথা ভুলে যায়। তাঁরা ভুলে যায় যে আল্লাহ চাইলেই মুহূর্তে তাদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিতে পারেন।
একসঙ্গে হজরত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.)
হজরত মুসা (আ.) খিজির (আ.)–এর সঙ্গে সফর করার সময় তিনটি ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রথম ঘটনায় খিজির (আ.) একটি নৌকা ছিদ্র করে ফেলেন, অথচ নৌকার মালিক বিনা ভাড়ায় তাঁকে নৌকায় উঠিয়েছিলেন। দ্বিতীয় ঘটনায় তিনি একটি নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করেন। তৃতীয় ঘটনায় তিনি একটি দেয়াল উঠিয়ে দেন।

ঘটনা তিনটি দেখে হজরত মুসা (আ.) চুপ থাকতে পারলেন না। তখন খিজির (আ.) ঘটনাগুলোর তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দেন। হজরত মুসা (আ.) বুঝতে পারলেন আল্লাহ কীভাবে কাউকে কাউকে অন্তর্দৃষ্টি দেন, যাতে তাঁরা সুদূরপ্রসারী অর্থে এমন কাজ করতে পারেন যাকে আপাতদৃষ্টিতে বোধগম্য বলে মনে হয় না।

সব জ্ঞানের অধিকারী কেবলই আল্লাহ। তাই জ্ঞান নিয়ে অহংকার করা অনুচিত।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর এ-দেওয়ালটি ছিল শহরের দুই এতিমের। তার নিচে ছিল গুপ্তধন। আর ওদের পিতা ছিল এক সৎকর্মপরায়ণ লোক। সে জন্য তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলেন যে ওরা যেন সাবালক হয় ও তারপর ওরা ওদের ধন উদ্ধার করে। আমি নিজ থেকে কিছু করিনি। তুমি যে-বিষয়ে ধৈর্য্য রাখতে পারনি এটাই তার ব্যাখ্যা।’
জুলকারনাইন ছিলেন ন্যায়পরায়ণ ও সৎ বাদশাহ। তিনি পশ্চিম থেকে পূর্ব পর্যন্ত সফর করেছিলেন। দুই পর্বতের মাঝখানে তিনি এক জনগোষ্ঠীকে খুঁজে পান। তারা তাঁর কাছে ইয়াজুজ ও মাজুজের হাত থেকে রক্ষা পেতে একটি দেয়াল নির্মাণের আবেদন জানাল। জুলকারনাইন কাজটি করে দিতে সম্মত হলেন। তিনি তাঁর কাজ নিয়ে গর্ব দেখাননি।

দেয়াল তৈরির পর তাঁর দেওয়া ভাষণ পবিত্র কোরআনে বর্ণনা করা হয়েছে, ‘এ আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি ওকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন, আর আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।’

ওপরের চারটি ঘটনা থেকে চার রকম পরীক্ষার কথা জানা যায়। আসহাবে কাহাফের ঘটনা থেকে ধর্মবোধের পরীক্ষা, দুটি বাগানের মালিকের ঘটনা থেকে সম্পদের ওপর পরীক্ষা, হজরত মুসা (আ.) ও খিজির (আ.) জ্ঞান সম্পর্কে থেকে এবং জুলকারনাইনের ঘটনা থেকে ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা।
চারটি দাওয়াত
চারটি ঘটনায় দাওয়াতের কথা রয়েছে। ১৪ নম্বর আয়াতে যুবকেরা বাদশাহকে দাওয়াত দিয়েছে (আসহাবে কাহাফের ঘটনা)। ৩৭ নম্বর আয়াতে একজন সঙ্গী আরেক সঙ্গীকে দাওয়াত দিয়েছে (দুটি বাগানের মালিকের ঘটনা)। ৭০ নম্বর আয়াতে একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে দাওয়াত দিয়েছে (হজরত মুসা (আ.) এবং জ্ঞানী ব্যক্তির ঘটনা)। ৮৭-৮৮ আয়াতে একজন শাসক তার প্রজাদের দাওয়াত দিয়েছে (জুলকারনাইনের ঘটনা)।
রেফারেন্স:
— সূরা কাহফ: ১–১১০
— সহীহ মুসলিম: ৮০৯
— সুনানে বাইহাকি আল-কুবরা: ৫৯০৬

04/05/2026

বান্দার প্রতি আল্লাহর একটি দয়া হলো– তিনি তাকে এমন কিছু পরীক্ষায় ফেলেন যা সে না পারে কাউকে বলতে, আর না পারে কাউকে নিজের কষ্টটা বোঝাতে। আল্লাহ এটা এই জন্যই করেন যাতে বান্দার মন অন্য সবার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে কেবল আল্লাহর দিকেই নিবিষ্ট হয় এবং সে যেন নিজের সবটুকু দুঃখ নিয়ে একমাত্র তাঁর কাছেই হাজির হয়।

— ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.)
[সূত্র : আল-ওয়াবিলুস সায়্যিব, ৩৫]

28/04/2026

গায়রে মাহরামের উপস্থিতি অন্তরে আনন্দের কারণ হলে কেয়ামতের দিন এ ব্যক্তি অত্যন্ত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও পেরেশান থাকবে।(এ পাপে আসক্ত ব্যক্তি দুনিয়াতেও দুশ্চিন্তার নেয়ামতে ডুবে থাকবে)

আর গায়রে মাহরামের দিকে মোহাব্বতের দৃষ্টিতে তাকালে কেয়ামতের দিন চেহারাকে বিশেষভাবে দগ্ধ করা হবে। হাদিসে এসেছে, জাহান্নামিরা তো দগ্ধ হবেই কিন্তু এ ব্যক্তির চেহারাকে বিশেষভাবে দগ্ধ করা হবে।

আজকাল কিছু লোক এমন আছে যে, আধুনিক পোশাক পরিহিত মেয়েদের দেখে মুখে লা হাওলা বলতে থাকে, নিজের বুযুর্গী দেখানোর জন্য মানুষকে বলে, কি যামানা এসে গেলো! দ্বীন ইমান নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর।

এমন লোকদের প্রতি অনুরোধ, যদি লা হাওলা পড়তেই হয় তাহলে নারীদের দিকে না তাকিয়ে চোখ সংযত করে পড়ুন। তবেই এর কার্যকারিতা বোঝা যাবে।
কুদৃষ্টিতে অভ্যস্ত থাকা আবার মুখে লা হাওলা বলা নিজের সাথেই চরম ধোকাবাজির নামান্তর।

✍️
আর এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা লোকলজ্জাহীন হয়ে পরে ফলে আশপাশের মানুষ তার কুদৃষ্টির ব্যপারে অবগত হওয়ায় তার মান-মর্যাদা নষ্ট হচ্ছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপহীন হয়। কোনো আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি এ ব্যপারে বেপরোয়া হতেই পারেনা।
সাথে এরা চরম কুপ্রবৃত্তির অনুসারী হয় তাই সুস্পষ্ট ইলম থাকা স্বত্বেও স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা তাদের পথভ্রষ্ট করে দেন।
وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَىٰ عِلْمٍ(সূরা জাসিয়াহ: আয়াত ২৩ দেখুন)

মনে রাখা উচিত আত্মার যেকোনো মন্দ চাহিদাকে আল্লাহর ভয়ে, মোহাব্বতে, বিরাট প্রতিদানের আশায় কয়েকবার প্রতিহত করলেই সে দূর্বল ও নিরাশ হয়ে পরে।
এভাবে একপর্যায়ে অন্তরে কখনোই আর গর্হিত, নিষিদ্ধ, গুনাহসমূহ উকিঁও দেয়না।

তাই নিজের নফসের প্রতি সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান জরুরি। যদি তা না করি তবে কোনো না কোনো অঘটন ও মারাত্মক পরিণতির সম্মুখীন কখন হবো টেরই পাবোনা।
আমরা আসলে আল্লাহর দেখানো পথে চলিনা, তারপর একটা যন্ত্রণাদায়ক পরিণতি ঘটলে নিজের সাফাই আর রোনাজারির অন্ত থাকেনা।

اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَنَا

19/04/2026

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” একটি মহান বাক্য, যার অর্থ—“পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।” ইসলামে প্রতিটি ভালো কাজের শুরুতে এই বাক্য বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি দোয়া নয়, বরং আল্লাহর প্রতি নির্ভরতা ও স্মরণের প্রকাশ।
🔹 কুরআনের আলোকে বিসমিল্লাহ
পবিত্র কুরআনের প্রায় প্রতিটি সূরার শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” রয়েছে (সূরা তাওবা ছাড়া)। এটি প্রমাণ করে যে, আল্লাহ নিজেই আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন—সব কাজ তাঁর নামে শুরু করতে।
🔹 হাদিসের আলোকে গুরুত্ব
Muhammad ﷺ বলেছেন:
“যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আল্লাহর নাম ছাড়া শুরু করা হয়, তা বরকতহীন থাকে।”
📚 (সুনান আবু দাউদ, মুসনাদ আহমাদ)
আরও তিনি বলেছেন:
“তোমরা খাওয়ার সময় বিসমিল্লাহ বলো।”
📚 (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
এছাড়া হাদিসে এসেছে, বিসমিল্লাহ বললে শয়তান মানুষের কাজে অংশ নিতে পারে না।
🔹 বিসমিল্লাহ বলার উপকারিতা
১. বরকত লাভ
বিসমিল্লাহ বললে কাজের মধ্যে আল্লাহর রহমত ও বরকত নেমে আসে। কাজ সহজ ও সফল হয়।
২. শয়তান থেকে রক্ষা
হাদিসে বলা হয়েছে, কেউ বিসমিল্লাহ বললে শয়তান দূরে সরে যায় এবং কোনো ক্ষতি করতে পারে না।
৩. ইবাদতের পূর্ণতা
ওজু, গোসল, নামাজ ইত্যাদি ইবাদতে বিসমিল্লাহ বললে তা অধিক সুন্দর ও পূর্ণ হয়।
৪. আল্লাহর স্মরণ
প্রতিটি কাজে আল্লাহর নাম নেওয়ার মাধ্যমে মানুষ সবসময় আল্লাহকে স্মরণ করে।
৫. নিরাপত্তা ও সুরক্ষা
ঘরে প্রবেশ, বের হওয়া, খাবার গ্রহণ—সব ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বললে নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
🔹 দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগ
একজন মুসলমানের উচিত প্রতিটি কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা। যেমন:
✔ খাওয়া-দাওয়া শুরুতে
✔ ঘরে ঢোকা ও বের হওয়ার সময়
✔ পড়াশোনা ও কাজ শুরুতে
✔ ওজু ও গোসলের আগে
✔ যানবাহনে ওঠার সময়
এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিসমিল্লাহ বলা একটি সুন্দর অভ্যাস।
🔹 শিক্ষা ও তাৎপর্য
বিসমিল্লাহ আমাদের শেখায়—
🔸 সবকিছু আল্লাহর ওপর নির্ভর করে
🔸 মানুষের উচিত অহংকার ত্যাগ করা
🔸 ছোট কাজও আল্লাহর স্মরণ দিয়ে বড় হয়ে যায়
🔸 আল্লাহর রহমত ছাড়া কিছুই সম্ভব নয়

বিসমিল্লাহ একটি ছোট বাক্য হলেও এর গুরুত্ব অনেক গভীর। এটি মানুষের জীবনে বরকত আনে, শয়তান থেকে রক্ষা করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের সহজ উপায়। তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত জীবনের প্রতিটি কাজের শুরুতে আন্তরিকতার সাথে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বলা।

19/04/2026

-বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম-
শুধু 'বিসমিল্লাহ' নিয় পড়াশুনা করতে গিয়ে কত কিছু জানলাম,
আল্লাহ্ আমার ইলমে বারাকা দিক।

Website

Address

Dhaka

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Farjana yeasmin posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Dhaka.