Mahdi HS

Mahdi HS

Share

Assalamualaikum wa Rahmatullah. This is Mahdi HS, Nasheed artist. Jazakumullahu khairan for join.

03/06/2026

“পথটা ভালো ছিলো না”
পর্ব ৩:

রাহাত জানালার সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। শহরের আলো ঝলমল করছে, নিচে গাড়ির লাইন—সবকিছু আগের মতোই স্বাভাবিক। কিন্তু তার মাথার ভেতরে যে ছবিটা ঘুরছিল, সেটা এই শহরের না। ধানক্ষেতে একটা সরু পথ। আর দূরে হাঁটতে থাকা কয়েকটা অবয়ব, সে চোখ বন্ধ করলো। কিছুই পরিষ্কার না। শুধু একটা অনুভূতি যেন সে এটা আগে দেখেছে। সেই রাতে রাহাতের ঘুমটা আবারও ঠিকমতো হলো না। ঘুম আর জাগরণের মাঝামাঝি একটা অবস্থায় বারবার সে একই জিনিস অনুভব করছিল। সে হাঁটছে, চারপাশে অন্ধকার। পায়ের নিচে নরম মাটি। কিন্তু সামনে এগোলেই মনে হচ্ছে একই জায়গা বারবার আসছে। হঠাৎ সে চোখ খুলে উঠলো। ঘর অন্ধকার। মোবাইলের স্ক্রিন জ্বালিয়ে সময় দেখলো ৩:০২। সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তার বুকের ভেতরটা কেমন যেন ঠান্ডা হয়ে গেল। কেন যেন মনে হলো এই সময়টা… ঠিক না। “স্বপ্ন…” — সে নিজেকে বললো। মাথা নাড়িয়ে আবার শুয়ে পড়লো। কিন্তু এবার ঘুম এলো না। সে শুধু ছাদের দিকে তাকিয়ে রইলো। পরদিন সকালে সবকিছু আবার স্বাভাবিক। সূর্যের আলো, বাসার শব্দ, রান্নাঘর থেকে আসা গন্ধ—
সব কিছু আগের মতোই। গত রাতের অস্বস্তিটা যেন একটু কমে গেছে। হাত ব্যাগ গুছাতে বসলো। কাপড়, চার্জার, কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস, সব ঠিকঠাক। হঠাৎ সে থেমে গেল। তার মনে হলো সে যেন আগে এই ব্যাগ গুছিয়েছে। একইভাবে, একই জিনিস একই অনুভূতি নিয়ে। সে হাত থামিয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলো। তার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে—

“আমি কি আগে এই যাত্রায় গেছি?”

কিন্তু উত্তর নেই। দুপুরে সবাই আবার দেখা করলো। এইবার excitement বেশি।

“ভাই, গ্রামে গেলে কিন্তু রাতের বেলা ঘুরবো!”
“ধানক্ষেত, খোলা আকাশ—মজা হবে!”

সবাই প্ল্যান করছে, হাসছে। কিন্তু রাহাত চুপচাপ শুনছে। একজন বন্ধু বললো—
“এই শর্টকাট পথটা দিয়ে যাবো কিন্তু!”

রাহাত তাকালো। তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত কিছু ভেসে উঠলো। তারপর সে ধীরে বললো—

“দিনে গেলে সমস্যা নেই…”

“রাতে গেলে?” — বন্ধু জিজ্ঞেস করলো।

রাহাত কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর শুধু বললো—

“রাতে… রাস্তা ঠিক থাকে না।”

সবাই আবার হেসে উঠলো।

“রাস্তা আবার বদলায় নাকি? ভাই, তুই পুরো গ্রাম্য ভুতের গল্প শুরু করছিস!”

রাহাত হাসলো না। সে শুধু তাকিয়ে রইলো। সন্ধ্যার দিকে সবাই ঠিক করলো পরদিন সকালে রওনা হবে। সবাই আলাদা হয়ে গেল। রাতে আবার একা রাহাত। ব্যাগ গুছানো শেষ, লাইট বন্ধ। সে শুয়ে আছে, চোখ বন্ধ। হঠাৎ তার মনে হলো কেউ ফিসফিস করে বললো—

“পথটা… মনে আছে?”

সে চোখ খুলে ফেললো, ঘর ফাঁকা। কেউ নেই।

চলবে… (পর্ব ৪)

Room no 13 - ১৩ নম্বর ঘর | Horror Story | Mysterious Horror Stories | Scary Horror Story | MR. Jems 14/05/2026

MR. Jems এর কাহিনী অবলম্বনে এবার ছিলো "Room no. 13"। কেমন লাগলো জানাবেন। আপনাদের আলোচনা সমালোচনা আমাদের কাজের ক্ষেত্রে আরো উদ্বুদ্ধ করে।

Room no 13 - ১৩ নম্বর ঘর | Horror Story | Mysterious Horror Stories | Scary Horror Story | MR. Jems This is our horror channel. Welcome to my channel. Some stories will based true story. This story, "Room no. 13" depand of the writer "MR Jems".Now you can s...

13/05/2026

"মোর হৃদয়ের গোপন বিজন ঘরে,
একলা রয়েছ নিরব সয়ন পরে।"

বিশ্বাস করুন আমাদের আজকের গল্পটা বঝাতে এর থেকে ভালো গান আর হয় না। একটা হোটেলের গোপন বিজন ঘর নিয়েই আজকের গল্প। এম আর জেমস "রুম নাম্বার ১৩" লিখেন ১১৫ বছর আগে। তখন ইউরোপে ১৩ সংখ্যাটা অশুভ বলে একটা কুসংস্কার ছিল। এত বছর পরেও মানুষ এই কুসংস্কার কাটিয়ে উঠতে পারে নি। আজও বিশ্বের বহু হোটেলের মালিক ১৩ নম্বর ঘর রাখতে চায় না। আসলে মানুষ বা সংখ্যা অশুভ হয় না, অশুভ হয় মানুষের মনের ভিতর লুকিয়ে থাকা অন্ধবিশ্বাস।

শুনতে থাকুক রাত ১১ঃ৩০ মিনিটে, এম আর জেমস এর কাহিনী অবলম্বনে "১৩ নম্বর ঘর"।

Photos from Mahdi HS's post 12/05/2026

Mysterious Horror Stories - channel টি অনেকদিন যাবত পরে ছিলো। ভাবলাম এটাকে আর এতিমের মতো ফেলে রাখার। ব্যস্ততার জন্য অনেকদিনের একটা gap পরে গিয়েছিলো। এবার আসছি আবার আগের মতো নতুন Audio story নিয়ে। এবারের গল্প - এম আর জেমস এর কাহিনী অবলম্বনে "১৩ নম্বর ঘর"। আসছে আগামী কাল এক রহস্যজনক ভয়ের গল্প রাত ১১:৩০ এর লাইভে যা আপনাদের মনকে শিউরে দিবে। পাশে থাকুন চ্যানেলটি subscribe করে। Link: https://youtube.com/?si=JJbbjjs1By-UUyNx

10/05/2026

পথটা ভালো ছিলো না”
পর্ব ২:

রাতটা কেমন যেন অস্বস্তিকর কেটেছিল রাহাতের। ঘুম আসছিল, কিন্তু গভীর না। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল—কিছু একটা মনে পড়তে চাচ্ছে, কিন্তু পারছে না। সকালবেলা উঠে সে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলো।তার মাথায় একটাই চিন্তা, সে কি সত্যিই গ্রামে যাবে?বাইরে শহরের স্বাভাবিক শব্দ গাড়ির হর্ন, মানুষের চলাফেরা, দোকান খোলা। সব কিছু আগের মতোই।কিন্তু রাহাতের ভেতরে একটা অদ্ভুত ভার। যেন সে এমন কোথাও যেতে যাচ্ছে। যেখানে তার যাওয়া উচিত না।দুপুরের দিকে আবার বাবার ফোন এলো। “কবে আসবি?” — সরাসরি প্রশ্ন। রাহাত একটু থেমে বললো,“দুই-একদিনের মধ্যে…”
“একাই আসবি?” — বাবা জিজ্ঞেস করলেন।
রাহাত কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর বললো— “হয়তো… কয়েকজন বন্ধু নিয়ে আসবো।” এই কথাটা বলার পর তার নিজেরই অদ্ভুত লাগলো। কারণ গতকালই তো সে ওদের যেতে মানা করেছিল। ফোন কেটে যাওয়ার পর সে নিজেই ভাবতে লাগলো, “আমি কেন বললাম ওদের নিতে?” মনে হচ্ছিল কেউ যেন ভেতর থেকে তাকে ঠেলে দিচ্ছে। যেন একা গেলে কিছু একটা হবে। আর তাই সে একা যেতে চাইছে না। সন্ধ্যায় আবার সেই চায়ের দোকান। বন্ধুরা আগের মতোই আড্ডা দিচ্ছে। রাহাত বসে বললো,“আমি গ্রামের দিকে যাচ্ছি।” সবাই তাকালো।
“সত্যি?” — একজন বললো। রাহাত মাথা নাড়লো।তারপর ধীরে বললো,“তোমরা চাইলে, যেতে পারো।” এইবার সবাই সিরিয়াস হয়ে গেল। “এই তো! আমরা তো সেইটাই বলছিলাম,গ্রামে ঘুরতে যাওয়া—একদম perfect!”
হাসি-ঠাট্টা শুরু হয়ে গেল। কিন্তু রাহাত চুপ। একটু পর সে ধীরে বললো,“একটা জিনিস আছে।” সবাই তাকালো। “গ্রামে একটা শর্টকাট পথ আছে, ধানক্ষেতের মাঝ দিয়ে। দিনে ঠিক আছে… কিন্তু সন্ধ্যার পর কেউ যায় না।” একজন হেসে বললো,
“এইসব আবার কুসংস্কার!” আরেকজন বললো,
“ভাই, তুই তো শহরে থাকিস, এখন আবার গ্রামের ভৌতিক গল্প বলছিস?” রাহাত কিছু বললো না। সে শুধু নিচের দিকে তাকিয়ে বললো,“আমি ছোটবেলায়… একবার গিয়েছিলাম ওই পথে।” এইবার একটু চুপচাপ।
তারপর একজন জিজ্ঞেস করলো। রাহাত কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো। তারপর বললো,“ঠিক মনে নেই।" সে সত্যিই মনে করতে পারছিল না। মনে হচ্ছিল কিছু একটা আছে, কিন্তু যেন কেউ সেটা মুছে দিয়েছে। শেষে ঠিক হলো, দুইদিন পর তারা যাবে, সবাই excited।গ্রাম, খোলা মাঠ, নতুন experience। সবাই এটা adventure হিসেবে নিচ্ছে। রাতে বাসায় ফিরে রাহাত ব্যাগ গুছাচ্ছিল। হঠাৎ তার হাত থেমে গেল। মনে হলো সে কিছু একটা ভুলে যাচ্ছে। কিন্তু কী? সে জানালার দিকে তাকালো। শহরের আলো, দূরে আকাশে চাঁদ।কিন্তু তার চোখে হঠাৎ একটা ছবি ভেসে উঠলো। অন্ধকার ধানক্ষেত, একটা সরু পথ, আর দূরে কয়েকটা অবয়ব হাঁটছে।

চলবে… (পর্ব ৩)

06/05/2026

“পথটা ভালো ছিলো না”
পর্ব ১:

ঢাকা শহরের একটা সাধারণ সন্ধ্যা। টিউশনি শেষে রাহাত আর তার ২–৩ জন বন্ধু চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলো। চারপাশে গাড়ির শব্দ, মানুষের ভিড়, আর শহরের সেই চেনা ব্যস্ততা। বন্ধুদের মধ্যে একজন হাসতে হাসতে বললো, “এইবার ঈদে তো সবাই গ্রামে যাবে, তুই যাবি না রাহাত?” রাহাত একটু চুপ করে রইলো। তারপর হালকা গলায় বললো, “আমি… গ্রামে যাই না তেমন।” এই কথাটা বলার সময় তার গলায় কোনো জোর ছিল না, কিন্তু একটা অস্বস্তি ছিল—যেন বিষয়টা নিয়ে বেশি কথা বলতে চায় না। বন্ধুদের একজন অবাক হয়ে বললো, “কেন? গ্রামের কথা তো তুই কখনো বলিস না।” রাহাত চুপ। চায়ের কাপটা হাতে নিয়ে একটু সময় নিলো। তারপর শুধু বললো, “কারণ… আমি ছোটবেলায় ওখানে বেশিদিন ছিলাম না।” আর কিছু বললো না। সেই আড্ডার মাঝেই হঠাৎ একজন বন্ধু মজা করে বললো, “চল, এইবার সবাই মিলে তোর গ্রামে যাই! দেখি কেমন জায়গা।”
সবাই হেসে উঠলো। কিন্তু রাহাত হাসলো না, সে শুধু তাকিয়ে রইলো। তার চোখে একটা অদ্ভুত থেমে থাকা ভাব। “না…” — সে ধীরে বললো। “ওখানে যাওয়ার দরকার নেই।” এই কথাটার পর কয়েক সেকেন্ড কেউ কিছু বললো না। চায়ের দোকানের শব্দ, কাপের ঠোকাঠুকি—সবই হঠাৎ একটু ভারী লাগছে। বন্ধুদের একজন বিষয়টা হালকা করতে বললো, “আরে মজা করছিলাম।” কিন্তু রাহাত আর হাসলো না। সে শুধু কাপ নামিয়ে বললো,“আমি গেলে… তোমরা যেও না।” এই বাক্যটা কেউ সিরিয়াসলি নিলো না। সবাই হেসে উড়িয়ে দিলো। কিন্তু রাহাত নিজেই জানতো না—
সে কেন এটা বললো। সেই রাতেই, বাসায় ফিরে রাহাত বিছানায় শুয়ে ছিল। ফোন স্ক্রল করছিল। হঠাৎ বাবার ফোন এলো। কিছু পুরনো জমির কাজ, গ্রামের বাড়ির কিছু সমস্যা… সব মিলিয়ে বাবার কণ্ঠ একটু চাপা। “একবার এসে দেখে যাবি তো?” — বাবা বললেন। রাহাত কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো। তারপর বললো,
“ঠিক আছে… দেখবো।” কিন্তু এই “ঠিক আছে”টা তার নিজের কণ্ঠে একটু ভারী শোনালো। ফোন কেটে যাওয়ার পর রাহাত জানালার পাশে দাঁড়ালো। শহরের আলো বাইরে জ্বলছে। কিন্তু তার মনে হচ্ছিল—যে জায়গায় সে যেতে যাচ্ছে, সেটা এই আলোর মতো না। ওটা আলাদা। খুব আলাদা। সে ফোনটা আবার হাতে নিলো। গ্রামের নাম্বারটা ডায়াল করলো না। শুধু স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলো। কিছুক্ষণ পর ফোনটা রেখে দিলো। তার মুখে কোনো ভয় নেই। শুধু একটা অদ্ভুত অনিশ্চয়তা। যেন সে জানে না— সে সত্যিই সেখানে যাবে কি না।

চলবে… (পর্ব ২)

03/05/2026

মানুষের জীবনে অনেক পথ মানুষ অতিক্রম করে। কিন্তু সব পথ আসলে মানুষের জীবনকে ভালো দিকে নেয় না। কিছু পথ আছে অজান্তে মানুষ চললে পরে যা আশা করে যায় তার বিপরীত কিছু পায়, আবার কিছু পথ ভাগ্যের জন্য তার লক্ষে পৌঁছে দেয়, আবার কিছু পথ আছে যেগুলো আমাদের জীবনের জন্য ভয়াবহ ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়। আপনি যেই রাস্তা দিয়ে যাবেন অন্য কিছুর দখলে যাওয়ার পর আপনার জন্য restricted হয়ে যায় তাহলে সে পথ আপনার জীবনে মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে। কারন পথটা ভালো ছিলো না। এমন একটি ঘটনাই পাবেন এবার আপনারা। জানবেন গ্রামের এক অজানা নিষিদ্ধ পথের কথা, যে পথ আপনার এবং আপনার সঙ্গী সাথীদের মৃত্যুর কারণ হতে সক্ষম।

ইংশাআল্লাহ শীঘ্রই আসছে গ্রাম বাংলার একটি ভয়ংকর পথ নিয়ে পরবর্তী সিরিজ - "পথটা ভালো ছিলো না"।

Stay tuned.

01/05/2026

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ১০:

“…তুমি শুনতে পাচ্ছো…”
শব্দটা শেষ হতেই রাহাতের বুকের ভেতরটা হঠাৎ চেপে ধরলো। আয়নায় সে স্পষ্ট দেখছে তার পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা অবয়বটা আর অস্পষ্ট না। এখন সেটা প্রায় তার মতোই। একই উচ্চতা… একই গঠন… শুধু মুখটা…
অন্ধকার। রাহাত ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নিলো। তার মাথার ভেতর ঝাপসা কিছু ছবি ঘুরছে। এই ঘর… এই রাত…এই সময়… সবকিছু আগে ঘটেছে।
হঠাৎ—
একটা স্পষ্ট দৃশ্য। ছোট্ট রাহাত… বয়স হয়তো ৮-৯। সে এই একই ঘরে বসে আছে। বাইরে রাত। সময়—৩টা।দরজায় শব্দ। টক… টক… তারপর— একটা কণ্ঠ। “দরজা খোল…” রাহাত ফিসফিস করে বললো “আমি… খুলেছিলাম? ”হ্যাঁ, সে খুলেছিল। কেউ তাকে থামায়নি। কারণ কেউ জানতো না। দরজা খোলার পর সে কাউকে দেখেনি, শুধু অন্ধকার। কিন্তু সেই অন্ধকারের ভেতর থেকে কিছু একটা ঢুকেছিল। দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়। ঠান্ডা… ভারী… নিঃশ্বাসের মতো। ওটা কোনো “বাইরের” কিছু না। ওটা ঢোকার জন্য দরকার হয় ভেতরের অনুমতি। তাই ওটা নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করে। নিজের পরিচিত মানুষের কণ্ঠ ব্যবহার করে। যাতে দরজা খোলা হয়।
রাত ৩টার এই সময়টায় মানুষ আর ঘুমের মাঝামাঝি থাকে। না পুরো জাগ্রত… না পুরো ঘুমে। এই সময়েই—
মাথা দুর্বল থাকে। আর তখনই ওটা ঢুকতে পারে। রাহাত আবার আয়নার দিকে তাকালো। এইবার ওটা পুরোপুরি স্পষ্ট। ওটা… সে-ই। কিন্তু চোখদুটো ফাঁকা।
গভীর… অন্ধকার। রাহাতের শরীর কেঁপে উঠলো। কারণ ওটা এখন তার পেছনে না। ওটা… তার ভেতরে।
সে বুঝলো সেই রাতেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল, সে “বেঁচে” ছিল না। সে শুধু… একটা খোলস ছিল। তার নিজের মুখ থেকে ধীরে ধীরে শব্দ বের হলো—
“এখন বুঝছো…”
কিন্তু সে এটা বলতে চায়নি। শব্দটা নিজে থেকেই বের হলো। রাহাত হঠাৎ নিজের মাথা চেপে ধরলো।
“না… না…”
তার চোখে পানি চলে এলো।
“এটা আমি না…”
কিন্তু আয়নায় সে হাসছে। হঠাৎ রাহাত দৌড়ে দরজার দিকে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে শ্বাস নিতে লাগলো। তার মাথায় একটাই চিন্তা যদি সে আবার দরজা খুলে তাহলে পুরোটা সম্পূর্ণ হবে। সে থেমে গেল। তার হাত ধীরে ধীরে নিচে নামলো। সে বুঝলো—
ওটা চায়… সে খুলুক। রাহাত ধীরে ধীরে পিছিয়ে এলো। দরজা থেকে দূরে। আর তখনই প্রথমবারের মতো দরজার ওপাশ থেকে কোনো শব্দ এলো না।কোনো ডাক না। কোনো টোকা না। কারণ—
দরজা খোলার দরকার নেই আর। পরের দিন সকালে—
গ্রামের লোকজন রাহাতের বাড়িতে ঢুকে তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে, চোখ খোলা। মুখে অদ্ভুত আতঙ্ক।
ডাক্তার বললো হার্ট অ্যাটাক। কিন্তু তারা কেউ জানতো না রাত ৩টার পর থেকে রাহাত আর কোনো শব্দ শোনেনি। কারণ যে “শোনে”… সে-ই দরজা খুলে। আর সে শেষবারের মতো শোনা বন্ধ করে দিয়েছিল।

সমাপ্ত।

28/04/2026

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ৯:

রাহাত ধীরে ধীরে পর্দাটা ছেড়ে দিলো। ঘর আবার আগের মতো—বন্ধ, নিঃশব্দ, ভারী। কিন্তু এখন তার ভেতরের অনুভূতিটা বদলে গেছে। আগে সে ভাবছিল কিছু একটা বাইরে আছে। এখন তার মনে হচ্ছে— কিছু একটা ভেতরেই আছে। সে ধীরে ধীরে পেছনে ফিরলো।
ঘরের প্রতিটা কোণ তার চোখে পড়ছে, বিছানা… আলমারি… দরজা… সব আগের মতোই।
তবুও, একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে— যেন এই ঘরটা আর আগের মতো নেই। রাহাত নিজের বুকের ওপর হাত রাখলো। ধড়ফড় করছে। তার মাথায় একটা প্রশ্ন ঘুরছে— “ওটা যদি বাইরে না থাকে… তাহলে কোথায়?” তার চোখ আবার গিয়ে পড়লো আয়নার দিকে। সে দাঁড়িয়ে আছে আর আয়নায় তার প্রতিচ্ছবি।
কিন্তু এইবার সে যতক্ষণ তাকিয়ে রইলো ততক্ষণ মনে হলো ওটা তাকিয়ে আছে, কিন্তু অন্যরকমভাবে। একটু বেশি স্থির, একটু বেশি “সচেতন”। রাহাত ধীরে ধীরে এক পা এগোল। আয়নার ভেতরের মানুষটাও এগোলো, সব ঠিক। কিন্তু হঠাৎ সে খেয়াল করলো তার নিজের নিঃশ্বাসের ছন্দ বদলেছে। সে থেমে গেল ও কান পেতে রইলো। ঘরের ভেতর দুইটা নিঃশ্বাসের শব্দ। একটা তার নিজের। আরেকটা… একটু ভারী, একটু ধীর। রাহাতের পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে ধীরে ধীরে মাথা ঘুরালো ঘরের অন্য পাশে তাকালো, কেউ নেই। কিন্তু সেই দ্বিতীয় নিঃশ্বাসটা এখনো শোনা যাচ্ছে। তার খুব কাছ থেকে।
হুঁ… হুঁ…
শ্বাসটা ধীরে ধীরে তার পেছনে এসে দাঁড়ালো। রাহাত চোখ বন্ধ করে ফেললো। তার মনে হচ্ছে যদি সে ঘুরে দাঁড়ায় তাহলে সে কিছু একটা দেখবে। যেটা দেখা উচিত না। “এটা সত্যি না… এটা সত্যি না…” — সে নিজেকে বলতে লাগলো। কিন্তু তার কণ্ঠ কাঁপছে। সে জানে এটা কল্পনা না। হঠাৎ সে চোখ খুলে আয়নার দিকে তাকালো। তার নিজের সামনে আয়নার ভেতরে সে দাঁড়িয়ে আছে।কিন্তু তার পেছনে অন্ধকারের মধ্যে একটা অস্পষ্ট অবয়ব, মানুষের মতো। কিন্তু পুরোপুরি মানুষ না। রাহাত হঠাৎ ঘুরে দাঁড়ালো। পেছনে কিছু নেই, খালি ঘর। কিন্তু আয়নায় এখনো সেই অবয়বটা দাঁড়িয়ে, এইবার একটু স্পষ্ট। আর ধীরে ধীরে ওটা মাথা কাত করলো। ঠিক তখনই তার কানের কাছে খুব নিচু স্বরে “তুমি শুনতে পাচ্ছো?”একই কথা, কিন্তু এইবার প্রশ্ন না। একটা নিশ্চিত ঘোষণা। রাহাতের মনে হলো ওটা বাইরে থেকে আসেনি। ওটা…ভেতরে ঢুকে গেছে।

চলবে… (শেষ পর্ব ১০)

23/04/2026

বিলম্বের জন্য পর্ব ৭ ও ৮ একসাথে পোস্ট করা হলো।
শুরু হচ্ছে....

“রাত তিনটার পর…”
পর্ব ৭:

“রাহাত…”
কণ্ঠটা আবার ভেসে এলো। এইবার একটু পরিষ্কার… একটু কাছে। রাহাত স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার মাথার ভেতর যেন কিছু একটা আটকে গেছে কারণ সে জানে… তার বাবা এখন ঢাকায়, হাসপাতালে। তাহলে এই কণ্ঠ…? মনে মনে ভাবলো হয়তো ভুল শুনেছে। কিন্তু ঠিক তখনই—
টক… টক…
দরজায় আবার শব্দ। এইবার আগের চেয়ে জোরে। তার বুক ধড়ফড় করছে। সে ধীরে ধীরে দরজার দিকে এগোলো। প্রতিটা পদক্ষেপ ভারী লাগছে। দরজার একদম সামনে এসে সে থামলো। তার হাত উঠলো…কিন্তু ছুঁইলো না। “বাবা?” — সে ধীরে জিজ্ঞেস করলো।এক সেকেন্ড চুপ। তারপর—
“দরজা খোল… আমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছি…”
কণ্ঠটা একদম স্বাভাবিক। একদম তার বাবার মতো। কিন্তু, কিছু একটা অদ্ভুত। কণ্ঠে কোনো আবেগ নেই। না ক্লান্তি… না তাড়া… শুধু এক ধরনের ফাঁকা স্বর। হঠাৎ কুদ্দুস মিয়ার কথা তার মাথায় বাজলো— “রাত বেশি হলে বাইরে যাইয়েন না, কেউ ডাকলেও না।” রাহাতের হাত থেমে গেল। সে দরজার কাছ থেকে এক পা পিছিয়ে এলো। দরজার ওপাশ থেকে আবার—
“রাহাত… খুলে দাও।”

এইবার কণ্ঠটা একটু নিচু। কিন্তু আগের চেয়ে ধীর। যেন জানে—ভেতরের মানুষটা ভয় পাচ্ছে। রাহাত খেয়াল করলো— প্রতিটা শব্দের মাঝে অস্বাভাবিক বিরতি। যেন কেউ কণ্ঠটা “নকল” করছে। কিন্তু পুরোপুরি ঠিকমতো পারছে না। রাহাত মাথা নাড়লো।
“না, এটা বাবা না।”সে আস্তে করে বললো— “আপনি কে?” একদম চুপ। কোনো উত্তর নেই। কিছু সেকেন্ড…তারপর কয়েকটা মিনিট। কোনো শব্দ নেই। মনে হচ্ছে—ওপাশে কেউ নেই। রাহাত ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়লো।
হয়তো… শেষ। হয়তো কেউ মজা করছিল।
ধাম!
দরজায় হঠাৎ জোরে আঘাত পড়লো। রাহাত লাফিয়ে উঠলো। তারপর— ধাম! ধাম! ধাম! একটার পর একটা আঘাত। দরজাটা কাঁপছে। যেন কেউ বাইরে থেকে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে। এবার কণ্ঠটা আবার শোনা গেল—
কিন্তু এটা আগের মতো না। এইবার কণ্ঠটা ভাঙা, বিকৃত…
“খুলে দাও…”

পর্বঃ ৮
একই কথা… কিন্তু ভয়ংকরভাবে বদলে গেছে। রাহাত পিছিয়ে গিয়ে দেয়ালে ঠেকে দাঁড়ালো। তার চোখ দরজায়। সে এখন নিশ্চিত— ওটা মানুষ না। হঠাৎ—
সব থেমে গেল। কোনো আঘাত নেই। কোনো শব্দ নেই। দরজা আবার স্থির। ঠিক আগের মতো। ঘরের ভেতর এখন এমন নীরবতা…যেটা কানে চাপ সৃষ্টি করছে। রাহাত ধীরে ধীরে মেঝেতে বসে পড়লো। তার শরীর কাঁপছে। ঘাম জমে গেছে কপালে। সে দরজার দিক থেকে চোখ সরাতে পারছে না। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সে দেখলো—৩:৩৩। সময়টা দেখে তার গা শিউরে উঠলো।
সে বুঝতে পারছে না কেন?! কিন্তু এই সংখ্যাটা অদ্ভুতভাবে অস্বস্তিকর লাগছে। “যদি… কেউ সত্যিই বাইরে থাকে?” এই চিন্তাটা হঠাৎ মাথায় এলো।
“যদি কেউ সাহায্য চাইছিল?” কিন্তু সাথে সাথেই আরেকটা চিন্তা— “তাহলে কণ্ঠটা বদলে গেল কেন?”

রাহাত ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো। এইবার সে সিদ্ধান্ত নিল—দরজা খুলবে না… কিন্তু জানালা দিয়ে দেখবে।
সে আস্তে আস্তে জানালার কাছে গেল। হাত বাড়িয়ে পর্দা সরালো। বাইরে কেউ নেই, দরজার সামনে ফাঁকা উঠোন। কিন্তু, মাটির ওপর কিছু দাগ আছে। যেন কেউ বারবার পায়চারি করেছে। একই জায়গায় সামনে-পেছনে, রাহাত কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলো। তারপর ধীরে ধীরে পর্দা নামিয়ে দিলো। তার মাথায় এখন একটা কথাই ঘুরছে, ওটা চলে যায়নি। ওটা এখনো এখানে আছে। শুধু দেখা যাচ্ছে না।

চলবে… (পর্ব ৯)

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Dhaka?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Category

Address

Dhaka