Health Benefits

Health Benefits

Share

This page all about health, nutrition, food medicine and education-related information and tips. you can learn any health-related topics. Thanks.

visit healthbenifits.org healthbenifits.org this website create to discuss health-related information educational purpose. This website is for people of all ages, for people of all countries, for all gender. People are aware of their health but many people are indifferent to their health. We aim to make people aware of their health. We will try to improve people’s health through daily food. We will discuss the health benefits of foods such as fruits, vegetables, spices, food supplements. Also, We will discuss Medicine related topics. We will inform you about different health news and we will discuss all those news. Besides, we will discuss various health-related issues such as medical, medical educational institutions, doctors, health insurance and health-related products etc. On this website, we will discuss the nutritional value and benefits of different foods. We aim to inform people about the real nutritional value and benefits of the foods they eat every day. We eat a lot of food every day knowingly or unknowingly with health benefits, but we don’t know much about the nutritional value of those foods. Moreover, we will discuss various health-related issues. We have collected the information on this website from different doctors, from different books, from different articles and different online websites. We verify and publish all the information together. We try to make sure that our articles are accurate and unique. However, if there is any mistake, please contact us in the mail and we will verify and fix it. Please read our information and consult a doctor before applying it to yourself. Healthbenifits.org will not be liable if you suffer any loss. Stay with us, support us and help us create more content by forgiving our mistakes. We will constantly update our information. for any question or advice please contact us by email and message our page.

14/12/2022

বাঁশের অঙ্কুরের পুষ্টি গুণ ও উপকারীতা
সাধারণত বাঁশ আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি। যেমন বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ,বিভিন্ন আসবাবপত্র নির্মাণ,ছোটখাটো ব্যবহারের জিনিসপত্র এবং জ্বালানি কাঠ হিসেবে আমরা বাঁশ ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু বাঁশের একটি অংশ যে খাওয়া যায় এবং এর পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা আমরা অনেকেই জানিনা।

আজকে আমরা আলোচনা করব বাঁশের অঙ্কুরের পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা সম্পর্কে
বাঁশের অঙ্কুর হল বাঁশগাছের কচি কান্ড মুকুল। ব্যাম্বু শুট পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসী জনগোষ্ঠির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় সবজি যার বহুবিধ ঔষধীগুণ রয়েছে।

ব্যাম্বু শুট হল বাঁশগাছের কচি কান্ড মুকুল যার বয়স ২ সপ্তাহ হওয়ার আগে অথবা উচ্চতা ১ ফুট হওয়ার আগে সবজি হিসেবে তুলে নিতে হবে। এর মুচমুচে টেক্সচারের জন্য অনেক মানুষ এটি খেতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে একটি মিষ্টি গন্ধও আছে। এশিয় দেশগুলি যেমন জাপান, কোরিয়া , চিন, থাইলাযান্ড, ফিলিপাইন্স, নেপাল সহ ভারতের কিছু কিছু জায়গার মানুষ এটিকে অনেকদিন ধরেই সবজি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ব্যাম্বু শুটে প্রচুর পরিমানে নানান পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। আবার এটিতে ক্যালোরী ও ফ্যাটের পরিমান খুবই কম। তাছাড়া এই সবজিতে আছে প্রচুর ফাইবার ।

ব্যাম্বু শুটের পুষ্টি উপাদান
আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা ব্যাম্বু শুটের
প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে। ব্যাম্বু শুটের সব প্রকার
ভিটামিন বি রয়েছে। নিচে প্রতি ১০০ গ্রামে ব্যাম্বু শুটের পুষ্টিগুণ দেয়া হল।

- ক্যালোরী ৪২%,
- ভিটামিন বি ২ = ০.৭ মিলিগ্রাম,
- ভিটামিন বি ৩ = ০.৬ মিলিগ্রাম,
- ভিটামিন বি ৫ = ০.১৬১ মিলিগ্রাম,
- ভিটামিন বি ৬ = ০.২৪ মিলিগ্রাম,
- ভিটামিন বি ৯ = ৭.০০ মাইক্রোগ্রাম,
- ভিটামিন সি = ৪ মিলিগ্রাম
- ভিটামিন ই = ১ মিলিগ্রাম,
- আয়রন = ০.৫ মিলিগ্রাম,
- ফসফরাস = ৫৯ মিলিগ্রাম,
- পটাশিয়াম = ৫৩৩ মিলিগ্রাম,
- জিংক = ১ মিলিগ্রাম,
- ফ্যাট ০.৫ গ্রাম,
- স্যাচুরেটেড ফ্যাট ০.১ গ্রাম,
- পলি স্যাচুরেটেড ফ্যাট ০.২ গ্রাম,
- মোনো স্যাচুরেটেড ফ্যাট ০%,
- সোডিয়াম ৬ মিলি গ্রাম,
- কার্বোহাইড্রেট ৮ গ্রাম,
- প্রোটিন ০.৯ গ্রাম,
- ক্যালসিয়াম ৮ গ্রাম,
- ম্যাগনেশিয়াম ১%।

ব্যাম্বু শুটের নানা উপকারীতা ঃ

কোলেস্টেরল কমায় - ব্যাম্বু শুটে প্রচুর পরিমানে ফাইবার থাকার কারণে এটি রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। নিয়মিত বাঁশের কোড়ল খাওয়া হলে এটি খারাপ কোলেস্টেরলের (LDL – Low Density Lipoprotein) মাত্রা কমায়।
হার্টের রোগীদের জন্য উপকারী - ব্যাম্বু শুটে উপস্থিত ফাইটো নিউট্রিয়েন্টগুলি আমাদের হার্টকে সুস্ব্য রাখে এবং খারাপ LDL কোলেস্টেরলকে রক্তে দ্রবিভূত হতে দেয় না। এতে উপস্থিত পটাশিয়াম হার্ট বিট স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
ওজন কমাতে সহায়তা করে - ব্যাম্বু শুটে ক্যালোরী ও ফ্যাটের পরিমান অত্যন্ত কম থাকে আর ফাইবারের পরিমান বেশি থাকে। যারা নিজেদের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ খাবার। এতে উপস্থিত ফাইবার পেট ভর্তি রাখে আর খিদে কমায়।

ক্যানসার প্রতিরোধী - এতে উপস্থিত ফাইটোনিউট্রিয়েন্টসগুলি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ, যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এই অক্সিডেটিভ স্ট্রেস আমাদের শরীরের কোশে অবস্থিত ক্রোমোজোমের DNA গুলির ক্ষতি সাধন করে ক্যানসার ঘটায়। এতে উপস্থিত সামান্য পরিমান ক্লোরোফিল কোষের মিউটেশনে বাঁধা দিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

ব্যাম্বু শুট সবজি হিসেবে নিয়মিত খেলে এটি শরীরের যে কোন অংশের প্রদাহ কমাতে পারে। ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসের আক্রমণ জনিত প্রদাহ কমে যায় এটি নিয়মিত ডায়েটে রাখলে।

কোষ্ঠো কাঠিন্য দূর করে - ব্যাম্বু শুটে উপস্থিত ফাইবার গুলি বৃহদন্ত্র থেকে মুত্রের নির্গমন সহজতর করে কোষ্ঠোকাঠিন্য দূর করে।
রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় – এতে বিভিন্ন প্রকারের খনিজ ও ভিটামিন থাকার কারণে এটি রোগপ্রতিরোধে সহায়তা করে।

এটি শ্বাস প্রশ্বাসের প্রদাহ জনিত রোগ প্রশমন করে। ব্যাম্বু শুট সেদ্ধ করা জলের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে গলা বসা বা ব্যাথায় আরাম পাওয়া যায়।
এটি হজমশক্তি বাড়ায়।
ক্ষত তাড়াতাড়ি প্রশমিত করে।
ত্বক মসৃণ ও উজ্জ্বল রাখতে সহায়তা করে।
স্ক্লেরোসিস রোধ করে – এটি রক্ত সংবহনতন্ত্রে কোলেস্টেরল জমতে দেয়না ফলে রক্তের প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে হৃদরোগ কম হয়।
হাড় শক্ত করে – এতে যে পরিমান ক্যালসিয়াম থাকে তা আমাদের অস্থিতন্ত্রকে মজবুদ রাখতে সহায়তা করে।
রক্তাল্পতা কমায় – এতে উপস্থিত লৌহ রক্তাল্পতা কমাতে সহায়তা করে।

13/12/2022

health benefit of moringa

12/12/2022

চুই ঝালের উপকারিতা সম্বন্ধে সম্যক ধারণা দিতেই আমার এই লেখা। চুই লতা জাতীয় গাছ। এর কাণ্ড ধূসর এবং পাতা পান পাতার মতো, দেখতে সবুজ রংয়ের। চুইঝাল খেতে ঝাল হলেও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ঔষধি গুণ।

চুইলতার শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল- ফল সবই ভেষজ গুণসম্পন্ন। এছাড়াও মসলা হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়। তবে ঝাল হিসেবে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় হাঁসের মাংস ও গরুর মাংস রান্না করতে।

মূলত,রান্নার জন্যে চুইঝালের কাণ্ড ব্যবহার করা হয়। চুইঝালে দশমিক ৭ শতাংশ সুগন্ধি তেল থাকে। এছাড়াও এতে রয়েছে আইসোফ্লাভোন, অ্যালকালয়েড, পিপালারিটিন, পোপিরন, পোলার্টিন, গ্লাইকোসাইডস,মিউসিলেজ, গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সিজামিন, পিপলাস্টেরল থাকে।

চুই এর শিকড়ে রয়েছে ১৩.১৫ শতাংশ পিপারিন।

আসুন এবার জেনে নিই চুইঝালের উপকারিতা।

সমূহরুচি বাড়াতে

সমূহরুচি বাড়াতে খাবারের রুচি বাড়াতে ও ক্ষুধামন্দা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে

এতে প্রচুর পরিমাণে আইসোফ্লাভোন ও অ্যালকালয়েড নামক ফাইটোক্যামিকাল রয়েছে যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং ক্যানসার প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

হৃদরোগ প্রতিরোধে

দেহে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে এটি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

পাকস্থলীর সমস্যা দূরীকরণে

পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ দূর করে। তাছাড়া গ্যাস্ট্রিক ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

মানসিক প্রশান্তিতে

স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমন করে।

ব্যথা দূর করতে

আমাদের শরীরের বিভিন্ন ধরনের ব্যথা দূর করে শরীর সতেজ রাখতে সহায়তা করে।

ঘুমের ওষুধ হিসেবে

এটি ঘুমের ওষুধ হিসেবে কাজ করে এবং শারীরিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে।

প্রসূতি ব্যথা

প্রসূতি মায়ের প্রসব-পরবর্তী ব্যথা প্রশমনে ভালো কাজ করে চুইঝাল। সদ্যপ্রসূতি মায়েদের শরীরের ব্যথা কমাতে চুইঝাল ম্যাজিকের মতো কাজ করে।

অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ হিসেবে

অ্যাজমা ও ব্রংকাইটিস রোগের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে চুইঝাল বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকজনিত রোগপ্রতিরোধে সাহায্য করে।

সুতরাং, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে মরিচের বিকল্প হিসেবে চুইঝালের জনপ্রিয়তা বাড়লে দেশের হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে ভেষজ গুণ থাকার কারণে অনেক রোগব্যাধির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

12/12/2022

লিভারের চর্বি গলানোর ঘরোয়া চিকিৎসা ! সুস্থ থাকতে চাইলে লিভারের চর্বি গলিয়ে ফেলুন

আজকাল অনেকেই লিভারে চর্বি (ফ্যাটি লিভারে) রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।লিভারের এই রোগটি প্রাণ সংশয়ের কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে।

শরীরে চর্বি বিপাকপ্রক্রিয়ার অসামঞ্জস্য এবং ইনসুলিন অকার্যকারিতার জন্য লিভারের কোষগুলোতে অস্বাভাবিক চর্বি, বিশেষ করে ট্রাইগ্লিসারাইড জমে। এতে লিভারের ওজন হিসেবে ৫ থেকে ১০ শতাংশ চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনাচরণ ও খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব রয়েছে এ সমস্যার মূলে। অ্যালকোহল সেবনকারী এবং স্থূল ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭৫ শতাংশ। নারী-পুরুষ উভয়ই এতে আক্রান্ত হতে পারেন। শিশু-কিশোররাও এ থেকে মুক্ত নয়।লিভারে চর্বি বা চর্বিজনিত রোগ মোটা দাগে দুই রকম অ্যালকোহলজনিত এবং অন্যান্য কারণজনিত।

উভয় ক্ষেত্রেই, সাধারণ চর্বি জমা থেকে শুরু করে রোগটি নানা জটিল ধাপে অগ্রসর হতে পারে, যেমন- লিভারে প্রদাহ, প্রদাহজনিত ক্ষত বা সিরোসিস, লিভারে অকার্যকারিতা ইত্যাদি। অ্যালকোহলজনিত কারণে এ থেকে যে সিরোসিস হয়, তাতে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি, প্রায় ১০ শতাংশ।

যখন এই চর্বিযুক্ত সেলগুলো লিভার টিসুদের বাধা দেয়, তখনই লিভার ধীরে ধীরে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এমন কী এই ধরনের পরিস্থিত তৈরি হলে কোনও কোনও ক্ষেত্রে লিভার ফুলতেও শুরু করে।লিভারে মেদ জমা যদি ঠিক সময়ে আটকানো না যায় তাহলে তা থেকে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি ও কারণগুলোকে কেবল প্রতিরোধের মাধ্যমেই এ রোগের প্রতিকার সম্ভব। কেননা রোগটির কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

তবে আশাহত হবেন না। ঠিক সময়ে যদি চিকিৎসা শুরু করা যায় তাহলে লিভারের রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠা যায়। তবে এমন কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা আছে যা অনুসরণ করলে লিভারের চর্বি গলে এই রোগ থেকে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

লেবুরত :প্রতিদিন লেবু রত পানের অভ্যাস করুন। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- সি থাকে, যা লিভারকে দূষণমুক্ত করতে সাহায্য করে।

গ্রিন-টি :প্রতিদিন সকালে ও বিকালে এক কাপ করে গ্রিন-টি পান করুন। এটি লিভার ফাংশন ঠিক করতে সাহায়তা করে।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার : এক কাপ গরম পানিতে কেয়েক ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন খাবার আগে পান করুন। কয়েক মাস এটা খেলেই দেখবেন লিভারে জমে থাকা চর্বি সব গায়েব হয়ে গেছে।

আদাপানি:এক চা চামচ আদা গুঁড়া গরম পানিতে মিশিয়ে দিনে দুবার পান করুন। এই পানীয় টানা ১৫ দিন খেলেই দেখবেন অনেক সুস্থ বোধ করছেন। কারণ এটি লিভারে চর্বি জমার প্রক্রিয়াটি প্রায় বন্ধ করে দেয়। ফলে লিভার আস্তে আস্তে ঠিক হতে শুরু করে।

আমলার রস:আমলায় ভিটামিন-সি থাকায় এটি লিভারকে দূষণমুক্ত করে। তাই লিভারের অসুখে আক্রান্ত রোগী যদি টানা ২৫ দিন এই রস, এক চামচ করে প্রতিদিন সকালে খান, তাহলে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

12/12/2022

ইদানিং কালে বিশ্ব জুড়়ে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে স্তন ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা। সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত না জানা গেলেও এটি প্রধানত জিনগঠিত রোগ বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সেই সঙ্গে লাগামহীন জীবনযাত্রাও কিন্তু প্রভাব ফেলে স্তন ক্যানসারে।

গ্লোবক্যান ২০২০ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সারা বিশ্বে প্রতি চারজন নারীর একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। সাধারণ মানুষের মধ্যে ১২ শতাংশ নারী তাঁদের জীবনের কোনো এক সময়ে স্তন ক্যানসারে ভোগেন। স্তন ক্যানসারের হার উন্নত দেশগুলোতে বেশি, কিন্তু মৃত্যুহার বেশি উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।

অল্প ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে নারীদের স্তন ক্যানসারের সঙ্গে সঙ্গে জরায়ুর ক্যানসারের সংখ্যাও বেড়ে যাচ্ছে। অনুন্নত দেশগুলোতে স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত নারীদের চিত্র আরও ভয়াবহ, দুর্দশাগ্রস্ত ও মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার কারণে স্তন ক্যানসারের সঠিক ধরন নির্ণয় না করে নামমাত্র চিকিৎসা দেওয়ার কারণে মৃত্যুসংখ্যা বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত ও সঠিক পরীক্ষা হলে প্রতিবছর হাজার হা্জার জীবন বাঁচানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি আটজনের মধ্যে একজন স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত। প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সঠিক চিকিৎসার কারণে বর্তমানে ২ দশমিক ৯ মিলিয়নের বেশি স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত মার্কিন নারী বেঁচে আছেন।

বিশ্বজুড়েই বাড়ছে স্তন ক্যানসারের প্রকোপ। বেশ কম বয়স থেকেই আজকাল মেয়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন স্তন ক্যানসারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় সচেতনতা এখনও গড়ে ওঠেনি সকলের মধ্যে। অনেকেই এই সমস্যা নিয়ে কথা বলতে কুন্ঠা বোধ করেন। ঠিক কোন বয়স থেকে স্তন স্ক্রিনিং করানো উচিত এই নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। স্তনের যে কোনও সমস্যার জন্য ম্যামোগ্রাফি পরীক্ষা করানো হয়। সাধারণত ৩০ পেরোলেই সব মহিলাদের বছরে অন্তত একবার এই পরীক্ষা করানোর কথা বলা হয়। তবে এই ম্যামোগ্রাফি পরীক্ষাই কিন্তু একমাত্র নয়। এছাড়াও নানা পদ্ধতি রয়েছে। কয়েক দশক ধরে বিশ্বজুড়েই স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে চলছে নানারকম প্রচারমূলক অভিযান। স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি, প্রাথমিক লক্ষণ এসব বিষয়ে মহিলাদের সচেতন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

যে কারণে সব বিশেষজ্ঞই জোর দেন বছরে একবার অন্তত ম্যামোগ্রাফি করানোর জন্য এছাড়াও প্রতিটি মেয়ের উচিত নিজের স্তন পরীক্ষা করা। স্তনে কোনও রকম অস্বাভাবিকতা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এখানে লজ্জা কিংবা ভয়ের কোনও ব্যাপার নেই। বরং ফেলে রাখলে আরও অনেক বেশি জটিল হতে পারে সমস্যা। এছাড়াও বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল টেস্ট, আলট্রা সাউন্ড এসব তো আছেই।

স্তন ক্যানসার যে কোনও বয়সে যে কারোর হতে পারে। আর এই ক্যানসার কেন হয় তার সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। কিছুক্ষেত্রে জিনগত প্রভাবও থাকে। অর্থাৎ যাঁর বাড়িতে দিদা-ঠাকুমা বা তারও আগে যদি কেউ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে থেকে যায় সেই সম্ভাবনা। এছাড়াও যাঁদের ওবেসিটি রয়েছে, পিরিয়ডস সংক্রান্ত নানা সমস্যা রয়েছে কিংবা দেরিতে গর্ভধারণ বাড়িয়ে দেয় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি। এছাড়াও যাঁরা নিয়মিত ভাবে মদ্যপান, ধূমপান করেন তাঁদের ক্ষেত্রেও থেকে যায় এই সব সম্ভাবনা। সম্প্রতি দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এমনটাই।

স্তন ক্যান্সার কি বা স্তন ক্যান্সার কাকে বলে?

দেহের অন্যান্য স্থানের মতো স্তনে অস্বাভাবিক কোষ বাড়ার কারণে কোনো চাকা বা পিণ্ডের সৃষ্টি হলে তাকে টিউমার বলে। বিনা প্রয়োজনে অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজন থেকেই মূলত এর সৃষ্টি। স্তনে টিউমার দুই ধরনের হয়। বিনাইন টিউমার, যা ক্ষতিকারক নয়। এটা উৎপত্তিস্থলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। দূরের বা কাছের অন্য কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে না। আরেকটা হচ্ছে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার, যা আগ্রাসী বা ক্ষতিকর। এই টিউমার উৎপত্তিস্থলের সীমানা ছাড়িয়ে আশপাশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বা গ্রন্থি আক্রান্ত করে, এমনকি রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে দূরের কোনো অঙ্গে আঘাত হানতে পারে।

স্তনের ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই ক্যান্সার
স্তন ক্যান্সার সাধারণত স্তনের দুধ বাহিত নালিতে হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য টিস্যু থেকেও শুরু হতে পারে। একটি পিণ্ড বা চাকা হিসেবেই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটি প্রথম ধরা পড়ে। ধীরে ধীরে বড় হয়ে শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। স্তনের সঙ্গে কাছাকাছি বগলতলার লসিকা গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ডগুলোর খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় এগুলোতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।

ঝুঁকি বা রিক্স ফ্যাক্টর
জেন্ডার বা লিঙ্গ : পুরুষেরও স্তন ক্যান্সার হতে পারে। তবে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা শতগুণ বেশি।

বয়স : বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। পশ্চিমা বিশ্বে সাধারণত ৫০ বছর বয়সের পর ঝুঁকি বেশি বাড়ে। তবে অজানা কারণে আমাদের দেশে ৪০ বছরের পরই বেশি দেখা যায়।

জিনগত : বিআরসিএ-১ ও ২ নামের জিনের অস্বাভাবিক মিউটেশন ৫ থেকে ১০ শতাংশ দায়ী স্তন ক্যান্সারের জন্য।

বংশগত : কারো পরিবারের কোনো নিকটাত্মীয় যেমন মা, খালা, বড় বোন বা মেয়ে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকলে তাঁরও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

পিরিয়ড/মাসিক : ১২ বছর বয়সের আগে যেসব নারীর পিরিয়ড শুরু হয় এবং ৫০ বছর বয়সের পর পিরিয়ড বন্ধ হয়, তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

পরিবর্তনযোগ্য ঝুঁকি
সন্তান সংখ্যা : নিঃসন্তান নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

বেশি বয়সে সন্তান ধারণ : ৩০ বছর বয়সের পর বিয়ে এবং প্রথম সন্তানের মা হওয়া স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্রেস্ট ফিডিং না করানো : সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানোর অভ্যাস স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

খাদ্যাভ্যাস : শাক-সবজি ও ফলমূল কম খেয়ে চর্বি ও প্রাণিজ আমিষ জাতীয় খাবার বেশি খেলে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।

ওজন : অতিরিক্ত ওজন এবং কায়িক পরিশ্রমের অনভ্যাস এর ঝুঁকি বাড়ায়।

এ ছাড়া অন্যান্য কারণের মধ্যে আছে—তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, তামাকজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার, স্তনে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকা ইত্যাদি।

স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলি হল-
স্তনে ব্যথা- নানা কারণে কিন্তু স্তনের পেশিতে ব্যথা হতে পারে। বিশেষত পিরিয়ডসের আগে কিংবা পরে এই সব সমস্যা থাকে। কিন্তু যদি দেখেন যে স্তনে কোনও লাম্ফ হয়েছে, কোনও জায়গায় শক্ত বোধ হচ্ছে, সেই জায়গা টিপলে ব্যথা করছে তাহলে কিন্তু যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যান।

স্তনবৃন্ত থেকে কোনও তরল নির্গত হলে- যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন কিংবা সন্তানকে স্তন্যপান করান তাঁদের ক্ষেত্রে তিন বছর বয়স পর্যন্ত এই লক্ষণ থাকে। স্তন্যপান করানোর জন্যই স্তনবৃন্ত থেকে তরল নির্গত হয়। কিন্তু যিনি স্তন্যপান করান না তাঁর ক্ষেত্রে যদি এই লক্ষণ দেখা যায় তাহলে তা কিন্তু মোটেই সুবিধের নয়। আর সেই নিঃসৃত তরলের মধ্যে রক্ত মিশে থাকলে তা শরীরের জন্য আরও বেশি উদ্বেগের।

স্তনের রং এবং আকৃতির পরিবর্তন- স্তনের রং যদি পরিবর্তন হতে থাকে, লালচে ভাব, চুলকানি এসব তাকে তাহলে কিন্তু প্রথম থেকেই সাবধান হতে হবে। সেই সঙ্গে নজর রাখুন স্তনের আকৃতিতেও। হঠাৎ করেই যদি কোনও পরিবর্তন আসে কিংবা স্তন ফুলে যায় তাহলে কিন্তু তা হতে পারে ক্যানসারের লক্ষণ। যে কারণে নিজে থেকে পরীক্ষা করানো এত জরুরি।

এছাড়াও স্তনে অতিরিক্ত কোনও মাংসপিণ্ড হলে এবং তা স্তনের বাইরের দিকে প্রসারিত হলে সতর্ক হন। যদি বগলে অতিরিক্ত মাংসপিণ্ড হয়, বগলের আশপাশে ফোলা, ব্যথা ভাব থাকে তাও কিন্তু হতে পারে স্তন ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কি।

পরীক্ষা

দুটি উপায়ে প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যান্সার নির্ণয় করা যায়। কোনো লক্ষণ টের পেলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত। আবার যাঁদের মধ্যে লক্ষণ নেই কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে তাঁদের মধ্য থেকে রোগী শনাক্ত করা উচিত।

স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং
যাঁদের লক্ষণ দেখা দেয়নি কিন্তু ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি, সহজ কোনো পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁদের মধ্য থেকে রোগী খুঁজে বের করার নাম ক্যান্সার স্ক্রিনিং। স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার প্রধানত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।

♦ মেমোগ্রাম বা বিশেষ ধরনের এক্স-রে। এর সাহায্যে স্তনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে।

♦ ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন বা চিকিৎসক দিয়ে স্তন পরীক্ষা।

♦ সেল্ফ ব্রেস্ট এক্সামিনেশন বা নিজে নিজের স্তন পরীক্ষা।

মেমোগ্রাম
উন্নত দেশে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিংয়ে প্রধানত মেমোগ্রামকে বেছে নেওয়া হয়। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের এক, দুই বা তিন বছর পর পর নিয়মিত এই পরীক্ষা করা হয়। এটি একটি বিশেষ ধরনের এক্স-রে, যার মাধ্যমে স্তনে খুব ছোট চাকা বা অন্যান্য অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে। এই পদ্ধতি তুলনামূলক ব্যয়বহুল এবং খুব সহজলভ্য নয় বলে উন্নয়নশীল দেশে অন্য পদ্ধতিগুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়।

ক্লিনিক্যাল ব্রেস্ট এক্সামিনেশন
চিকিৎসক বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী দিয়ে স্তন পরীক্ষা করাকে ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন বলে। চিকিৎসক স্তন ও বগলতলায় কোনো চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন আছে কি না তা সুনির্দিষ্ট নিয়মে সযত্নে পরীক্ষা করে দেখেন।

নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা
একজন নারী নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করবেন। মাসের একটি নির্দিষ্ট দিনে যদি নিয়মিত নিজের স্তন ভালোভাবে পরীক্ষা করেন তাহলে যেকোনো ধরনের অসামঞ্জস্য বা পরিবর্তন নিজেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করতে পারবেন।

কিছু পরামর্শ

♦ ২০ বছর বয়স থেকে সারা জীবন প্রতি মাসে একবার নিজের স্তন পরীক্ষা করুন।

♦ অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন আপনার কাছে ধরা পড়লে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে স্তন পরীক্ষা করান।

♦ চিকিৎসক যদি কোনো চাকা বা পিণ্ড বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন শনাক্ত করেন, তাহলে তাঁর পরামর্শে মেমোগ্রাম, স্তনের আলট্রাসনোগ্রাম বা অন্য পরীক্ষাগুলো করানো উচিত।

মনে রাখবেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ।

স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য কিছু প্রধান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মহিলাদের 25 বছর বয়সে স্তন ক্যান্সার স্ক্রীনিং বাধ্যতামূলক। এটি প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তর্নিহিত উপসর্গ সনাক্ত করতে সাহায্য করে। সচেতনতার জন্য স্তনের স্ব-পরীক্ষা হল পিণ্ড এবং অন্যান্য স্তন সনাক্ত করে স্তনের অস্বাভাবিকতা বিশ্লেষণ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। উপসর্গ অ্যালকোহল সামগ্রী সীমিত করা স্তন ক্যান্সারের বিকাশের ঝুঁকি হ্রাস করে। নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমিয়ে পেশীকে শক্তিশালী করে। স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা অপরিহার্য। পোস্টমেনোপজাল হরমোন থেরাপি এড়ানো হয় কারণ এটি স্তন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।

স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ
১ আপনার বয়স 25 বা তার বেশি হলে স্তন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করা গুরুত্বপূর্ণ।

২ আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সারের অন্তর্নিহিত লক্ষণগুলি সনাক্ত করতে সহায়তা করে।

৩ স্ব-পরীক্ষা সচেতনতার জন্য আপনার স্তনের স্তনের স্ব-পরীক্ষা বিশ্লেষণ করুন। পিণ্ড এবং অন্যান্য স্তনের লক্ষণগুলি সনাক্ত করে আপনার স্তন বিশ্লেষণ করার এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি ।

৪ স্তন সচেতনতা আপনাকে স্তন ক্যান্সারের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং ইঙ্গিতগুলি পরীক্ষা করতে এবং সনাক্ত করতে সহায়তা করে।

৫ আপনার অ্যালকোহল সামগ্রী সীমিত করা স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

৬ নিয়মিত ব্যায়াম করুন। 30 মিনিটের জন্য নিয়মিত ব্যায়াম আপনার পেশী শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। এটি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় ।

৭ একটি স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখার উপর ফোকাস করুন। স্থূলতা স্তন ক্যান্সারের অন্যতম সাধারণ কারণ। এইভাবে, আপনার শরীরের জন্য সঠিক ওজন বজায় রাখা সুস্থ থাকার জন্য এবং স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৮ পোস্টমেনোপজাল হরমোন থেরাপি এড়িয়ে চলুন। পোস্টমেনোপজাল থেরাপি স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে।

৯ স্তন ক্যান্সারের সংস্পর্শ কমানোর জন্য হরমোন থেরাপির সীমিত মাত্রার পরামর্শ দেওয়া হয়।

12/12/2022

স্বাস্থ্য রক্ষায় হোক কিংবা ত্বক ও চুলের যত্নে, প্রত্যেক ক্ষেত্রে কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। এমনকি আমাদের রোজকার জীবনের অধিক ব্যবহৃত ফল
গুলির মধ্যে অন্যতম হল কলা। কলার অনেক গুনাগুন রয়েছে, যেগুলি খানিকটা জানলেও অনেকটাই হয়তো আমাদের অজানা। তাই আজ জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য এই ফলটি সম্পর্কে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এটি মূলত সবুজ এবং হলুদ দুই বর্ণের হয়ে থাকে। কাঁচা কলা সবুজ বর্ণ ধারণ করে এবং পাকা কলা হলুদ বর্ণ ধারণ করে। এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক ভাবে চাষ করা হয়ে থাকে। মূলত এটি নরম প্রজাতির হয়। বিশ্বের খাদ্য ফসল গুলির মধ্যে আর্থিক মূল্যের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে রয়েছে কলা। শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের মানুষের মধ্যে খুব জনপ্রিয় এই ফলটি। কলা সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি দিয়ে রান্নাও করা হয়ে থাকে। এমনকি কোথাও কোথাও রান্নায় আলুর প্রতিস্থাপন হিসেবেও এটি ব্যবহার হয়ে থাকে।

কলার পুষ্টিগুণাগুণ

গুণে সমৃদ্ধ ফল হলো কলা। এর পুষ্টিগুণ অধিক। এতে রয়েছে দৃঢ় টিস্যু গঠনকারী উপদান যথা আমিষ, ভিটামিন এবং খনিজ। কলা ক্যালরির একটি ভাল উৎস। এতে কঠিন খাদ্য উপাদান এবং সেই সঙ্গে পানি জাতীয় উপাদান সমন্বয় যে কোনো তাজা ফলের তুলনায় বেশি।

প্রতি ১০০ গ্রাম পরিমাণ কলার খাদ্যগুণ

পানি ৭০.১%, আমিষ ১.২%, ফ্যাট (চর্বি) ০.৩%, খনিজ লবণ ০.৮%, আঁশ ০.৪%, শর্করা ৭.২%, ক্যালসিয়াম ৮৫ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৫০ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স ৮ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন-সিও রয়েছে কলায়।

কলা যখন অতিরিক্ত পেকে যায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়। শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলা শরীরে শক্তি যোগায় এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দূর করতে সহায়তা করে।

আসুন জেনে নিন আপনার হাতের কাছে থাকা ফলটির উপকারিতা গুলি। কলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ার এটি সব বয়সীদের মধ্যে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, যা শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এছাড়াও কলা হার্টকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে। একটি কলার মধ্যে রয়েছে 467 মিলিগ্রাম পটাশিয়াম, 1 মিলিগ্রাম সোডিয়াম। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 রক্তাল্পতা এবং করোনারি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি হজমের উন্নতি ঘটিয়ে শরীরের ওজন হ্রাস করতে সহায়তা করে। এছাড়াও এটি শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর কাজ করে। দৈনন্দিন কলা গ্রহণ করলে শরীরে রক্ত শর্করার উন্নতি হওয়ার পাশাপাশি কোলন স্বাস্থ্য সুস্থ থাকে। কলা হল ম্যাগনেসিয়াম এর উৎকৃষ্ট উৎস, যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে উচ্চস্তরের ট্রাইপটোফোন। যা ডিপ্রেশন কমিয়ে মানসিক সুস্থতা প্রদান করে থাকে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 শরীরের সঠিক ঘুম হতে এবং অনিদ্রাভাব কমাতে সহায়তা করে। এরকম ভাবে বিভিন্ন উপায়ে কলা আমাদের উপকৃত করে থাকে।

Health Benefits of Banana

আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। আসুন জেনে নিন কিভাবে কলার সঠিক ব্যবহার করে আমরা সুস্থ থাকতে পারি।

হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার উপকারিতা :

হাভার্ড মেডিকেল স্কুলের একটি প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছে যে, পটাশিয়ামের পরিমাণ শরীরে যথাযথ না থাকলে সেক্ষেত্রে হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। কলা যেহেতু পটাশিয়াম সমৃদ্ধ একটি ফল তাই এটি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে কলার পরিমাণ নির্দিষ্ট রাখতে হবে। হৃদযন্ত্র মূলত তার সংকোচন-প্রসারণের ওপর শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে আর এই সংকোচন এবং প্রসারণ অনেকাংশে পটাশিয়াম এর উপর নির্ভর করে। হাই পোকাসিয়াম স্তর, হাইপোকলিমিয়া নামক দুটি উপাদানের কারণে হৃদযন্ত্র সঠিকভাবে তার হৃদস্পন্দন সম্পন্ন করতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দৈনিক একটি করে কলা খেলে হার্ট অ্যাটাকের সমস্যা কম থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত ধূমপান কম করে দৈনিক ব্যায়াম করলে এক্ষেত্রে সুস্থ থাকা যায়। হার্টের সুরক্ষায় থাকা পটাশিয়ামের বিভিন্ন উপাদান গুলিকে কলা সমৃদ্ধ করে এবং হৃদযন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে। সে ক্ষেত্রে হৃদযন্ত্র বন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। তাই স্বাস্থ্যকর হৃদয়ের জন্য দৈনিক একটি কলা খাওয়া প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, পটাশিয়াম রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। এর পাশাপাশি অবশ্যই আপনার শরীরের প্রয়োজন কতটা তা ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে সেই মতো দৈনিক গ্রহণ করবেন। কেননা অত্যধিক পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে আবার হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে চাইলে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা গ্রহণ করতে হবে এবং তার সাথে একটি সুস্থ জীবন পালন করতে হবে। কলার মধ্যে থাকা সোডিয়াম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখার পাশাপাশি কিডনিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়াও কলা রক্তকে পরিশুদ্ধ করতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম, সোডিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান গুলি রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি এটি শরীরের রক্তচাপ কেও নিয়ন্ত্রিত করে থাকে। ন্যাশনাল হার্ট, ফুসফুস এবং রক্ত ইনস্টিটিউট এর মতে শরীরে সঠিক ভাবে রক্ত সঞ্চালনের জন্য কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য। কলার মধ্যে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে। তবে এটি গ্রহণের আগে অবশ্যই আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে তারপর এটি গ্রহণ করবেন। কেননা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, দিনে দুটি কলা খেলে রক্তচাপ ১০ শতাংশের বেশি কমে যেতে হতে পারে। তাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনার শরীরের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝে এটি গ্রহণ করতে হবে।

হজমের সমাধানে কলার ব্যবহার :

কলা অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা যেহেতু ফাইবার সমৃদ্ধ একটি খাদ্য তাই এটি হজম স্বাস্থ্যের উন্নতি করে থাকে। এছাড়াও পাচনতন্ত্রের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম অন্ত্রের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যার ফলে হজমের প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে। কলা নিজে যেমন তাড়াতাড়ি হজম হতে পারে, তেমনি অন্য খাবার কেও তাড়াতাড়ি হজম করতে পারে। কেননা কলার মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার। যা শরীরের ভিতরে থাকা খাদ্য উপাদান কে সঠিকভাবে হজমে সহায়তা করে। এছাড়া একটি কলাতেই পেট ভরে যাওয়ার মত মনে হয়। যার ফলে অধিক খাওয়া থেকেও এটি দূরে রাখতে সহায়তা করে। এটি দ্রুত দ্রবণীয় হওয়ায় অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এছাড়া রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে শরীর থেকে চর্বি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান কে শোষণ করে নিতে সহায়তা করে। কলা ফ্রুকটলিগোস্যাকচারাইড এর একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে শরীর স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা মূলত প্রাকৃতিক এন্টাসিড হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় এটি পাকস্থলীর এসিড কমাতে এবং আলসার চিকিৎসা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি পেটের ভিতরে অতিরিক্ত মেদ জমা থেকে শরীরকে দূরে রাখে। এছাড়া এটি গ্যাস্ট্রিক সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। কাঁচা কলা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এই কলায় প্রাকৃতিক অ্যাসিড কম থাকে, তাই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে এবং পাকা কলা শরীরের হজমে সহায়তা করে। তবে কাঁচা কলা যদি অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা হয়ে থাকে সে ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় কাঁচা কলার ব্যবহার হয়ে থাকে। এছাড়া খাদ্যকে দ্রুত হজম করতে চাইলে পাকা কলার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

কলা ভিটামিন বি6 সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা খাদ্যতালিকায় ভিটামিন b6 সঠিক মাত্রায় গ্রহণ করেন তাদের মস্তিষ্ক অন্যান্যদের তুলনায় বেশ প্রখর হয় এবং এরা ভালো পারফরম্যান্স করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষ গুলিকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া কলা মস্তিষ্কের কোষগুলির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। যেহেতু আমাদের মস্তিষ্ক গ্লুকোজ সংরক্ষণ করতে পারে না, সেহেতু কলা দৈনিক এটি সরবরাহ করে থাকে। কলায় যেহেতু ফাইবার রয়েছে তাই এতে শর্করা ধীরে ধীরে রক্তপ্রবাহকে প্রবাহিত করে এবং শরীরে ধীরে ধীরে কলা গ্লুকোজ সরবরাহ করে থাকে। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের কোষগুলোয় অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখে। এছাড়াও এটি ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ উপাদান হওয়ায় মৃগী এবং পারকিনসন রোগের সমস্যায় সমাধান করে। কলার মধ্যে থাকা সেরোটোনিন এবং মেলাটোনিন স্ট্রেস রিলিফ করতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি হতাশা এবং মস্তিষ্কের যে কোন ধরনের সমস্যার সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। নিয়মিত কলা খেলে মস্তিষ্কের শক্তি এবং স্নায়ুর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি তার ঘনত্ব বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম বৃদ্ধ বয়সে স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও মেনোপজাল পরবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে কলা খাওয়া স্ট্রোকের সম্ভাবনা ১২ শতাংশ কমাতে সহায়তা করে। মূলত যে সমস্ত ব্যক্তিরা কম পটাশিয়াম গ্রহণ করেন তাদের স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। কেননা পটাশিয়াম কম গ্রহণ করলে সেটি হঠাৎ রক্তপাত এর ফলে স্ট্রোকের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে।

হাড়ের গঠনে কলার উপকারিতা :

ন্যাশনাল অস্টিওপরোসিস ফাউন্ডেশনের মতে, কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম হাঁড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা পটাসিয়ামের অন্যতম উৎস যা হাড়ের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান প্রদান করে থাকে। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি শরীরে ক্ষার তৈরি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও দেখা গিয়েছে যখন কোন অ্যাসিড যুক্ত উপাদান শরীরে তৈরি হয় তখন হাড়গুলি দূর্বল হবার সম্ভাবনা থাকে, যার ফলে হাড় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হতে পারে। তাই পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গুলি এই ক্ষার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে শরীরে ক্যালসিয়ামের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়। বয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে পটাশিয়াম গ্রহণ আবশ্যক। কেননা বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকে। এছাড়াও দীর্ঘমেয়াদী পটাশিয়াম গ্রহণের ফলে অস্টিওপোরোসিস এর সমস্যা কম হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়াম এর অন্যতম উৎস হিসাবে একটি কলা রাখলে সে ক্ষেত্রে এটি শরীরের হাড় কে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কলার ভূমিকা :

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো কলা। কার্বোহাইড্রেট সম্পন্ন উপাদান হওয়ায় এটি দৈনিক গ্রহণ করা আবশ্যক। কেননা কার্বোহাইড্রেট রক্তে শর্করার মাত্রা কে দ্রুত বাড়াতে সহায়তা করে। আর কলাতে প্রচুর শর্করা রয়েছে। মূলত 93% ক্যালোরি কার্বোহাইড্রেট থেকে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে কলাতে শর্করা থাকার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। এই ফাইবার হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ব্লাড সুগার কে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি খুব বেশি ক্ষতিকর নয়, কেননা সবুজ কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে স্টার্চ। এটি শরীরে ফাইবার এর মত কাজ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কে নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়াও এটি শরীরের পরিপাক ব্যবস্থাকে উন্নত করে রক্তে শর্করার স্পাইক গুলো কে নিয়ন্ত্রণ করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি সিক্স ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সহায়তা করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, কলা প্রতিদিন গ্রহণের ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকাকালীন অবস্থায় কলা খেলে সে ক্ষেত্রে শরীরে ফ্রুক্টোজ এর পরিমাণ কম থাকে।

ডায়েরিয়া নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

ডায়েরিয়ার চিকিৎসায় ইলেক্ট্রোলাইট প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে কলা ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলা মূলত পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া পটাশিয়াম প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়ার সমস্যা দেখা দিলে একটি কলা খেলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। এছাড়াও এক গ্লাস জলে এক চিমটি লবণ যোগ করে খেলে এটি শরীর থেকে হারিয়ে যাওয়া সোডিয়াম এবং ক্লোরাইড প্রতিস্থাপনে সহায়তা করে থাকে। ডায়েরিয়া থেকে দ্রুত পুনরুদ্ধারের জন্য একটি নির্দিষ্ট ডায়েট তৈরি করা হয়েছে, একে ব্র্যাট ডায়েট বলা হয়। কলা আপেল এবং টোস্ট দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি মূলত শিশুদের জন্য অধিক কার্যকরী। এই ডায়েটে শরীরের দ্বারা উৎপাদিত মলের পরিমাণ হ্রাস করে পেটে কিছুটা স্বস্তি দেয় এই ডায়েটে প্রোটিন ফাইবার এবং ফ্যাট কম হওয়ায় এটি একটি সুষম খাদ্য। এছাড়াও এটি ডায়েরিয়া পরবর্তী অবস্থায় শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণে সহায়তা করে। ডায়েরিয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে এটি খেলে ডায়েরিয়ার উপশমে সহায়তা করবে।

হ্যাংওভার কাটাতে কলার ব্যবহার :

পরিমাণের তুলনায় খানিকটা বেশি অ্যালকোহল পান করলেই তার পরবর্তী সময়ে হ্যাংওভার ভাবটা অনেকের মধ্যে থেকেই যায়। এমনকি সেটা রাত পেরিয়ে পরের দিন পর্যন্ত থেকে যায়। তবে এই হ্যাংওভার কাটাতে আপনার হাতের কাছেই রয়েছে কলা। কলা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হ্যাংওভার কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কেননা পটাশিয়াম এমন এক ধরনের খনিজ অ্যালকোহল গ্রহণের পরে নষ্ট হয়ে যায় এবং ডিহাইড্রেশন ঘটায়। তাই কলা এবং মধু দিয়ে মিল্কশেক তৈরি করে খাওয়া গেলে খুব শীঘ্রই হ্যাংওভার থেকে মুক্তি পেয়ে যায়। কারণ কলা স্নায়ুগুলোকে শান্ত করে এবং মধু শরীরে চিনির পরিপূরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর পাশাপাশি এতে দুধ দেওয়া যেতে পারে তাহলে তা শরীরকে হাইড্রেট রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি১ এবং বি৬ হলো এমন দুটি উপাদান যা হ্যাংওভারের লক্ষণগুলোকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা গ্লুকোজ এবং ইলেকট্রোলাইট গুলি হ্যাংওভার এর চিকিৎসা করতে সহায়তা করে।

রক্তাল্পতা নিয়ন্ত্রণে কলার ব্যবহার :

বিশেষত মহিলাদের ক্ষেত্রে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো রক্তাল্পতা। মূলত গর্ভাবস্থায় রক্তাল্পতার সমস্যা দেখা দেয়, তখন ফলিক অ্যাসিডের আদর্শ ডোজ দিয়ে এর চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। পুষ্টিকর খাবার গুলিতে পাওয়া ভিটামিন এর পাশাপাশি এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যরক্ষায় রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করা আবশ্যক। সেকারণে কলার ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। কলাতে থাকা ভিটামিন সি এর যথাযথ সহায়তা করে এবং এটি রক্তস্বল্পতার সাথে লড়াই করে। এছাড়া ভিটামিন বি টুয়েলভ রক্তাল্পতার চিকিৎসা করতে সহায়তা করে। যদিও ভিটামিন বি টুয়েলভ খুব বেশি মাত্রায় কলার মধ্যে নেই, তবে এটি ভিটামিনের সঠিক সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা তামা ও আয়রন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতা :

কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপকে কমাতে সহায়তা করে। তাই এটি যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কলা শর্করা সমৃদ্ধ একটি ফল হওয়ায় এটি মানসিক চাপকে শিথিল করতে পারে এবং স্নায়ুকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে রয়েছে ডোপামিন নামের এক ধরনের রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে প্রশান্ত করে চাপ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যে কোন ধরনের মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। তাই অত্যধিক মানসিক চাপ কিংবা স্ট্রেস দেখা দিলে সে ক্ষেত্রে দৈনিক একটা করে কলা খাওয়া উচিত কিংবা হঠাৎ করে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেলে তখন কলা খেলে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

শক্তি বাড়াতে কলার উপকারিতা :

কলা হল অ্যামিনো এসিড সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক শর্করা এবং অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ একটি খাদ্য উপাদান। যা শরীরের শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে থাকে। উপাদানগুলি ধীরে ধীরে রক্ত সরবরাহ কে সঠিক ভাবে প্রেরণ করে থাকে। এছাড়াও এটি শরীর থেকে খারাপ উপাদান বের করে দিতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা ব্যায়ামের পরে খেলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং এগুলিকে যথাযথ পূরণ করতে এবং জল ধরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দুটিমাত্র কলা 90 মিনিটের কঠোর পরিশ্রমের মতন শক্তি দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলা যেকোনো ধরনের উচ্চশক্তিসম্পন্ন পানীয়র সমান উপকারী হতে পারে। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাথলিটরা ব্যবহার করে থাকেন। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্য উপাদান গুলি শরীরের শক্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে।

চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় কলার ব্যবহার :

শরীরের পাশাপাশি চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে কলা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি চোখে ছানি পড়ার যে ছত্রাকের সৃষ্টি হয় তা কমাতে সহায়তা করে। মূলত কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন-এ চোখ এবং কর্নিয়ায় সুরক্ষা প্রদান করে থাকে। যাতে কোনো রকমে বাইরের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা চোখ আক্রান্ত হতে না পারে।

মাসিকের যন্ত্রণা কমাতে কলার উপকারিতা :

বর্তমান স্ট্রেসফুল জীবনের অন্যতম একটি সমস্যা হল মাসিকের যন্ত্রণা। বলা যায় ৯০ শতাংশ মহিলাই এই সমস্যায় ভুগে থাকেন। তবে দৈনিক একটি করে কলা খেলে এই সমস্যার উপশম হতে পারে। কেননা কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ গুলো পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পেশীগুলোকে শক্তি প্রদান করে এবং ব্যথা কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও তলপেটে ব্যথা হয় সেগুলো কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন b6 পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া মতো সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

মশার কামড়ের যন্ত্রণা কমাতে কলার ব্যবহার :

মশার কামড়ে নাজেহাল অবস্থা! একনাগাড়ে চুলকে চুলকে গায়ের চামড়া উঠে যাচ্ছে? কিন্তু আপনি জানেন কি আপনার হাতে কাছে থাকা কলা হতে পারে এর মোক্ষম ওষুধ। কলার খোসার ব্যবহারেই এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। কলার খোসার মধ্যে থাকা শর্করা জাতীয় উপাদান মশার কামড়ের জায়গা থেকে জীবাণু সরিয়ে দিতে সহায়তা করে। যার ফলে মশার কামড় আক্রান্ত স্থানটি কলার খোসা দিয়ে ঘষলে সেখান থেকে মশার কামড় জনিত প্রদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে আক্রান্ত স্থানটিতে কলার খোসা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একবার ডেটল দিয়ে মুছে নেবেন। তাতে ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণরূপে নির্মূল হয়ে যাবে।

ইমিউনিটি বাঁচাতে কলার উপকারিতা :

ইতিমধ্যেই আমরা জেনে গিয়েছি কলার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর উপাদান গুলি কিভাবে আমাদের শরীর চর্চায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কলার মধ্যে রয়েছে এমন এক ধরনের উপাদান, যা রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার সময় কোষগুলিকে তাদের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কে উন্নত করে তোলে। পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা এনজাইমগুলো আয়রন কে সঠিকভাবে হজমে সাহায্য করে। যার ফলে শরীরে আয়রনটা যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়। কলার মধ্যে থাকা ভিটামিন সি সর্বকালের গুরুত্বপূর্ণ শ্বেত রক্তকণিকার উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। এর পাশাপাশি ভিটামিন শরীর থেকে যেকোনো ধরনের রোগ জীবাণু ধ্বংস করতে এবং রক্তকণিকাকে যথাযথভাবে গড়ে তুলতে সহায়তা করে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ফোলেট অন্যতম একটি পুষ্টিকর উপাদান, যা প্রোটিনকে শরীরে যথাযথ গ্রহণে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা লেক্টিন নামক অপর একটি উপাদান শরীরকে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। এটি শরীরের কোষগুলোকে ভাইরাস আক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে। যাতে শরীরে মারাত্মক কোনো ভাইরাস আক্রমণ করতে না পারে। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়ামও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়তা করে। যার ফলে দৈনিক গ্রহণের ফলে এ ধরনের সমস্যা গুলো দূর হয়। এর পাশাপাশি কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়ামও শরীরকে যথাযথ শক্তি জুগিয়ে শরীরের ইমিউনিটি ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে।

মর্নিং সিকনেস সমস্যায় কলার ব্যবহার :

গর্ভবতী মহিলাদের অন্যতম একটি সমস্যা হল মর্নিং সিকনেস। গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে সকাল বেলা বমি ভাব কিংবা বমি হতে দেখা যায়। এই সমস্যার ক্ষেত্রে কোন ওষুধ ব্যবহার না করে দৈনিক একটি করে কলা খেয়ে এটিকে নির্মূল করতে পারেন। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মর্নিং সিকনেস সমস্যাকে কমাতে সহায়তা করে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরকে সুস্থ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে থাকে।

মেজাজ সঠিক রাখতে কলার ব্যবহার :

কাজের চাপ হোক কিংবা জীবনের চাপ, মেজাজ যেকোনো সময় বিগড়ে যেতেই পারে। দীর্ঘদিন ধরে একনাগাড়ে এক কাজ চলতে থাকার ফলে একটা সময় মানুষের বিরক্তি ভাব এসে যায়। একে নির্মূল করা যাবে দৈনিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে। যে কারণে চিকিৎসকেরা দৈনিক খাদ্য তালিকা একটি কলা রাখার কথা বলেছেন। কলার মধ্যে থাকা শর্করা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল করে। যার ফলে এটি মেজাজ সতেজ রাখতে সহায়তা করে এবং এর মধ্যে থাকা ভিটামিন বি6 যেকোনো ধরনের চাপ এবং উদ্বেগ থেকে মুক্তি দেয়। কলা ট্রিপটোফেন এর অন্যতম একটি উৎস, যা সেরোটোনিনের উৎপাদনকে উদ্দীপিত করে। সুখ হরমোন নামে পরিচিত এই হরমোন নিঃসরণ এর ফলে হাসি খুশি এবং আনন্দিত থাকা যায়। ভিটামিন বি গ্রহণের ফলে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে এবং এই সমস্ত ভিটামিন এ পরিপূর্ণ হবার এটি অন্যতম একটি সুষম খাদ্য। কলার মধ্যে থাকা পটাসিয়াম মস্তিষ্কের নিউরন গুলিতে সুগঠিত রাখতে সহায়তা করে। যার ফলে যেকোনো ধরনের সমস্যা থেকে মস্তিষ্ককে বাইরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কলাতে থাকা সেরোটোনিন মস্তিষ্কের রক্তসঞ্চালন কে ত্বরান্বিত করে। যার ফলে মেজাজ সুস্থ রাখতে সহায়তা হয়।

ওজন হ্রাস করতে কলার উপকারিতা :

শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন, যে ওজন হ্রাস করবে কলা। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কলা যথাযথভাবে খেলে ওজন হ্রাস করা সম্ভব হয়। কলার মধ্যে থাকা ফাইবার জাতীয় উপাদানগুলি ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এছাড়া এর মধ্যে থাকা স্টার্চ জাতীয় উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ওজন হ্রাসের জন্য অন্যতম একটি খাদ্য কলা, কারণ এটি শরীরের অতিরিক্ত চিনি কে শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমতে দেয় না। ওজন হ্রাসের জন্য সকালে খালি পেটে একটি করে কলা খেতে পারেন। এটি অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভর্তি রাখতে সহায়তা করে। কার্বোহাইড্রেট এর অন্যতম উৎস হওয়ার এটি আপনি প্রাতরাশের জন্য রাখতেই পারেন। তবে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণ কলা খেয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

দাঁত সাদা করতে কলার ব্যবহার :

অত্যধিক ধূমপান কিংবা তামাক গ্রহণের ফলে দাঁতের রং পাল্টে যাওয়া এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। তবে দাঁতের রং সাদা করতে ব্যবহার করুন কলা। এটি যেকোনো ধরনের কড়া দাগ কে কমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি দাঁতকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দাঁতের উপরে পড়া কালো দাগ কমাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা কাটাতে কলার ব্যবহার :

ঠিকমতো ঘুম হচ্ছে না, এই সমস্যায় নাজেহাল বালক থেকে বৃদ্ধ। কারো পড়ার চাপ, কারোর কাজের চাপ কিংবা কারোর পারিবারিক চিন্তা। তবে এবার আর চিন্তা নেই রোজ খাদ্যতালিকায় একটি করে কলা রাখুন এর মধ্যে থাকা পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম স্নায়ুকে শিথিল করতে এবং ঘুমাতে সহায়তা করে। কলার মধ্যে থাকা ট্রিপটোফ্যান ঘুমের ওষুধের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যে সমস্ত রোগীরা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের ট্রিপটোফ্যান এর ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও কলার মধ্যে থাকা মেলাটোনিন অনিদ্রার চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

পেটের আলসার চিকিৎসায় কলার ব্যবহার :

খাবারের সমস্যার ফলে কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে পেটে আলসার দেখা দিতে পারে। এছাড়াও শরীরের ভেতরে অম্বলের সমস্যা বৃদ্ধি পেলে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হলে সে ক্ষেত্রে আলসারের মত সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে এই সমস্যা থেকে নিরাময় পেতে দৈনিক একটি করে কলা গ্রহণ করুন। কলার মধ্যে থাকা উপাদানগুলি শরীরের অভ্যন্তরীণ অ্যাসিড নিঃসরণে বাধা দেয় যার ফলে আলসারের মতো সমস্যা কম থাকে। কলার মধ্যে থাকা ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম শরীরকে ভেতর থেকে জীবাণুমুক্ত করে তোলে। যার ফলে শরীর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত হয়। এছাড়া পাকা কলা হজমজনিত সমস্যা গুলি নিরাময়ে সহায়তা করে।

Category

Telephone

Address


Sher Sha Colony
Chittagong
4210

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Health Benefits posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Chittagong.