Fatema's Diary
success is in my veins��
শাড়ি যেন নারীর সৌন্দর্যের কোনো অলংকার নয়,
এ এক নীরব কবিতা—যার প্রতিটি ভাঁজে লুকিয়ে থাকে মায়া। 🌸
নারী যখন শাড়িতে জড়ায় নিজেকে,
সৌন্দর্য তখন শুধু চোখে ধরা দেয় না—
কোনো এক অচেনা অনুভূতির মতো এসে মন ছুঁয়ে যায়। 💙✨
হয়তো এ কারণেই শাড়ি কখনো পুরোনো হয় না,
সময়ের সাথে শুধু তার সৌন্দর্যের গল্পটা আরও গভীর হয়। 🤍
#শাড়ি #নারীর_সৌন্দর্য ゚
অধ্যায় — ১৪
সেদিন মেঘলার ভেতরটা যেন হাজারটা চিন্তায় ভারী হয়ে ছিল।
অনেক ভেবেচিন্তে সে নিজেকেই বলেছিল—
“একজন মানুষ যদি শুধু আমার সঙ্গে দুটো কথা বলার আশায় এতটা অস্থির হয়ে থাকে, তাহলে একবার কথা বললে ক্ষতিটা কী?”
মেঘলা জানত, তার মনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। কোনো লুকানো আকাঙ্ক্ষাও নেই। সে শুধু চেয়েছিল বিষয়টা পরিষ্কার করে দিতে।
অন্যদিকে আরিয়ানের যেন আনন্দের সীমাই নেই।
তার মনে হচ্ছিল, আজ বুঝি জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কারটা পেতে যাচ্ছে সে।
অবশেষে স্কুল ছুটল।
এক এক করে সবাই বাড়ির পথে চলে গেল। কিছুক্ষণ পর পুরো স্কুল প্রায় নিস্তব্ধ। নিচতলায় রয়ে গেল আরিয়ান আর রেদওয়ান। আর দোতলায় মেঘলা তখনও তনু সীমা আর নিরার
সঙ্গে ছিল।
মেঘলা সিঁড়ির কাছে এসে কিছুক্ষণ থেমে গেল।
একবার নিচে তাকাল।
আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে।
মুখে অদ্ভুত এক প্রশান্ত হাসি।
মেঘলার বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেমন যেন ধক করে উঠল।
সে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতে লাগল।
প্রতিটি ধাপে যেন তার মনে নতুন একটা প্রশ্ন—
“আমি কী বলতে যাচ্ছি?”
“ও কী বলবে?”
“আমি কি ঠিক করছি?”
অবশেষে সে আরিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।
আরিয়ান একমুখ হাসি নিয়ে মেঘলার দিকে তাকাল।
কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই মেঘলার মুখের হাসিটা মিলিয়ে গেল।
মনে হলো,এতক্ষন ধরে যে কথাগুলো সে বলতে চেয়েছিল, সেগুলো হঠাৎ করেই অর্থহীন হয়ে গেছে।
তার ভেতরে একটা অদ্ভুত রাগ জমে উঠল।
সে কঠিন গলায় বলল,
— কেন ডেকেছেন?
আরিয়ান যেন প্রস্তুত ছিল অন্যরকম কোনো কথার জন্য।
সে ধীরে বলল,
— মেঘলা, আমি শুধু—
— শুধু কী?
মেঘলা আর থামল না।
এক নিঃশ্বাসে বলে গেল,
— আমি কি কখনো আপনাকে এমন কোনো কথা বলেছি , যাতে আপনি এতকিছু ভাবতে পারেন। আমি আপনাকে কোনো আশ্বাস দিইনি। তাহলে কেন বারবার আমার পেছনে আসছেন? কেন আমাকে এমন একটা পরিস্থিতির মধ্যে ফেলছেন, যেখানে আমাকে প্রতিদিন ভাবতে হচ্ছে আমি কী করব?
আরিয়ান চুপ।
মেঘলার কণ্ঠ আরও কঠিন হয়ে উঠল।
— আমি আপনাকে পছন্দ করি কি না, সেটা আমার ব্যাপার। কিন্তু আপনি যদি আমার সিদ্ধান্তকে সম্মানই না করেন, তাহলে আপনার এই অনুভূতির মূল্য কোথায়?
কথাগুলো একটার পর একটা বেরিয়ে আসছিল।
কিছু কথা হয়তো প্রয়োজনের চেয়েও বেশি কঠিন হয়ে গেল।
শেষে মেঘলা শুধু বলল,
— আমাকে আর এভাবে বিরক্ত করবেন না।
তারপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না।
দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গেল সে।
তনু, সীমা আর রেদওয়ান—তিনজনই হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
আরিয়ান সেখানেই দাঁড়িয়ে রইল।
মুখের সেই হাসিটা আর নেই।
সেদিন কী হয়েছিল, মেঘলা জানত না।
সে শুধু নিজের ব্যাগটা নিয়ে,কোন দিকে না তাকিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছিল।
কিন্তু পরদিন স্কুলে গিয়ে বুঝল—ঘটনাটা সেখানেই শেষ হয়নি।
আরিয়ানকে দেখে মনে হচ্ছিল, গত রাতটা তার জন্য খুব কঠিন ছিল।কারণ তার পুরো একটা হাত ব্যান্ডেজ করা ছিল।
শুধু সেটাই নয়—ইদানীং পড়াশোনাতেও তার মন ছিল না। যে ছেলে একসময় ভালো ফলাফলের জন্য পরিচিত ছিল, তার ফলাফলও এবার খারাপ হয়েছে।
বিষয়টা নিয়ে বাড়িতেও অশান্তি হয়েছিল।
সেদিন আরিয়ানের মা সরাসরি স্কুলে এসে প্রিন্সিপালের কাছে অভিযোগ করলেন।
তার অভিযোগের মূল কথাই ছিল—
মেঘলার জন্য নাকি তার ছেলে পড়াশোনা থেকে সরে যাচ্ছে।
মেঘলার নামটা শুনে তার বুক কেঁপে উঠেছিল।
কিন্তু ভাগ্য ভালো, ফাহাদ স্যার (প্রাইভেট টিচার)সেদিন স্কুলে ছিলেন।
তিনি শান্তভাবে পুরো বিষয়টা শুনলেন এবং প্রিন্সিপাল স্যারের সামনে পরিষ্কার করে বললেন—
মেঘলা কাউকে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি, কাউকে প্ররোচিত করেনি। বরং সে নিজের সীমা পরিষ্কার করেই কথা বলেছে।
অবশেষে বিষয়টা সেখানেই মিটে গেল।
মেঘলা রক্ষা পেল ঠিকই, কিন্তু তার মনটা যেন কোথাও আটকে রইল।
টিফিনের সময় একবার বারান্দা থেকে নিচে তাকিয়ে সে দেখল, রেদওয়ান আরিয়ানকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছে।
পরে জানতে পারল, আরিয়ানের হাতের চোটের জন্য তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরিয়ান নাকি নিজের হাতে অনেক বার আঘাত করেছে।
মেঘলার বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।
আরিয়ানের জন্য নয়—
পুরো পরিস্থিতিটার জন্য।
“আমি তো শুধু না বলেছিলাম… তাহলে সবকিছু এত জটিল হয়ে গেল কেন?”
সেদিন থেকে যেন সবাই মেঘলার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে ফেলল।
কেউ সরাসরি দোষ দিত না, কিন্তু চোখের ভাষায় যেন একটা প্রশ্ন থাকত।
একসময় তনু এসে শুধু বলেছিল,
— মেঘলা, তুই খুশি তো? শান্তি পেয়েছিস অনেক তাই না?
প্রশ্নটা শুনে মেঘলা মাথা নিচু করে ফেলেছিল।
সে উত্তর দিতে পারেনি।
কয়েকটা দিন এভাবেই কেটে গেল।
ধীরে ধীরে আরিয়ানও স্বাভাবিক হয়ে উঠল।
হাতের চোটও অনেকটা ভালো হয়ে গেল।
কিন্তু একটা জিনিস বদলাল না—
মেঘলার প্রতি তার জেদ।
এরপর স্কুলে একটা ছোট্ট অনুষ্ঠান হলো।
সেই অনুষ্ঠানের দিন রেদওয়ান আর বাকিরা আবার মেঘলার সঙ্গে কথা বলা শুরু করল।
ধীরে ধীরে আগের মতো হাসি, গল্প, খুনসুটি ফিরে এল।
আর ঠিক সেদিনই প্রথমবার আরিয়ানের পক্ষ থেকে মেঘলার হাতে এলো একটা ছোট প্যাকেট।
মেঘলা কিছুটা অবাক হয়েই প্যাকেটটা খুলল।
ভেতরে ছিল—
তার বিভিন্ন সময়ের কিছু ছবি।
ক্লাসে বসে থাকা, বন্ধুদের সঙ্গে হাসা, স্কুলের অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে থাকা—মেঘলার অজান্তে তোলা নানা মুহূর্ত।
রাগ হওয়ার কথা ছিল।
তবু ছবিগুলো একটার পর একটা দেখতে দেখতে মেঘলার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই হালকা হাসি ফুটে উঠল।
সঙ্গে ছোট্ট একটা কাগজ।
সেখানে লেখা—
“তোমার মতো করে তোমাকে আমি হয়তো কখনোই আঁকতে পারব না।
তোমার মনের অজান্তে কিছু সুন্দর মুহূর্ত আমার কাছে জমে গেছে।
তোমার অনুমতি ছাড়া কিছু চাই না—
শুধু একটা ছবি কি আমায় দেওয়া যায়?
বিশ্বাস করো, যত্ন করেই রেখে দেব।”
মেঘলা কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ছবিগুলো গুছিয়ে প্যাকেটটা বন্ধ করে ফেলল।
সে জানত না এই মানুষটাকে কীভাবে বোঝাবে।
তবু অদ্ভুতভাবে আবার সবার সঙ্গে স্বাভাবিক হয়ে গেল সে।
কারণ মেঘলা এমনই ছিল—
তার সঙ্গে কেউ বেশিদিন অভিমান করে থাকতেই পারত না।
কিন্তু গল্পটা যেন মেঘলাকে শান্তিতে থাকতে দিতে চাইছিল না।
একদিন স্কুল ছুটির পর মেঘলা, তনু আর সীমা একসঙ্গে বাড়ি ফিরছিল।
হঠাৎ রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিয়ান আর রেদওয়ানকে দেখা গেল।
তিনজনই থেমে গেল।
রেদওয়ান একটু দূরে সরে দাঁড়াল।
আরিয়ান এবার নিজেই মেঘলার সামনে এসে বলল,
— প্লিজ, এমন করো না। একটু কথা বললে কি সত্যিই কোনো ক্ষতি হয়?
মেঘলা কোনো উত্তর দিল না।
শুধু চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।
আরিয়ান আবার বলল,
— আমি তোমাকে কোনো কিছুর জন্য বাধ্য করছি না। শুধু… আমার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলো।
মেঘলা তখনও নিশ্চুপ।
তনু আর সীমা একে অন্যের মুখের দিকে তাকাল।
রেদওয়ানও বুঝতে পারছিল না আরিয়ান এবার কী করতে যাচ্ছে।
কিন্তু কেউই জানত না—
এই নীরবতার আড়ালে আরিয়ান ইতিমধ্যেই এমন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, যার কথা মেঘলা তো দূরের কথা, রেদওয়ান, তনু, সীমা—কেউ কল্পনাও করেনি।
আরিয়ান ধীরে ধীরে মেঘলার সামনে এসে দাঁড়াল।
তার চোখে এবার আর আগের সেই ছেলেমানুষি হাসি নেই।
মেঘলা প্রথমবার সত্যিই অস্বস্তি অনুভব করল।
কারণ সে জানত না—আরিয়ান এবার ঠিক কী করতে চলেছে।
চলবে…
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায়
#বাংলাগল্প
#গল্পেরপাতায়
11/09/2026
পুরো পৃথিবী যখন ভবিষ্যতের দিকে দৌড়াচ্ছে, আমরা তখন ইতিহাস থেকে বের হওয়ার পথই খুঁজে পাচ্ছি না! 😂
কিছুদিন আগে ময়লা রান্নাঘর নিয়ে Facebook কাঁপলো, এবার দেখি বাপ-দাদার স্টাইল নিয়ে সবাই টাইম ট্রাভেলে ব্যস্ত! 🤭
আহা, আমার সোনার বাংলাদেশ! 🇧🇩
যাইহোক, অনেক মজা করলাম—সবার Performance ছিল একেবারে Mind-blowing! 👏😄
চলো, সামনে এবার কোন ট্রেন্ডের ট্রেন অপেক্ষা করছে দেখি…
সবাই রেডি তো? 🚂😂
#ফেসবুক_ট্রেন্ড #ট্রেন্ডের_দৌড় #সোনার_বাংলাদেশ ゚viralシ ゚
অধ্যায় — ১৩
সময় যেন ধীরে ধীরে মেঘলার কাছে স্কুলের দিনগুলোকে একটু নিরানন্দ করে তুলছিল।
একসময় যে স্কুল ছুটির ঘণ্টা শুনলেই তার মনে আনন্দের ঢেউ উঠত, এখন সেই ঘণ্টাটাও কেমন যেন ভারী লাগত। কারণ গেটের বাইরে পা রাখলেই কোথাও না কোথাও আরিয়ানকে দেখা যেত।
কখনো গেটের পাশে দাঁড়িয়ে আছে, কখনো রাস্তার একটু দূরে। মেঘলা প্রাইভেট পড়তে গেলেও আশেপাশে তার উপস্থিতি টের পেত। কখনো দূর থেকে তাকিয়ে থাকা, কখনো কোনো একটা অজুহাত বানিয়ে সামনে এসে পড়া—সবকিছুই যেন ধীরে ধীরে আরিয়ানের অভ্যাস হয়ে উঠেছিল।
আর মেঘলার কাছে?
সেটা হয়ে উঠেছিল ভীষণ বিরক্তিকর।
আরিয়ানের সেই আগের ভদ্র, মিষ্টি দুষ্টুমিগুলো কোথায় যেন হারিয়ে গেল। তার জায়গায় জন্ম নিল একরোখা জেদ।
কিন্তু মেঘলাও নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুল নড়ল না।
সে জানত, তার বাবা-মা তাকে বিশ্বাস করে। সেই বিশ্বাস কোনোভাবেই নষ্ট করতে পারবে না।
আর একটা ভয়ও ছিল তার।
মেঘলা তার মাকে ভীষণ ভয় পেত। সবকিছু মাকে খুলে বললে মা হয়তো পুরো পরিস্থিতি না বুঝেই উল্টো তারই বিচার করে বসবেন—এই ভয়েই এতদিন নিজের কথাগুলো বুকের মধ্যে আটকে রেখেছিল সে।
তবে তার প্রাইভেট শিক্ষক বিষয়টা অনেক আগেই খেয়াল করেছিলেন।
আরিয়ান প্রায়ই দূরে দাঁড়িয়ে থাকত। কখনো আবার কোনো একটা অজুহাত দেখিয়ে স্যারের বাসাতেও চলে আসত।
স্যারের সন্দেহ হচ্ছিল ঠিকই, কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কিছু বলছিলেন না।
শেষ পর্যন্ত একদিন মেঘলা নিজেই আর চুপ থাকতে পারল না।
প্রাইভেট পড়া শেষ হওয়ার পর এতদিনের জমে থাকা কথাগুলো একসঙ্গে খুলে বলল স্যারকে।
স্যার মন দিয়ে সব শুনলেন। তারপর কিছুক্ষণ চুপ থেকে শান্ত গলায় বললেন,
— “মেঘলা, জীবনে অনেক স্রোত আসবে। কিন্তু সব স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে হয় না। নিজের লক্ষ্যটা যদি পরিষ্কার থাকে, তাহলে অন্য কারও জেদের কারণে নিজের পথ বদলানোর দরকার নেই।”
মেঘলা চুপচাপ শুনছিল।
স্যার আবার বললেন,
— “তুমি পড়াশোনা করতে চাও, নিজের সিদ্ধান্তে অটুট থাকতে চাও—তাহলে সেটাই করো। শেষ পর্যন্ত আমি তোমার পাশে থাকব। তোমার দিকে কোনো বিপদের আঁচ আসতে দেব না।"
কথাগুলো মেঘলার বুকের ভেতর যেন একটু সাহস ঢেলে দিল।
তারপর স্যার হঠাৎ হাসলেন।
— “আর এই যে মেয়ে, আরেকটা কথা মনে রেখো। এখন পড়াশোনা বাদ দিয়ে যদি প্রেমের স্রোতে ভেসে যাও, তাহলে কিন্তু তোমার স্যার নিজেই দায়িত্ব নিয়ে তোমাকে কোনো রিকশাওয়ালার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেবে!”
মেঘলার গম্ভীর মুখটা মুহূর্তেই বদলে গেল।
— “স্যার!”
স্যারও হেসে বললেন,
— “ভয় পেয়ো না। এটা শাস্তি না, তোমাকে পড়ার টেবিলে ফেরানোর আমার বিশেষ অস্ত্র!”
মেঘলাও সেদিন অনেকদিন পর একটু হেসেছিল।
সবচেয়ে বড় কথা, সেদিন তার মনে হয়েছিল—
অন্তত একজন মানুষ তো আছে, যার কাছে ভয় না পেয়ে নিজের কথাগুলো বলা যায়।
প্রাইভেট শেষ করে সেদিন তনুর বাসায় যাওয়ার কথা ছিল মেঘলার।
নীরা আর সীমারও ইনভাইট ছিল।
মেঘলা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা তাকে প্রায় জোর করেই নিয়ে গেল তনুদের বাসায়।
ঘরে ঢুকেই মেঘলা অবাক!
হাসি, গল্প, চা-নাশতা—সবকিছুর আয়োজন।
কিন্তু মেঘলার মনে হচ্ছিল, এত আয়োজনের পেছনে নিশ্চয়ই কোনো গোপন ষড়যন্ত্র আছে! 😑
কিছুক্ষণ পর তনু হঠাৎ মেঘলার সামনে এসে বসে পড়ল।
চোখের কোণে পানি চিকচিক করছে।
— “মেঘলা প্লিজ... আরিয়ান ভাইয়াকে এভাবে কষ্ট দিস না। এত বছরেও আমি ওনাকে কারও জন্য এতটা মরিয়া হতে দেখিনি।”
মেঘলা কিছু বলার আগেই তনু তার হাত ধরে কেঁদে ফেলল।
নীরা আর সীমাও এবার মেঘলাকে বোঝাতে শুরু করল।
— “অন্তত একবার ভালো করে কথা বল।”
— “সবকিছুর উত্তর এখনই দিতে হবে না।”
— “বন্ধুত্ব তো রাখাই যায়, তাই না?”
মেঘলা অনেকক্ষণ চুপ করে রইল।
শেষে ধীরে ধীরে বলল,
— “ঠিক আছে। তোদের আরিয়ান যদি আমাকে এতটাই পছন্দ করে, তাহলে ওনাকে একটা কথা বলবি।”
ঘরের সবাই একসঙ্গে মেঘলার দিকে তাকাল।
মেঘলা বলল,
— “আগে উনাকে ভালো করে পড়াশোনা করতে বল। আমিও আমার স্কুল আর কলেজ শেষ করব। তারপর যদি আমরা দুজনেই ভার্সিটিতে যেতে পারি, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিণতভাবে ভাবতে পারি... তখন আমি ওনার প্রস্তাবটা ভেবে দেখব।
তখনও যদি ওনার অনুভূতি একই থাকে, তাহলে আমি আর না বলব না।”
ঘরের মধ্যে মুহূর্তেই নীরবতা নেমে এলো।
তারপর তনু চোখ মুছে হেসে বলল,
— “এই কথাটা তোকে নিজেকেই ওনাকে বলতে হবে!”
নীরা সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— “হ্যাঁ! অন্তত বন্ধুত্বটা রাখ। কথা বললে ক্ষতি কী?”
মেঘলা এবার একটু বিরক্ত হয়ে বলল,
— “একটা ছেলে আর একটা মেয়ের মধ্যে কখনো বন্ধুত্ব হয় নাকি?”
তিনজন একে অপরের মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেলল।
মেঘলা তখনও বুঝতে পারছিল না, কেন সবাই তাকে আরিয়ানের সঙ্গে কথা বলানোর জন্য এত মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ঠিক তখনই নীরা বলল,
— “ভেবেছিলাম তোকে একটা জিনিস দেখাব না। কিন্তু না দেখিয়ে আর পারলাম না।”
সে ব্যাগ থেকে একটা ছোট্ট রঙিন ডায়েরি বের করল।
ডায়েরিটা তালাবদ্ধ ছিল।
মেঘলার চোখ কপালে!
— “এটা আবার কী?”
নীরা ডায়েরিটা খুলে দিল।
প্রথম পাতার মাঝখানে সুন্দর করে লেখা—
“যে নামটা নীরবে আসে,
সে নামটাই মনে ভাসে।
দূরত্ব যতই থাকুক মাঝে,
কিছু নাম থেকে যায় হৃদয়েরই কাছে।
তুমি আমার জীবনের প্রথম সেই নাম—
মেঘলা...”
মেঘলা থমকে গেল।
পরের পাতায় একটা গান।
গানের প্রতিটি লাইন যেন মেঘলাকে উদ্দেশ্য করে লেখা।
তার পরের পাতায় কবিতা—মেঘলার হাসি, কথা বলার ভঙ্গি, চুপ করে থাকার অভ্যাস—সবকিছুরই অদ্ভুত সুন্দর বর্ণনা।
আর ডায়েরির বাকি পাতাগুলো?
কোথাও মেঘলার নাম।
কোথাও তার স্বভাব নিয়ে লেখা কয়েকটি লাইন।
কোথাও স্কুলের কোনো ছোট্ট ঘটনা।
কোথাও মেঘলাকে প্রথম দেখার কথা।
কোথাও তার প্রথম হাসির স্মৃতি।
সবকিছু এমনভাবে লেখা, যেন আরিয়ান মেঘলার প্রতিটি ছোট্ট মুহূর্ত নিজের মনে জমিয়ে রেখেছে।
আর সবচেয়ে অবাক করার বিষয়—
সব লেখা হয়েছে আরিয়ানের রক্তে ।
প্রতিটি পাতায় যেন আরিয়ানের একরোখা অনুভূতির ছাপ স্পষ্ট।
মেঘলা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— “এই ডায়েরিটা তোর কাছে কীভাবে?”
নীরা একটু ইতস্তত করে বলল,
— “আরিয়ান ভাই আমাকে রাখতে দিয়েছিল। বলেছিল, ওর মা যদি বাড়িতে দেখে ফেলে তাহলে ঝামেলা হবে। তাই কিছুদিনের জন্য আমার কাছে রেখেছিল।”
তারপর মেঘলার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— “তোকে না দেখিয়ে আর পারলাম না। তুই অন্তত বুঝতে পারবি, ও তোকে নিয়ে কতটা সিরিয়াস।”
মেঘলার ভেতরটা হঠাৎ রাগে জ্বলে উঠল।
এতদিন সে আরিয়ানের জেদকে শুধু বিরক্তিকর পাগলামি ভেবেছিল।
কিন্তু আজ এই ডায়েরি হাতে নিয়ে সে বুঝল—আরিয়ানের অনুভূতি হয়তো গভীর, কিন্তু মেঘলার নিজের সীমাটাও ততটাই স্পষ্ট।
সে ডায়েরিটা বন্ধ করে শান্ত গলায় বলল,
— “এসব দিয়ে কাউকে ভালোবাসা বোঝানো যায় না। ভালোবাসা যদি সত্যিই হয়, তাহলে আমার সিদ্ধান্তকেও সম্মান করতে হবে।”
কথাটা শুনে সবাই চুপ হয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর মেঘলা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— “ঠিক আছে। কাল স্কুলে আমি আরিয়ান ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলব।”
মুহূর্তেই যেন ঘরের পরিবেশ বদলে গেল।
তনু খুশিতে বলল,
— “এই তো! এবার শুধু ওনাকে বুঝিয়ে দিস, এত পাগলামি না করে নিজের পড়াশোনায় মন দিতে হবে।”
নীরা বলল,
— “আর তুইও অন্তত একবার মন খুলে কথা বলবি।”
মেঘলা মাথা নাড়ল।
কিন্তু ভেতরে ভেতরে তার বুক ধুকপুক করছিল।
কারণ এই প্রথম—
মেঘলা আরিয়ানের সঙ্গে সামনাসামনি কথা বলতে রাজি হয়েছে।
পরের দিন স্কুল ছুটির পর তাদের কথা বলার সিদ্ধান্ত হলো।
কিন্তু সেই কথোপকথনে কী অপেক্ষা করছে?
মেঘলা কি আরিয়ানের এই একরোখা জেদের শেষ করতে পারবে?
নাকি সেই কথার পর তাদের সম্পর্কটাই অন্য কোনো মোড় নেবে?
আচ্ছা, আপনারা কী ভাবছেন? 😏
গল্পটা একটু বড় হয়ে গেল, কিন্তু এখন তো আসল কথাটাই বাকি!
জানতে চান, স্কুল ছুটির পর মেঘলা আরিয়ানের সঙ্গে কী কথা বলেছিল?
তাহলে চুপচাপ পড়ে চলে যাবেন না—
কমেন্টে জানিয়ে দিন। ❤️
কারণ মেঘলা আরিয়ানের সেই প্রথম মুখোমুখি কথোপকথন লুকিয়ে আছে পরের অধ্যায়ে... 👀🌙
এই পর্যন্তই।
চলবে...
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প #গল্পেরপাতায় ゚
ছবিটা বদলেছে, সময়টা বদলেছে, বদলে গেছে জীবনের কত গল্প…
তবুও কোথাও একটা ছোট্ট আমি আজও রয়ে গেছে এই আমির ভেতর। 🥹🤍
শৈশব থেকে আজ—কতটা বদলেছি, কতটা পথ পেরিয়েছি, তারই এক নীরব গল্প। 🌸✨
#শৈশব #সময়ের_গল্প #আমার_গল্প ゚
অধ্যায় ১২
এভাবেই ধীরে ধীরে মেঘলার স্কুলজীবন নিজের ছন্দ খুঁজে নিতে লাগল। 📚🌿
কখনো ক্লাসের ফাঁকে চাপা হাসি, কখনো বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট কোনো দুষ্টুমি, আবার কখনো টিফিনের সময় মাঠের এক কোণে বসে মুড়ির ঠোঙ্গা ভাগাভাগি করে খাওয়া—সব মিলিয়ে দিনগুলো যেন অজান্তেই রঙিন হয়ে উঠছিল।
তবে এই রঙিন দিনের আকাশে একটুখানি অস্বস্তির মেঘ হয়ে রয়ে গেল একজনই—আরিয়ান।
দিন যত যাচ্ছিল, ছেলেটার পাগলামিও যেন ততই বাড়ছিল। বিশেষ করে টিফিনের সময়টা ছিল তার প্রিয় সময়। কারণ এই সময়টুকুতেই মেঘলাকে একটু কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেত সে।
মেঘলা মাঠে গেলেই দূরে কোথাও আরিয়ানকে দেখা যেত।
ঝালমুড়ির ঠোঙ্গা হাতে নিলেও চোখে পড়ত সেই পরিচিত দুষ্টু হাসি।
বন্ধুদের সঙ্গে গল্প করতে করতে হঠাৎ পেছনে তাকালেই—কেমন করে যেন ছেলেটা সেখানেও হাজির!
মেঘলা বিরক্ত হয়ে ভাবত,
‘এই ছেলেটা কি সত্যিই আমাকে একটুও শান্তিতে থাকতে দেবে না?’
একদিন শেষ পর্যন্ত মেঘলা ঠিক করেই ফেলল—আজ আর নয়। আজ তাকে একটু ফাঁকি দিতেই হবে।
তনুকেও বেশি কিছু না বলে টিফিনের সময় চুপিচুপি স্কুলের একেবারে ছোটদের ক্লাসগুলোর দিকে চলে গেল। তনু অবশ্য মেঘলার এই কাণ্ড দেখে মুচকি হেসেই সঙ্গে গেল।
বাচ্চাদের ক্লাসরুমের একেবারে পেছনের দিকে বসে দুজন গল্পে মেতে উঠল।
মেঘলার মনে হলো,
এবার দেখি কীভাবে আমাকে খুঁজে বের করে!’
কিন্তু ভাগ্য বোধহয় সেদিনও আরিয়ানের পক্ষেই ছিল।
টিফিনের ঘণ্টা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে দুজন উঠে ক্লাসের দিকে ফিরতে যাবে, ঠিক তখনই মেঘলা হঠাৎ থেমে গেল।
তার ঠিক কয়েক পা পেছনে আরিয়ান দাঁড়িয়ে।
মেঘলার বুকের ভেতরটা মুহূর্তেই কেমন ধক করে উঠল। 😶
আরিয়ান মৃদু হেসে বলল,
— কী ভেবেছিলে? আমার কাছ থেকে এভাবে পালিয়ে বেড়ালে আমি বুঝব না?
মেঘলা কোনো উত্তর দিল না।
— আজ তো বেশ বুদ্ধি করে লুকিয়েছিলে।
মেঘলা এবার এক পা পিছিয়ে গেল।
আরিয়ানও যেন মজা করে এক পা এগিয়ে এল।
মেঘলার অস্বস্তি আরও বেড়ে গেল। চারপাশটা হঠাৎ কেমন নীরব মনে হলো। এতক্ষণ যে স্কুলটা পরিচিত আর আপন লাগছিল, সেই মুহূর্তে কেন যেন সবকিছু অচেনা হয়ে গেল।
আরিয়ান নিচু স্বরে বলল,
— এত ভয় পাও কেন আমাকে?
মেঘলা মাথা নিচু করে বলল,
— আমি ভয় পাই না। শুধু... আমাকে বিরক্ত করবেন না।
কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না সে। পাশ কাটিয়ে দ্রুত চলে গেল। পেছনে তাকানোর সাহসও হলো না।
সেদিনের পর কয়েকটা দিন মেঘলা টিফিনের সময় ইচ্ছে করেই ক্লাসরুমের বাইরে বের হতো না।
তনু প্রথমদিকে সবসময় মেঘলার পাশেই থাকত।
— তুই চিন্তা করিস না মেঘলা। আরিয়ান ভাই একটু বেশি দুষ্টুমি করে, কিন্তু তুই যেটাতে অস্বস্তি বোধ করিস, সেটা ওনার বোঝা উচিত।
মেঘলা শুধু মৃদু হেসে বলত,
— থাক না তনু। এসব নিয়ে আমি আর ভাবতে চাই না।
কিন্তু তনু তখনও জানত না, নিজের মনের ভেতরেও সে একটা সিদ্ধান্ত ধীরে ধীরে তৈরি করে ফেলছে—মেঘলা যেন আরিয়ানকে অকারণে কষ্ট না দেয়। তবে সেই কথার অর্থ কী, সেটা সময়ই একদিন প্রকাশ করবে।
এভাবেই আরও কিছুদিন কেটে গেল।
একদিন টিফিনের ঘণ্টা পড়েছে। মেঘলা ক্লাসরুমে বসে তনুকে খুঁজছে, কিন্তু কোথাও পাচ্ছে না।
— নীরা, তনুকে দেখেছিস?
— না তো।
মেঘলা অবশেষে নিজেই খুঁজতে বের হলো।
করিডোর পেরিয়ে নিচতলার একটা নিরিবিলি ঘরের সামনে এসে হঠাৎ তার পা থেমে গেল।
ভেতরে তনু আর রেদোয়ান কথা বলছিল।
তনু বেঞ্চের ওপর বসে আর রেদোয়ানও সামনে। দুজনের কথাবার্তায় এমন একটা ব্যক্তিগত মুহূর্তের আবেশ ছিল, যা দেখে মেঘলা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।
‘এই জন্যই তাহলে আমাকে ফাঁকি দিয়ে এখানে এসেছে?’
মেঘলা তনুকে ডাকতে যাবে, ঠিক তখনই রেদোয়ান তনুর গালটা ধরে একটা কিস করে ফেলল।
তনু লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল।
মেঘলার চোখ বড় হয়ে গেল।
— তনু!
তার কণ্ঠ শুনে দুজনেই চমকে উঠল।
এক মুহূর্তে যেন পুরো ঘরের বাতাস বদলে গেল।
তনুর মুখ লাল হয়ে উঠল। রেদোয়ানও অপ্রস্তুত হয়ে অন্যদিকে তাকাল।
মেঘলা নিজেও বুঝতে পারল না কী বলবে।
তনু আস্তে করে বলল,
— মেঘলা... তুই এখানে?
মেঘলা আরও বেশি অস্বস্তিতে পড়ে গেল।
— আমি... তোকে খুঁজছিলাম।
তারপর আর কোনো কথা না বাড়িয়ে সে সেখান থেকে চলে এল।
কিন্তু সেই ছোট্ট ঘটনাটাই তিন জনের মাঝে যেন অদৃশ্য একটা দেয়াল তুলে দিল।
কয়েকদিন তনু আর মেঘলার ঠিকমতো কথা হলো না।
একসঙ্গে বেঞ্চে বসা হলো না।
টিফিনের সময় আগের মতো হাসাহাসি হলো না।
মুড়ির ঠোঙ্গা ভাগ করে খাওয়ার সেই ছোট্ট আনন্দটাও কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
দুজনেই কথা বলতে চেয়েছিল, অথচ কেউ প্রথম কথাটা বলতে পারছিল না।
মেঘলা মনে মনে ভাবত।
‘আমি কি সত্যিই বারবার ওদের মাঝখানে এসে পড়ছি?’
আর অন্যদিকে তনুও বুঝতে পারছিল, ঘটনাটা যতটা অস্বস্তিকর হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছে মেঘলা।
এই নীরবতার মধ্যেই নীরা, সীমা, তনু, রেদোয়ান—সবাই ধীরে ধীরে মেঘলাকে বোঝাতে শুরু করল।
— মেঘলা, তুই আরিয়ান ভাইকে এতটা এড়িয়ে চলিস কেন?
— উনি তোকে সত্যিই পছন্দ করেন।
মেঘলা চুপ করে থাকল।
তার সামনে যেন আবার সেই পুরনো প্রশ্নটা এসে দাঁড়াল—
ভালো লাগা কি সবসময় ভুল?
নাকি কিছু অনুভূতিকে বুঝতে হলে সময়ের অপেক্ষা করতেই হয়?
মেঘলা তখনও জানত না, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তার স্কুলজীবনের গল্পটা ধীরে ধীরে এক নতুন মোড় নিতে চলেছে... 🌙
চলবে ........
🌙✨ "শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়..." 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #গল্প #বাংলাগল্প ゚
05/09/2026
সূর্যটা ধীরে ধীরে আড়ালে যায়, অথচ রঙগুলো থেকে যায়—
কিছু মুহূর্তও ঠিক এমন, চলে যায় কিন্তু গল্প রেখে যায়। 🌅🤍
#স্মৃতির_পাতায় ো #মুহূর্ত
কিছুদিন থাকে, অনেক সুন্দর…
কিছু সময় হয় অনেক রঙিন। 🌸
সেই দিনটা ছিল ঠিক তেমনি—হাসি, আনন্দ আর খুনসুটিতে ভরা একদম স্পেশাল। ✨
কিন্তু কিছু মুহূর্ত, খারাপ হোক কিংবা ভালো, হঠাৎ করেই আসে।
তবে দিনটা খারাপ ছিল না, সময়টা খারাপ গিয়েছে আমাদের।
সত্যি বলতে, মুহূর্তটা অসাধারণ ছিল। 🤍
দোষ কাকে দিব জানি না—সময়ের, নাকি ভাগ্যের!
শুধু এটুকু জানি, সুন্দর মুহূর্তগুলো কখনো কখনো সুন্দর হয়েও অসম্পূর্ণ থেকে যায়। 🌿
#স্মৃতির_পাতায় #সুন্দর_মুহূর্ত #জীবনের_গল্প
🌿 অধ্যায়—১১ 🌿
এভাবেই ধীরে ধীরে মেঘলার স্কুলজীবনটা নিজের মতো করে আরও রঙিন হতে শুরু করল। হাসি, আনন্দ, বন্ধু আর ছোট ছোট খুনসুটিতে কেটে যেতে লাগল তার সুন্দর দিনগুলো। কখন যে মেঘলা তার পুরোনো সময়গুলোকে একটু একটু করে পেছনে ফেলে এসেছে, সে নিজেও বুঝতে পারেনি। 🌸
এরই মধ্যে একদিন হঠাৎ মেঘলার সামনে এমন এক সত্য হাজির হলো, যা শুনে সে রীতিমতো অবাক!
তনু আর রেদওয়ানের মধ্যে বেশ গভীর ভালোবাসার সম্পর্ক চলছে—সেটা মেঘলা এতদিন বুঝতেই পারেনি।
শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মেঘলা বলল,
— “তোমরা সত্যিই এই বয়সেই প্রেম নিয়ে ভাবো? এই সময়টা তো পড়াশোনা, বন্ধুত্ব আর স্কুলজীবন উপভোগ করার। এর মধ্যে আবার প্রেম কোথা থেকে এলো?”
তনু হেসে বলল,
— “সবকিছু কি আর হিসাব করে হয়?”
মেঘলা মৃদু হেসে মাথা নাড়ল।
— “আবেগের বশে এমন কিছু করা ঠিক না, যেটার দায়িত্ব নেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনো তৈরি হয়নি। আমাদের জীবনে ভালো লাগা আসতেই পারে, কিন্তু নিজের ভবিষ্যৎটাকেও তো ভুলে গেলে চলবে না।”
তনু তখন এমন একটা মুখ করল, যেন মেঘলা পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন একটা উপদেশ দিয়ে ফেলেছে!
মেঘলা বুঝল, এই মেয়েটা রেদওয়ানের ভালোবাসায় এমনিতেই ডুবে গেছে। এখন যতই বোঝানো হোক, কথাগুলো বোধহয় ওর মাথার ওপর দিয়েই যাবে। তাই ওকে আর কিছু বলল না।
বরং তাদের বন্ধুত্বের দিনগুলো আরও সুন্দর হয়ে উঠল।
টিফিনের সময় একসঙ্গে ঝালমুড়ি, কখনো ফুচকা, কখনো আইসক্রিমের প্রতিযোগিতা, আবার কখনো বাসা থেকে আনা আচারের কৌটা ঘিরে আড্ডা—মুহূর্তেই যেন মেঘলা তার হারিয়ে যাওয়া আনন্দগুলো খুঁজে পেল।
তার মনে হতে লাগল, সে যেন সত্যিই মুক্ত আকাশে ডানা মেলে উড়ছে। 🕊️🌿
তবে সেই রঙিন আকাশে শুধু একটা ছোট্ট সমস্যা ছিল।
আর সেই সমস্যার নাম—আরিয়ান। 😑
ছেলেটা যেন হাত ধুয়ে মেঘলার পেছনে লেগেছে! দূর থেকে তাকানো, সুযোগ পেলেই কথা বলার চেষ্টা, কখনো বন্ধুদের সামনে মেঘলাকে অপ্রস্তুত করে দেওয়া, কখনো ইশারা-ইঙ্গিতে কত কী বোঝানোর চেষ্টা—কিছুতেই যেন তার উৎসাহের শেষ নেই।
মেঘলার আকাশটা যতই রঙিন হোক, আরিয়ান নামের এই কালার-ব্লাইন্ড মানুষটা যেন কোনো রংই বুঝতে চায় না! 😅
কোথা থেকে এসে বারবার যে সবকিছু এলোমেলো করে দেয়!
একদিন টিফিনের সময় তনু, নীরা, সীমা আর মেঘলা মাঠের এক পাশে বসে জমিয়ে গল্প করছিল।
হঠাৎ সবাই মিলে মেঘলাকে চেপে ধরল।
— “আচ্ছা বল তো, ক্লাস এইটে পড়ছিস। এখনো প্রেম না করলে কবে করবি? এখনই তো সময় জীবনের আসল মজা নেওয়ার!”
তনু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— “আরিয়ান ভাইয়াকে এত কষ্ট দিচ্ছিস কেন? সত্যি রে, আরিয়ান ভাই তোকে অনেক পছন্দ করে!”
মেঘলা একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে শান্ত গলায় বলল,
— “আমি খুবই প্র্যাকটিক্যাল। তোমাদের মতো শুধু আবেগ দিয়ে দুনিয়া সাজাতে পারি না। আর বাবা-মা কষ্ট পাবে—এমন কিছু করতেও চাই না।”
সবাই মেঘলার কথায় চুপ করে গেল।
মেঘলা একটু থেমে আবার বলল,
— “প্রেম যে কোনোদিন করব না, তা কিন্তু না। আমারও ইচ্ছা আছে জীবনে কাউকে ভালো লাগুক, তার সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করব। তবে হ্যাঁ, সেটা যখন হবে, তখন আমি চাই আমরা দুজনেই একটু পরিণত থাকি, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিরিয়াস থাকি। শুধু সময় কাটানোর জন্য কোনো সম্পর্ক আমার কাছে অর্থপূর্ণ না।”
মেঘলা আবার মাটির দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল,
— “আমি এমন একটা সম্পর্ক চাই, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করবে, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখবে আর সম্পর্কটাকে হালকাভাবে নেবে না। এখনকার এসব নিয়ে ভাবার চেয়ে আমার কাছে পড়াশোনা, নিজের ভবিষ্যৎ আর তোমাদের মতো বন্ধুরাই যথেষ্ট।”
একটু হেসে শেষে বলল,
— “সময় কাটানোর জন্য প্রেম নয়—বন্ধুত্বই এনাফ, রাইট গার্লস?” 😄
তনু, নীরা আর সীমা একে অপরের মুখের দিকে তাকাল।
কথাগুলো হয়তো তাদের পুরোপুরি পছন্দ হয়নি, কিন্তু মেঘলার কথায় এমন এক দৃঢ়তা ছিল, যার জন্য কেউ তাকে ভুলও বলতে পারল না।
সময়ের সঙ্গে মেঘলার শান্ত স্বভাব, ভদ্র আচরণ আর পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ তাকে শুধু বন্ধুদের কাছেই নয়, শিক্ষকদের কাছেও প্রিয় করে তুলল।
ক্লাসের ফাঁকে হাসি-ঠাট্টা, টিফিনে ঝালমুড়ি-ফুচকা, বন্ধুদের সঙ্গে গল্প—সব মিলিয়ে স্কুলজীবনটা বেশ ভালোই কাটছিল তার। 🌸
কিন্তু মেঘলার অজান্তেই অন্যদিকে আরিয়ানের দুষ্টুমি যেন ধীরে ধীরে সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল।
একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটল, যার পর মেঘলা প্রথমবার সত্যিই অস্বস্তি বোধ করল।
সে ঠিক করল, এবার থেকে আরিয়ানের চোখের সামনে না পড়াই ভালো। প্রয়োজনে একটু আড়ালেই থাকবে।
কিন্তু মেঘলা তখনও জানত না—
আরিয়ানকে এড়িয়ে চলার এই সিদ্ধান্তটাই হয়তো তাকে এমন এক পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করাতে চলেছে, যেটার জন্য সে একেবারেই প্রস্তুত ছিল না… 👀
চলবে… 🌙📖
🌙✨
“শব্দে বুনি কল্পনা,
অনুভবে ছুঁই হৃদয়...” 🤍
— 🌸 ফাতেমা ✍️💫
#আমারজীবনেরসেইঅধ্যায় #বাংলাগল্প #গল্পেরপাতায়
অনেকদিন পর আপন মানুষগুলোর সাথে একটু নিজের মতো করে সময়… 🥹🤍
ফুচকা, বার্গার আর একগুচ্ছ হাসির মাঝে জমে রইল একটা স্পেশাল বিকেল। 🌸✨
ভিডিওটা সাধারণ, মুহূর্তটা নয়। 🫶
ানুষ #সুন্দর_মুহূর্ত ゚
Category
Website
Address
Dhaka
Alerts
Be the first to know and let us send you an email when Fatema's Diary posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.
