RaiSum

RaiSum

Share

প্রতিমাসে টপ ফ্যানের জন্য একটি আকষর্ণীয় হাদিয়া রয়েছে! Modest • Trendy • Affordable 🛍️
Nationwide Delivery 🚚

29/06/2026

আপনাদেরকে একটা মাছ ভাজার গল্প বলি।

মেয়েটার কয়দিন খাওয়া দাওয়া নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে।
হঠাৎ মনে হল কম মসলা দিয়ে মাছ ভাজি করে দেখি খায় কিনা।

তখন আমি কাঁচা মাছের পিসে হালকা লবণ মাখাচ্ছিলাম।

এই দৃশ্য দেখে আমার মেয়ে চিৎকার করে বলা শুরু করল, 'মাছ খাব, খাব, খাব..'

আলহামদুলিল্লাহ অবশ্যই আল্লাহ রিজিকে রাখলে খাবে।

এখন সে বায়না ধরেছে, সে কাঁচা মাছ খাবে।

যতই বলছি, মা এটা ভাজতে হবে। রান্না করতে হবে। কাঁচা মাছ খাওয়া সম্ভব না।

সে ততোই বলছে, খাব খাব খাব....

একপর্যায়ে বোঝানো বাদ দিয়ে ভাবলাম প্রতিটা কথা বলাই এখন সময় নষ্ট। তাড়াতাড়ি চুলার মধ্যে দিয়ে এই জিনিস রেডি করে তার সামনে দিয়ে দিব ...

হয়তো ১৫ মিনিটের প্রসেস!

এই পুরোটা সময়...

সুবহানআল্লাহ পুরোটা সময়..

আল্লাহর বান্দা বলেই যাচ্ছেন, 'খাব খাব খাব...

সে আমার হাত ধরে টান দিচ্ছে...

জামা ধরে টান দিচ্ছে...

সে জোরে হাত ধরে টান দিয়ে কাঁচা মাছ তার হাতে নিয়ে নিচ্ছে....

কাঁচা মাছে পারলে কামড় দিয়ে দিচ্ছে...

কাঁচা মাছ ভাজাটা কত জরুরী তার মাথায় রেজিস্টার হচ্ছে না।

সে চিৎকার করে কাঁদছে।
চিৎকার করে প্রতিবাদ করছে।
হয়তো আসলেই তার ক্ষুধা পেয়েছে, ছোট মানুষ সহ্য করতে পারছে না। যেহেতু সারাদিন খাওয়া-দাওয়া নিয়ে নানান নাটক সিনেমা চলেছে, এখন হয়তো সত্যি ক্ষুধা পেয়েছে।

সে‌ হয়তো ভাবছে, আমার আম্মু কেন এমন করে আমার সাথে? আমাকে কাঁচা মাছটা খেতেই দিচ্ছে না, আমার কত ক্ষুধা লেগেছে!!

এদিকে আমি রান্নাঘরে, তাকে সামলাবো, মসলা-মাখা মাছের হাত সামলাবো, মাছ ভাজির জন্য অপর পাশ উল্টে দিব... কি যে করব!

১৫ মিনিট!

মাত্র ১৫ টা মিনিটে মনে হয় তোলপাড় হয়ে যাচ্ছে...

হঠাৎ এই গোলমালের মধ্যেই আমি হেসে দিলাম।

আমার কি মনে হল জানেন?

মনে হচ্ছিল, আমরা বান্দারা এরকম নাদান শিশুর মতই করি আমাদের মনের চাওয়া-পাওয়া গুলো নিয়ে।

আমরা হয়তো আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে যাচ্ছি, চিৎকার করে যাচ্ছি,
দাও!‌ দাও! দাও!
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দাও...
এখনই দাও এখনই দাও...

যেহেতু আমাদের বিশ্বজগত নিয়ে জ্ঞানের পরিধি অনেক কম, তাই ওই মুহূর্তে আল্লাহ কিছু না দিলে আমরা সহ্য করতে পারিনা। আমাদের তো আর অদৃশ্যের জ্ঞান নেই ।আমরা বুঝতে পারি না যে, সুস্বাদু দেখা যে জিনিসটা আমি প্রচন্ড ভাবে চাচ্ছি, সেটা হয়তো আসলে একটা কাঁচা মাছ..

আল্লাহতালা আমাকে হয়তো এই মাছটাই দিবেন!

কিন্তু অনেক আদর করে, অনেক যত্ন করে, মজার মজার মসলা মাখিয়ে এটা কে কড়কড়া ভেজে আমার প্লেটে তুলে দিবেন। এজন্য দেরি হবে। এজন্য অপেক্ষা করতে হবে। ধৈর্য ধরতে হবে।
এক বছর।
পাঁচ বছর।
পুরো একটি দুনিয়ার জীবন।

করলাম না হয় এক জীবনের অপেক্ষা।

আমি যেহেতু আন্তরিক মনে চেয়েছি, ঐ কড়কড়ে ইয়ামি ভাজা মাছটাই আল্লাহ আমাকে দিবেন! না হয় আরো ভালো কিছুই দিবেন। আমার মায়ের আগেও তিনিই আমাকে ভালোবেসেছেন।

আর আমি যেটা পাওয়ার জন্য চিৎকার করে কাঁদছি, সেটা আসলে কাঁচা মাছ।

কি বুঝলেন?

আসলে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ককে কোন কিছু দিয়েই তুলনা করা সম্ভব নয়।

কিন্তু কেবল বোঝার সুবিধার জন্য বলছি।

যেই বাচ্চাটার বয়স মাত্র আড়াই বছর, তার মগজে এখন পর্যন্ত সেই স্তরের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ তো হয়নি এতোটুকু বুঝতে যে, মা তাকে খুবই ভালোবেসে খাবারটা উপযোগী করে প্লেটে তুলে দিবে। এজন্য সে চিৎকার করবে, বিরক্ত হবে, কষ্ট পাবে। তার জ্ঞানের পরিধি যে অনেক সীমিত। এজন্য যতটুকু চোখে দেখছে, তার দুনিয়াটা অতটুকুই।

কিন্তু মা তো জানে।
এই কাঁচা মাছটা খেতে দিলে বাচ্চাটার ক্ষতি হবে।
সে যতই কাঁদুক আমিতো তাকে দিব না এই জিনিস খেতে! তাই আমার বাচ্চা কাঁদতে কাঁদতে গড়িয়ে পড়ে গেলেও, আমি কাঁচা মাছ তাকে খেতে দিব না।

তাই অনেক সময় আমি খুব ভালো করে বোঝার চেষ্টা করি। আমার প্রিয় রব, তাঁর নামই হচ্ছেন আল হাকিম (সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজ্ঞার অধিকারী), আল‌ ওয়াহ্হাব (যিনি বান্দাকে উপহার দিতে ভালোবাসেন), আল - ফাত্তাহ (সকল বন্ধ দরজা খুলেন যিনি, বিজয় দান করেন যিনি)।

এগুলো যার নামের পরিচয়, নিশ্চয়ই তিনি তাঁর গায়েবের জ্ঞান থেকে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে এমন এমন বিষয় জানেন, আমার ভেতরের এবং বাইরের জীবনের প্রতিটা পর্ব এমন ভাবে জানেন, যার জন্য আল্লাহ এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

আমার হাতে আমার কাঙ্খিত বস্তু চলে আসলে হয়তো আমার ক্ষতি হতে পারে, যেটা আমি বুঝবো না। তাই আমি কান্নায় গড়িয়ে মেঝেতে গড়াগড়ি খেলেও আমাকে এটা এখন দেওয়া হবে না। এটা পরম ভালোবাসা থেকেই আমাকে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে আমি যেহেতু খুব সীমাবদ্ধ মানুষ, আমার যেহেতু চোখের সামনে শুধু কাঁচা মাছের খাবার ইচ্ছাটাই মুখ্য, তাই আমি আসলে বুঝতে পারি না।

আমি শুধু বলতেই থাকি,
খাব খাব খাব.... দাও দাও দাও...

কিন্তু আমি ঈমানদার হলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস,
একদিন ঠিকই আমার পাতে কড়কড়ে ভাজা মাছটা আমি দেখতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।

তখন নিজেই নিজের মাথায় আলতো করে বাড়ি দিয়ে বলবো,

ইশ! কি যে বোকামি করেছিলাম দিনের পর দিন! ভাগ্যিস আল্লাহ আমাকে আগলে রেখেছিলেন!

#রাইটিং_থেরাপি
শারিন।

27/06/2026

Love React দিয়ে জিতে নিন গিফট 🥹

26/06/2026

যারা বলে মেয়েদের পড়াশোনা করে লাভ কি সেই তো বাসন ই মাজতে হবে।
শোনেন কথা ঠিক কিন্তু যারা পড়াশোনা করে তারা লিকুইড ডিশওয়াশ দিয়ে থালা বাসন মাজে,তাও ব্র্যান্ডের আর কি। আর যারা পড়াশোনা করে না তারাও থালা বাসন মাজে তবে তারা ছাই কিংবা হুইল পাউডার দিয়ে মাজে এটাই পার্থক্য। 🤣🤣

Fun post. don't be serious 😐

25/06/2026

আমাদের পরিবারে নতুন সদস্য এসেছে। সবাই দোয়া করবেন তার জন্য।

আমাদের কাছের মানুষ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে কিছু বিনীত অনুরোধ:

বিনীত অনুরোধ ১। যারা বাবুকে দেখতে আসবেন, দোয়া দিতে আসবেন, বাবুর গায়ের রঙ, চোখের আকৃতি, কানের গঠন, নাকের গড়ন, চুলের পরিমাণ ইত্যাদি নিয়ে মন্তব্য করা, আমার বড় ছেলের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত থাকলে চিরকৃতজ্ঞ থাকবো। কারণ,

- আমি জানি অনেকেই শুধু বলার জন্য বলেন। অত কিছু ভেবে বলেন না। কিন্তু ওটাই আসলে সমস্যা। আমাদের কাছে যা কথার কথা, শিশুমনে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে। আমার বাবা মা কখনো আমার গায়ের রঙ, রূপ নিয়ে মন্তব্য করে নি। কিন্তু জ্ঞান হওয়ার পর থেকে অনেকের কাছে শুনে এটা জেনে এসেছি আমি "ফর্সা" না তাই আমি তথাকথিত সুন্দর না। এই কথা আমার আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দিয়েছিল। গায়ের রঙ, শারীরিক গঠন যে সৌন্দর্য মাপার মাপকাঠি হতে পারে, এটা আমার বড় সন্তানকে আমি শেখাই নি, শেখাবো না। কেউ ওর সামনে এধরণের কথা বললে আমি থামিয়ে দিয়েছি, আজীবন দিব। আমার বাবা মায়ের প্রতি আমি এজন্য বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যে, তারাও আমার সন্তানকে এধরণের মন্তব্য থেকে দূরে রেখেছে। আমার সন্তানরা মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম সুন্দর সৃষ্টি। আমি ওদেরকে মানুষের সৃষ্টি করা সৌন্দর্যের মাপকাঠিতে নিজেদের মাপতে শেখাবো না।

- একটা নিউবর্ন বাচ্চার গায়ের রঙ, চেহারা বয়সের সাথে বদলায়। "জন্মের সময় ফর্সা ছিল, এখন এমন কেন?" এধরণের প্রশ্ন ২০২৬ সালে এসে করাটা যুক্তিযুক্ত নয়। সবার হাতের মুঠোয় ইন্টারনেট আছে, সহজেই জেনে নিতে পারবেন এই পরিবর্তনের কারণ। কমবেশি সব শিশুই এই পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যায়।

বিনীত অনুরোধ ২। খুঁনসুটি করে অনেকেই নতুন ভাই বা বোনের ব্যাপারে বড় শিশুকে বলে থাকে,
"তোমার তো এবার আদর কমে যাবে।"
"তোমার মা তো এখন নতুন বাবুকে বেশি আদর করবে।"
"তোমাদের বাবুটাকে নিয়ে যাবো।"

দেখুন, এটা যে খুঁনসুটি তা আপনি, আমি বুঝি, কিন্তু চার বছরের শিশু তো বোঝে না। সে ভয়ে কান্না করে, হিংসা করা শেখে। আমার বড় ছেলে নতুন বাবুকে নিয়ে খুবই খুশি। ওকে আমরা সেভাবেই মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছি। পরিবারের কেউ তাকে এমন কোন কথার আভাসই দেই নি যাতে তার ভেতর ঐ ভয় তৈরি হয় যে নতুন সদস্যের আগমনে ওর আদর কমে যাবে।

আবারও সবার কাছে আমার পরিবারের জন্য দোয়া চাই। ❤️

- সংগৃহিত।

23/06/2026

এরকম শিল্পকর্ম তো আমাদের বাসায়ও হয়!
এজন্যই বলে যেখানে কদর নাই সেই স্থান ত্যাগ করাই ভালো 😒

23/06/2026

ছোট হোক,তবুও ভালো কাজ কখনোই ছোট নয়।
একটি হাসি, একটি সুন্দর কথা, কারো কষ্ট লাঘবের সামান্য চেষ্টা—এসবই আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমল।

নেক কাজের পরিমাণ নয়, আন্তরিকতাই তার সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।

“অণু পরিমাণ সৎকাজও যে করবে, সে তা দেখতে পাবে।”— সূরা আয-যালযালাহ ৯৯:৭

আল্লাহ আমাদের ছোট-বড় সব নেক আমল কবুল করুন। আমিন।

~সংগৃহিত।

23/06/2026

মাত্র ৩০০ টাকায় পাচ্ছেন ৪ টি বই 😮

১.নজরের হেফাজতে হৃদয়ের প্রশান্তি
২.রবের দিকে প্রত্যাবর্তন
৩.যে আমল আল্লাহর কাছে প্রিয়
৪.মুক্তির দশ আমল

সুন্দরবন কুরিয়ার চার্জ ফ্রি এবং অনেকগুলো বুকমার্ক ফ্রী

( সেরা পাবলিকেশনের বড় বড় বুকমার্ক থাকবে সাথে )

22/06/2026

১ মিনিট রিপ্লাই দিতে একটু লেট হলে আমাদের সাথে যা হয়😂
©

22/06/2026

🎁 ছোট্ট উপহার 🎁

আপনি আমাদের পেইজে নিয়মিত লাইক, রিয়েক্ট ও কমেন্ট করে অনেক সাপোর্ট করেন। আপনার এই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা হিসেবে সামান্য টাকার একটি মোবাইল রিচার্জ উপহার দিতে চাই। 😊

অনুগ্রহ করে ইনবক্সে আপনার মোবাইল নম্বর ও অপারেটরের নাম পাঠিয়ে দিন।

ধন্যবাদ, RaiSum এর পাশে থাকার জন্য। ❤️

22/06/2026

যারা আয়িশা (আলীর আম্মুর) আপুর বিষয়ে জানতে চাইছিলেন তাদের জন্য আমি গল্প টা খুজেঁ দিলাম কয়েকটা পার্ট আছে কমেন্টে দিয়েদিচ্ছি পড়েনিয়েন ইনশাআল্লাহ .........

২০১৯সালের পচিশ রমজান। আজকে আমাকে পাত্রপক্ষ দেখতে আসবে। পাত্র সম্পর্কে তার পরিবার থেকে জেনেছি,সে খুব নম্র ভদ্র, অত্যন্ত সুদর্শন, আলিম মুআদ্দিব এবং বর্তমানে একটি মাদ্রাসার মুহতামিম। ঢাকায় দুটি বিল্ডিং আছে তার বাবার।আমার এবং আমার পরিবারের সবাই পছন্দ করেছে তাকে। তাই আজ তাদের আমাকে দেখতে আসার ইজাজত দেওয়া হয়। যদিও ইতিপূর্বে বহু পাত্র পক্ষকে আমার পরিবার ফিরিয়ে দিয়েছেন কোনো না কোনো দিক পছন্দ না হওয়াতে কিন্তু এবারের পাত্রের সকল কিছু পছন্দ হয়েছে তাদের।

আমার সম্পর্কে বলে রাখি, বাহ্যিক সৌন্দর্যের দিক থেকে আল্লাহ আমার মধ্যে কোনো কমতি রাখেননি আলহামদুলিল্লাহ। এমনকি পুরো মাদ্রাসার মধ্যে সব থেকে সুন্দরী বলা হয় আমাকে। আর মেধার দিক থেকে জামাতের ফাস্ট/সেকেন্ড ছাত্রী আমি। দাওরায়ে হাদিসের পরিক্ষা দিয়েছি এক মাস+ হলো।
পরিক্ষার পর পরই প্রস্তাব আসে যদিও এখনো বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছাইনি। ষোলো বছরে পা দিয়েছি কেবল। অবশ্য আমার মেঝপুর বিয়ের পর থেকেই প্রস্তাব আসছিল,শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাবেই পরিবার রাজি হন।

তারা আসেন,খাওয়া দাওয়া করেন। পাত্রের মা বোনেরা আমাকে ডাকেন, দেখা করি তাদের সাথে। ও হ্যাঁ, পাত্রের তিন বোনের প্রথম বোন আমার সাথে পড়েছিল কয়েক বছর আগে। তাছাড়া পাত্রের বাকি দু'বোন এখনো আমি যেখান থেকে পড়াশোনা করেছি সেখানেই পড়ছে। সেই হিসেবে তারা আমাকে খুব ভালো ভাবে চিনে,যদিও তাদের আমরা খুব বেশি চিনি না।

যাই হোক আমার সাথে টুকটাক কথা হয় পাত্রের মা বোনের। কিছুক্ষণ পর তারা পাত্রের সাথে আমাকে দেখা করার কথা বলেন।
অত্যন্ত ভয় আর লজ্জায় প্রথমে যাওয়ার সাহস হয়নি। এক প্রকার টেনে নিয়ে যাওয়া হয় আমাকে। পাত্র আমাকে কোনো প্রশ্ন করেনি। আমি তো মাথা উচু করে তাকাতেই পারলাম না লজ্জায়। অপেক্ষায় আছি কখন বের হয়ে আসব এ রুম থেকে!

দেখাদেখি হওয়ার পর তারা বাসায় চলে যান। যাওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে তারা কল দিয়ে জানান আমাকে তাদের খুব পছন্দ হয়েছে, বিয়ের তারিখ ঠিক করতে চাচ্ছেন। ইদের পর পরই যেন বিয়েটা হোক, এটা তারা চাচ্ছেন। আমার পরিবার তাদের কাছে সময় চান,বলেন মেয়ের বয়স কম। কিন্তু তাদের এক প্রকার জোরাজোরিতে রাজি হয়ে যান আমার পরিবার। মন মত পাত্র কেই বা হাতছাড়া করতে চায়!

আমার বিয়ের প্রথম থেকে সব কথা বার্তা দু পরিবারের মধ্যেই হচ্ছে, ঘটকের মাধ্যমে না। তাই নিজেরা কথা বলে ইদের দু'দিন পর বিয়ে করেন। বিয়ের তিন দিন আগে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয় মোহরের বিষয়ে,তারা মোহরে ফাতেমি বলেন এবং খুব কঠিন ভাষা ব্যবহার করে বলেন,রাজি হলে মেয়ে বিয়ে দেন নতুবা বিয়ে বাতিল করেন।

আমার পরিবার বেশি তাদের এমন কথাতে অবাক হন। কারণ তাদের আর্থিক অবস্থা এবং পাত্রীর দিক থেকে এটা সামান্য মোহর। তাছাড়া প্রাথমিক কথাতেই এমন কর্কশ ব্যবহার পছন্দ হয়নি আমাদের। তবে শেষে বাবা বলেন এত সামান্য বিষয় নিয়ে দু পরিবারের মধ্যে মনমালিন্য সৃষ্টির দরকার নেই। মোহরে ফাতেমিই থাকুক।

তাদের বাড়ি থেকে পচিশজন আসবে বলে জানান পাত্রপক্ষ। এর পর দিন কল দিয়ে জানান ত্রিশজন,তার কিছু সময় পর জানান পয়ত্রিশজন। এভাবে তারা এক সময় বলেন পঞ্চাশজন। তাদের এভাবে সংখ্যা বাড়ানো আর নিশ্চিত না করে এভাবে বলাতে আমার পরিবারের সবাই একটু মনঃক্ষুণ্ন হন। এভাবে ইদ এবং ইদের পর দুদিন কেটে যায়।

জুন মাসের নয় তারিখ। আমাদের ইজাব কবুল হয়। বিয়ে পড়ান আমার বাবার মামা। খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষ হয়, অবশেষে শশুড় বাড়িতে যাওয়ার সময় হয়ে এলো। পরিবারের ছোট মেয়ে আমি,সবার কান্না মুখ। গাড়িতে বসি নতুন স্বপ্ন নিয়ে নতুন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। নতুন বাড়িতে প্রবেশ করার পর শাশুড়ি মায়ের সাথে দেখা করি, মুসাফাহা করি। কিন্তু তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বেশ বেজার। ভাবলাম হয়ত এত ঝামেলার কারণে তিনি ক্লান্ত।

পরদিন সকালে তারা ওলিমা করেন। আমাদের বাসা থেকে পনেরো /ষোলোজন আসেন আমার শশুর বাড়িতে। সকালে শাশুড়ি মায়ের সাথে কথা বলার সময়ও দেখলাম তিনি এখনো মন খারাপ করে আছেন। বিয়ের আগের তার হাস্যজ্বল চেহারা দেখতে পাচ্ছিনা। আমার মা বোনেরা আসেন,আমাকে বোনেরা জিজ্ঞেস করে "গিফট কি দিয়েছে তোকে?" আমি অবাক হলাম কিসের গিফট দিবে? ওরা বলল,কেন প্রথম রাতে তো গিফট দেওয়া হয়! তোকে দেয়নি? আমি অবলা প্রাণীর ন্যায় মাথা নাড়িয়ে না সূচক জবাব দিলাম। ওরা হাসল। কিন্তু আমি জানতামই না এ বিষয়ে।

যাই হোক,এর পর আমাদের বাসায় আসলাম, এর কিছু দিন পর শশুর বাড়িতে ফিরে যাই।উনার কিছু দিন পর মাদ্রাসা খোলা চলে যাবেন।
অবশেষে তার যাওয়ার দিন চলে আসে। দুজনেরই মন খারাপ হয়। আমাদের মধ্যে সবকিছু ঠিকঠাক আছে। এভাবে সময় চলতে থাকে। তিনি এক সপ্তাহ পর পর বাসায় আসতেন যেহেতু তার মাদ্রাসা বাসা থেকে দুরে। এক মাসের পার হয়ে যায় আমাদের বিয়ের। আমি তখনও জানি তিনি মাদ্রাসার মুহতামিম!

এক মাস পার হওয়ার কিছু দিন পর তার মধ্যে আমি অন্য রকম আচরণ লক্ষ্য করি,কেমন যেন কথাবার্তা, খব কঠিন কথা, বিভিন্ন আকার ইঙ্গিতে উপহার নামক যৌতুকের আবদার ইত্যাদি। তার কিছু দিন পর তিনি একটু দুরে দাড়িয়ে কিছু একটা করছিলেন,আমি আলমারি গোছাচ্ছি, দুজনেই কথা বলছিলাম, কথার মাঝে তিনি এক বানরের গল্প দিয়ে উদাহরণ দিচ্ছেন, মেয়েরা বানরের মত, বেশি সুযোগ দিলে বানরের মত মাথায় উঠে বসে।

তখন আমি হেসে তার দিকে ওষুধের একটি কাগজ দুষ্টুমির ছলে নিক্ষেপ করি, কাগজটি তার পাশে পড়ে,গায়ে লাগেনি। তখন তিনি আমাকে ডাক দিলেন এদিকে আসো, কাছে গিয়ে দাড়ালাম। আমাকে অবাক করে তিনি জোরে এক চড় মারেন আমার গালে। আমি হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছি তার দিকে। চোখ দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়ে যায়। কোন অপরাধে এত বড় শাস্তি বুঝতে পারছি না। সাথে সাথে তিনি বলে উঠেন "এবার তাও আস্তে দিলাম,সামনে থেকে এমন হলে আরো জোরে দিব।" আমি বুঝে যাই আমার এমন দুষ্টুমি করা উচিত হয়নি। কিন্তু এর জন্য এমন শাস্তি প্রিয় মানুষের থেকে! বাকরুদ্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকি অপরাধীর ভঙ্গিতে। চোখ দিয়ে পানি পড়েই যাচ্ছে।

গল্প: শুকনো ফুল
গল্পকার: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
পর্ব:১

Want your business to be the top-listed Beauty Salon in Tangail?
Click here to claim your Sponsored Listing.

Website

Address

Mirjapur
Tangail