Jannatun nesa

Jannatun nesa

Share

___ I can handle my pain, but___!!!
_____ I can't control my tears_____

01/08/2026

আসছে শীঘ্রই 🫶🫠

ফ্ল্যাপ
জলতরঙ্গের দোলায় যেমন আলোর খেলা, তেমনি জীবনের গভীরে মানুষের অনুভূতির কত রূপ—কখনো মায়ায় মাখামাখি, কখনো স্মৃতির গভীর বেদনা। এই বইয়ের প্রতিটি গল্প যেন সময়ের সেইসব স্তরকে অনুধাবন করায়, যেখানে আবেগ আর বাস্তবতা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়।
‘
একজোড়া নূপুর’-এর ঝংকার থেকে ‘রেডক্লিফ বর্ডার’-এর সীমানা পেরানো ভালোবাসা; ‘বেতার তরঙ্গে’ অজানা শ্রোতার জন্য গাওয়া গান থেকে ‘অক্ষরডানা’-য় ডায়েরির পাতায় লুকানো অপূর্ণ প্রেম—প্রতিটি গল্পই আলাদা, প্রতিটি গল্পই যেন চেনা। শহুরে ফ্ল্যাটের সিগারেটের ধোঁয়া আর গ্রামের ভাঙা চালের নীচে বৃষ্টি—সবখানেই ছড়িয়ে আছে ভালোবাসার অগণিত রূপ।

এই বইয়ের গল্পগুলো শুধু পড়ার জন্য নয়; এগুলো অনুভবের। জীবনের নানা রং, নানা ঘাত-প্রতিঘাত, নানা প্রশ্ন আর তার অমীমাংসিত উত্তরগুলোর মাঝে দাঁড়িয়ে আছে কিছু মানুষ—যাদের মধ্যে হয়তো পাঠক নিজেকেও খুঁজে পাবে।
ভালোবাসা, হারানো, পাওয়া, অপেক্ষা, আর বেঁচে থাকার অদ্ভুত সংগ্রাম—সবকিছু মিলিয়ে জলতরঙ্গের ঝিলমিল এক অনবদ্য সংকলন।

বই -জলতরঙ্গে ঝিলমিল
লেখিকা -ইসরাত জাহান ইন্শিতা
প্রকাশন -রূপসী বাংলা প্রকাশনী
প্রকাশক -খায়রুল ইসলাম পলাশ
প্রি অর্ডার মূল্য -২৮৫ টাকা

📌বইটি অর্ডার করতে ইনবক্স করুন প্রকাশনী তে, অথবা যেকোনো বুকশপ ও রকমারি তে!

゚viralシfypシ゚

01/03/2026

গল্পের লিংক লাগবে নাকি 🙂

26/02/2026

আমার পেজে ফলো দিয়ে রাখবেন

01/02/2026

#ভাগ্যিসতুমিএসেছিলে

লেখিকা : #জান্নাতুননেছা

পর্ব :২০

আহিয়ান নাম টা শুনা মাত্রই তিন্নি চোখ দুই টা বড় করে ফোন এর দিকে তাকালো।তিন্নি ভাবতিছে সে আসলে ঠিক শুনতিছে নাকি ভুল,তাই সে একবার নিজের নিজের কান টা পরিষ্কার করার চেষ্টা করলো । তারপর আহিয়ান এর আবার "হ্যালো" বলায় সে এবার শত % সিওর হলো সত্যি আহিয়ান ফোন করেছে। এখন তিন্নির খুশি আর দেখে কে? তিন্নির খুশি হওয়ার কারণ হচ্ছে, তার অনেক দিন থেকেই ইচ্ছে ছিলো আহিয়ান এর সাথে একবার হলেও কথা বলবে সে। আর তার আরো একটি কারণ আছে সেটা হলো, তানিয়ার কার সাথে বিয়ে হবে না হবে সেটা অবশ্যই তিন্নির দেখার বা কথা বলার অধিকার আছে। তিন্নির ধারণা সে যতই ছোট হোক না কেনো সেতো তানিয়ার আপন বোন সেই সুবাদে অবশ্যই তিন্নির আরো বেশি অধিকার থাকার কথা। এবার তিন্নি একটা সুযোগ পেয়েছে সেটা তো কোনো মতেই তার হাত ছাড়া করা যাবে না। তিন্নি খুশিতে গজ গজ করতে আহিয়ান কে বললো —

"আস্সালামুআলাইকুম জিজু।"

তিন্নির "জিজু" সম্মন্ধে আহিয়ান এর ভ্রূরুতে ভাজ পড়লো। সে ভাবলো তার জানা মতে তানিয়া তার ব্যক্তিগত কথা কাউকে শেয়ার করে না এমনকি আহিয়ানকেও না শুধু তার ছোট বোন তিন্নি ছাড়া। সে তানিয়ার সাথে এতদিন কথা বলার পর এই একটা জিনিস খুব ভালো ভাবে বুঝতে পেরেছে যে তিন্নি হচ্ছে তানিয়ার একমাত্র ভরসার জায়গা, যাকে সে নির্দ্বিধায় সবকিছু খুলে বলে। তাহলে তানিয়া তিন্নি কে তার মনের সব কথা বলেছে, যেটা সে এখনো পর্যন্ত আহিয়ানকে বলেনি বা বলতে পাচ্ছে না। আহিয়ান এটা তো সিওর যে ফোন এর ঐপাশের ব্যক্তিতা হচ্ছে তানিয়ার ছোট বোন তিন্নি। কেননা তাঁদের বাসায় তিন্নি ছাড়া আর কোনো বাচ্চা মেয়ে নেই।এবার আহিয়ান নিজের গম্ভীরতা দূর করে নিজের মুখে হাসি ফুটালো। কারণ সে এখন তিন্নির পেট থেকে সব কথা বের করতে চায়, যেসব কিছু তানিয়া তিন্নিকে বলেছে। সে জানে বাচ্চাদের সাথে একটু হেসে হেসে কথা বললে তারা সব কিছু বলে দেয়। আহিয়ান ভাবলো তিন্নিও মনে হয় আর চার পাঁচটা বাচ্চাদের মতো। তাই সে মুখে হাসি নিয়ে তিন্নিকে বললো —

"ওয়ালাইকুম আসসালাম!শালিকা।"

এবার তিন্নি জোরে হেসে ফেললো, কারণ সে এখন কারো নিজের শালী হবে।আগেও অনেক জনের শালী হয়েছে, কিন্তু সেগুলো নিজের তো না। আহিয়ান ও শুনলো তানিয়ার সেই হাসির শব্দ কিন্তু কিছু বললো না।সে ভাবলো তানিয়া যেমন শান্ত শিষ্ট তার বোনতো দেখতিছি তার ঠিক উল্টো। তানিয়া যদি হয় শান্ত পরি তাহলে তিন্নি হবে চঞ্চল পরি । আহিয়ান এর এসব কিছুর ভাবনার মাঝখানেই তিন্নি বললো —

"তো জিজু তুমি কেমন আছো?নাকি আমার আপুকে ছাড়া বিধবা হয়ে বসে আছো।"

আহিয়ান কানের কাছে ফোন টা নিয়ে, নিজের অফিস এর ফাইল গুলো চেক করতিছিলো। তিন্নির কথা শুনার সাথেই সাথেই তার হাত থেকে ফাইল গুলো ধপ করে নিচে পরে যায়। আহিয়ান এর ভাবনারো বাহিরে ছিলো যে তিন্নি তাকে এসব কিছু বলতে পারে।তাই সে নিজের ফাইল গুলো নিচ থেকে উঠিয়ে, সুন্দর করে আগের জায়গায় সাজিয়ে রাখলো। তারপর সে নিজেকে প্রস্তুত করলো তিন্নির প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য। সে স্বাভাবিক ভাবেই বললো —

"আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি তুমি কেমন আছো?"

"আমিও ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ।কিন্তু জিজু এটা কিন্তু ঠিক না তুমি আমার আপিকে ছাড়া কিভাবে ভালো থাকতে পারো।তোমার তো আমার আপুকে ছাড়া খারাপ থাকার কথা তাই না। তাহলে কী তুমি আমার আপুকে পছন্দ করো না। যদি আমার আপুকে তোমার পছন্দ না হয়, তাহলে তুমি আমাকে বলে দেও আমি পরে আপুকে বলে দিব। আর এটাও বলে দিব যে আপু যেন আর তোমার সাথে কথা না বলে।সারাদি....."

তিন্নি থেমে গেলো না তাকে থামতে হলো আহিয়ান এর হাসির শব্দ তার কানে পৌঁছানোর কারণে, আহিয়ান হাসতে হাসতেই তিন্নিকে বললো —

"তুমি কী পাগল নাকি? আমি কেনো তোমার বোনকে পছন্দ করবো না। পছন্দ করি দেখেই তো আমি তানিয়ার সাথে কথা বলি। কিন্তু এটা তোমার আপুকে এখনো বলা হয়নি।"

"কেনো বলো নি?"

"তোমার আপু যখন স্বীকার করবে তখন।"

"কী স্বীকার করবে?"

"যে তোমার আপু আমাকে পছন্দ করে।"

"পাগলের মন সুখে সুখে।"

এটা বলেই তিন্নি ভেংচি কাটলো। তিন্নির কথা শুনে আহিয়ান আরো জোরে জোরে হাসতে লাগলো। এখন তিন্নি বুঝতে পাচ্ছে না এখানে হাসার কী এমন আছে। তিন্নি কে আর বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে হলো না , আহিয়ান নিজেই বললো তার হাসির কারণ। সে তিন্নির ভুল ধরিয়ে দিয়ে বললো —

"আরে পাগলী ঐটা পাগলের মন সুখে সুখে না, ওটা হবে পাগলের সুখ মনে মনে।"

এবার তিন্নি বুঝলো আহিয়ান এর হাসির কারণ, সে একটু লজ্জাবোধ করলো। কেনো না আজকেই তিন্নি আহিয়ান এর সাথে প্রথম কথা বলতিছে আর আজকেই সে ভুলভাল কথা বলে ফেললো।তিন্নি মনে মনে বললো" না এরে বুজতে দেয়া যাবে না যে আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আর তাছাড়া ভুল করলে না নিজের ভুল টা বুঝবো। এটা আমি নিজেই বানাইছি আমি মানুষের টা কপি করি নাকি। "

তিন্নি নিজের জেদ নিয়ে আহিয়ান কে বললো —

"দেখো জিজু আমি কোনো ভুল কিছু বলে নি। অন্য মানুষরা নাহয় বললো পাগলের সুখ মনে মনে, কিন্তু তুমি শুনে রাখো আমি এই পৃথিবীতে এক পিচ মাত্র। তাই সবাই যেটা করে বা বলে আমি সেগুলো করি না। ঐজন্য অন্যরা যেটাই বলুক না কেনো আমি আমার টাই বলবো সেটা হচ্ছে পাগলের মন সুখে সুখে।"

"তুমি কী আসলেই তানিয়ার নিজের বোন নাকি তোমাকে কোথাও কুড়ায় পাইছে।"

আহিয়ান তিন্নিকে কথাটা মজা করে বললেও, তিন্নি সেটা মজা হিসেবে নিলো না। সে আহিয়ান কে রাগ দেখিয়ে বললো —

"এইহ!ভাইয়া জিজু আমার আপুর নিজের বোন হবো না টা তোমার নিজের বোন হবো। যতসব ফালতু লোক। আর শুনো আমার আপুকে দেখে সিধা সাধা মনে করিও না। সে কেমন সেটা আমার থেকে ভালো কেউ জানবে না। সো বি কেয়ার ফুল।আর...."

"কী হলো? থামলা কেনো আর কিছু বলার থাকলে বলো?"

"সরি!আমি একটু আমার নানীর সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তাই ফোন টা ভুল করে বাসায় ফেলে যাই, সেই সুযোগেই তিন্নি ফোন টা হাতে পেয়ে যায়। আর প্লিজ আপনি ওর আবোল তাবোল কথায় কিছু মনে করবেন না। আমি..."

তানিয়া তাড়াহুড়ো করে আহিয়ান কে এসব বলতিছিলো, আর সে তিন্নির একটা কান টেনে ধরে আছে। তানিয়াকে এসব কিছু বলতে দেখে আহিয়ান তাকে থামায়। আসলে তানিয়া কিছুক্ষন আগেই এসেছে নিজের নানী বাসা থেকে,সে সোজা নিজের রুমে এসে দেখলো তিন্নি তার ফোন এ কার সাথে জানি কথা বলতিছে। সে প্রথমে বুঝে নি যে তিন্নি আহিয়ান এর সাথে কথা বলতিছে, পরে যখন শুনল তিন্নি আমার আপু পছন্দ করো না হেন টেন এগুলো বলতিছিলো তখন তানিয়া বুঝলো তিন্নি আসলে কার সাথে কথা বলছে। তাই সে তিন্নির কাছে দৌরে এসে ফোন টা কেরে নিলো আর তার সাথে সাথে তার কান টা ধরলো। আহিয়ান এবার তানিয়াকে আস্বস্ত করে বলল —

"রিলাক্স আমি কিছু মনে করি নি।আমার তো অবশ্য ভালোই লেগেছে ওর সাথে কথা বলতে, এখন আমি যখন তোমাকে ফোন দিবো তখন আমি ওর সাথেও একটু কথা বলবো।

ফোন এর স্পিকার তখন তিন্নির কাছ থেকে নেওয়ার পর তানিয়া বাড়ায় রাখছিলো, তাই আহিয়ান এর কথা তানিয়ার সাথে সাথে তিন্নিও শুনলো।এই টা শুনার পর তানিয়ার হাতে ঝটকা মারলো, যার কারণে তানিয়া তিন্নির কান টা ছাড়তে বাধ্য হলো। এবার তিন্নি তানিয়ার হাত থেকে ফোন টা কারে নিলো। এবার তিন্নি আহিয়ানকে অভিযোগ দিয়ে বলল —

"দেখ না জিজু আমার আপু কত পচা। তোমার সাথে আমি কী সুন্দর কথা বলতিছিলাম আর মজা করছিলাম, এই মেয়েটা কই থেকে যেন উড়ে এসে জুড়ে বসল।"

আহিয়ান হেসে বললো —

"হুমম তাই তো।"

আহিয়ান আবার বললো —

তোমার নাম কী?

"তিন্নি ইসলাম রাইহা।"

আহিয়ান কিছু বলতে যাবে এর আগেই তিন্নি আহিয়ানকে নিজের বাসার সবার নাম বললো —

আমার আপুর নাম তানিয়া ইসলাম তমা। আর আমার ছোট ভাইয়ের নাম "রিয়ান ইসলাম তাহমিদ"। বাবার নাম "তরিকুল ইসলাম" আম্মুর নাম "রোকসানা বেগম(মিকি)" আমার আম্মুকে মিকি বলে ডাকে নানী বাসার মানুষ জন। আর কারো নাম জানার থাকলে বলি...

তিন্নি আরো কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু আহিয়ান তাকে বাধা দিয়ে বললো —

"থাক আমার আর কারো নাম জানার ইচ্ছা নাই এগুলো হলেই চলবে।"

কিন্তু আহিয়ান মনে মনে বললো —

"একে যদি এখন না থামাতাম তাহলে তো ওর পুরা চৈদ্দ গুষ্টির নাম বলে দিত।"

এই বলেই আহিয়ান একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো।তিন্নির এখন আর আহিয়ান এর সাথে কথা বলতে ইচ্ছা করছে না, তাই সে আহিয়ান কে "আচ্ছা" বলে ফোন টা তানিয়া কে দিয়ে দিলো।তানিয়া এতক্ষন ধরে দাঁড়ায় দাঁড়ায় আহিয়ান আর তিন্নির কথা শুনতিছিল,তার তিন্নির উপর খুব রাগ হলো, তিন্নি আজকে প্রথমবার আহিয়ান এর সাথে কথা বললো, কিন্তু তাঁদের কথা বাত্রা দেখো মনে হলো যেন তারা বহু আগে থেকেই চেনা যানা।তানিয়া এবার নিজের ফোন টা কানে নিয়ে আহিয়ান কে বলল —

"আস্সালামুআলাইকুম!আপনি কেমন আছেন?"

"হুম।"

আহিয়ান আর কিছু বললো না দেখে তানিয়ার মনে অদ্ভুত এক ভয় অনুভব করলো। কারণ আহিয়ান কখনই ছোট বাক্য বলে কথা শেষ করে না, সে ভাবলো আহিয়ান হয়তো রাগ করেছে তিন্নির আবোল তাবোল কথার কারণে, আর রাগ করবেই বা না কেনো তিন্নিকে কে বলছিলো তার ফোন ধরতে। তানিয়া এবার খা কারি দিয়ে বলল —

"আপনি কী ঠিক আছেন?"

"হুমম।"

"আমি যে আপনাকে সালাম দিলাম তার যে উত্তর দিলেন না।"

"আমিও তো তোমাকে অনেক কিছু বলি তুমি কী তার উত্তর দিয়েছো আমায় তানিয়া।"

"মানে?"

"কিছু না।"

এবার তানিয়া পড়লো মহা বিপদে, তার যানা মতে আহিয়ান তাকে কিছু বললে সে তো সোজা তার উত্তর দিয়ে দেয়।তাহলে তানিয়ার মনে নেই কিন্তু আহিয়ানের আছে, সে জন্য আহিয়ান এমন করতিছে।তানিয়া আহিয়ান কে সংকোচবোধ নিয়ে বলল —

"আচ্ছা আমি যদি আপনার প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে থাকি প্লিজ আপনি রাগ করবেন না।আর...

"আমি রাগ করার কে তানিয়া।"

"মানে?"

"মানে আমি কে হই? যে আমি তোমার উপর রাগ করবো, কেউ হই না আমি। আর তুমিই তো আমাকে রাগ দেখানোর অধিকার থেকে বঞ্চিত করতিছো। আমি তোমার কেউ হই না তুমি তো নয়ন...।"

"চুপ করুন আপনি। কী সব আজে বাজে কথা বলতিছেন আমি কেনো আপনাকে বঞ্চিত করতে যাবো?"

আহিয়ান তানিয়াকে তাচ্ছিলের হাসি দিয়ে বলল —

"তুমি আমাকে বঞ্চিত করছো না?"

তানিয়া আজ প্রথম বার আহিয়ানকে কঠিন কণ্ঠে বললো —

"না।"

"𝐎𝐤! 𝐬𝐨 𝐬𝐚𝐲 𝐦𝐞 𝐢 𝐥𝐨𝐯𝐞 𝐲𝐨𝐮।"

"মানে।"

এটাই তানিয়া কোনো মতে উচ্চারণ করে আহিয়ানকে বলতে সক্ষম হলো। এবার আহিয়ান তানিয়ার কথায় বিরক্ত হয়ে বলল —

"এত মানে মানে করার কী আছে এমন তো না যে তুমি ইংলিশ পারো না আর না পারলেও কোনো সমস্যা নেই আমি তোমাকে ট্রান্সলেট করে দিচ্ছি যে...।"

"না থাক আমি বুঝছি।"

এতক্ষন তানিয়া ভয়ে আর লজ্জায় আহিয়ানকে কিছু বলতে না পারলেও আহিয়ানের ইংলিশ না পারার কথা শুনে তেতে উঠে আহিয়ানকে বলল। মানছে সে ছোট থেকে বাংলা মিডিয়াম স্কুলে পড়ছে তাই বলে কী সে ইংলিশ পারে না। আহিয়ান আজকে প্রথম তানিয়াকে তার উপর রাগ করতে দেখলো, এতে অবশ্য তার খারাপ লাগছে না ভালোই লাগছে। কেনো না আহিয়ান এতদিন ধরে তো এটাই চেয়েছিলো যে, তানিয়া ওর সাথে একটু ফ্রি হোক কিন্তু তানিয়া আহিয়ান এর সাথে এমন ভাবে কথা বলে যেন কোনো ছোট বাচ্চা কথা বলতিছে।আহিয়ান ভাবলো তানিয়ার থেকে তো তিন্নি অনেক এগিয়ে আছে, এখনই সব বুঝতে পারে বড় হলে না জানি আরো কী হয়। আহিয়ান এবার তানিয়াকে দুস্টু হেসে বলল —

"বুঝছো ভালো কথা তাহলে এখন বলো।"

"পারবো না।"

"কেনো?"

"আমি মেয়ে।"

"So what।"

"আগে মেয়েরা বলে না ছেলেরা বলে।"

"ওহ তাই নাকি।"

"হুমম।"

আহিয়ান তানিয়াকে এবার চিন্তায় পরার ভান ধরে বলল —

"তাহলে তো দেখতিছি আমাকেই আগে বলতে হয়। কী বলবো নাকি মিস তানিয়া?"

এবার তানিয়ার গাল লজ্জায় লাল হয়ে গেলো, সে এর আগেও অনেক ছেলের কাছ থেকে প্রপোসাল পেয়েছে এমনকি নয়ন এর সাথে প্রেম করার সময়ও নয়ন তাকে অনেক বার সেই তিন জাদুকরি শব্দ বলেছিলো কিন্তু তখন বেপারটা টা আলাদা ছিলো আর এখনকার বেপারটা আলাদা,তানিয়া বিছানার চাদর খামচে ধরে বলল —

"হুমম।"

"তো কিভাবে বলবো তানিয়া আমি তো জানি না। তুমি জানো? জানলে আমাকে বলোতো।"

"আমি জানি না।"

"আমার যানা মতে তোমাকে অনেক জনেই প্রপোসাল দিয়েছে। তাহলে তোমার জানার কথা।"

"আমি তো দেই নি কাউকে। তাহলে আমি কিভাবে জানবো।"

"সেটাও ঠিক।"

আহিয়ান এবার কিছুক্ষন চুপ থাকলো এরপর একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল —

“আমি জানি, বিশ্বাস ভাঙলে মানুষ নতুন করে কাউকে ভাবতে ভয় পায়। তোমার জীবনে এমন একজন ছিল, যে থাকার কথা বলেও ঠিকভাবে থাকতে পারেনি। সেই কষ্টটা তুমি একা একাই বয়ে নিয়েছ—আমি সেটা অনুভব করি।
আমি তোমার অতীত মুছতে আসিনি, কারণ সেটা তোমাকে আজকের তুমি বানিয়েছে। আমি শুধু আজকের তোমার পাশে দাঁড়াতে চাই—যেখানে কোনো অভিনয় নেই, কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নেই।
আমি প্রতিদিন কথা বলার মানুষ হতে চাই না শুধু, আমি চাই—যেদিন তোমার মন খারাপ থাকবে, সেদিন চুপচাপ পাশে বসে থাকার মানুষ হতে। যে তোমার চোখের ভাষা বুঝবে, প্রশ্ন না করেও।
ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বড় কথা বলবো না। শুধু এটুকু বলতে চাই—যদি তুমি আবার কাউকে বিশ্বাস করার সাহস করো, আমি সেই বিশ্বাসটা ভাঙবো না।
আমি তোমাকে ভালোবাসতে চাই, জোর করে নয়—তোমার অনুমতি নিয়ে, ধীরে ধীরে। I love you tania, love you so much।

(আপনাদের আজকের পার্ট টা কেমন লেগেছে অবশ্যই আমাকে কমেন্টস করে জানাবেন। রেসপন্স বেশি থাকলে আমি কালকে গল্প দিবো আর অনেক বড় একটা পার্ট দিবো ইনশাআল্লাহ। আর আমার এই পার্ট এ কোনো ভুল থাকলে আমাকে সংশোধন করে দিবেন।)

15/01/2026

🤍🤍🤍
#ভাগ্যিসতুমিএসেছিলে

জান্নাতুন নেছা 05/01/2026

সবাইকে আস্সালামুআলাইকুম। আশা করি সত্যি ভালো আছেন। আমার এই পেজে একটা সমস্যা হওয়ায়,আমি আর এই পেজে গল্প ছাড়তে পারবো না। সেজন্য আমি অন্য একটা পেজ খুলছি। এখন থেকে সেই পেজই আমি গল্প ছাড়ব। আপনারা যারা আমার ফলোয়ার আছেন,তাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো আমার নতুন পেজ ফলো করার জন্য। এই পেজ টা মনে হয় কয়দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাবে😩। আমার নতুন পেজ এর লিংক আমি নিছে দিয়ে দিব। আবার আপনাদের কাছে আমি অনুরোধ করলাম, আমার পেজটাকে ফলো করার জন্য। আশা করছি আপনারা আমাকে নিরাশ করবেন না😩🙏
নতুন পেজ এর লিংক 👇
https://www.facebook.com/share/14PphLrcDGa/

জান্নাতুন নেছা বাস্তবে Introvert, মাথায় Full Cinematic ইউনিভার্স 🫠🎬

04/01/2026

আহিয়ান জান্স is calling 📲🤙
#ভাগ্যিসতুমিএসেছিলে ゚viralシalシ
#গল্পেরলিংক ---👇
https://www.facebook.com/share/p/1AUFCt5iYk/

03/01/2026

তানিয়ার একমাত্র বিশ্বাসের মানুষ, আর তিন্নির একমাত্র বড়বোন। দুইজনেই একই ফ্রেমে 😩🤍
#ভাগ্যিসতুমিএসেছিলে #জান্নাতুননেছা ゚viralシalシ #তানিয়া #তিন্নি
সম্পূর্ণ গল্পের লিংক---👇
https://www.facebook.com/share/p/1EjBc6RqYW/

02/01/2026

#ভাগ্যিসতুমিএসেছিলে

লেখিকা : #জান্নাতুননেছা

পর্ব:১৫

তানিয়া কে এভাবে চলে যেতে দেখে তিন্নি হতবাক হয়ে চেয়ে থাকলো, সে ভাবতে থাকলো যে, সে কি এমন বললো যে তানিয়া এভাবে রাগ হয়ে চলে গেলো । সেতো একটু মজাই করলো। অন্য বোন রা যেমন নিজের বোনদের সাথে করে সেও তেমন নিজের বড়ো বোনের সাথে মজা করল। তিন্নি এত কিছু আর না ভেবে দৌড় লাগালো নিজের বোনের পিছনে। তানিয়া তাঁদের ড্রয়িং রুম এর দিকে যাচ্ছিলো। তিন্নি পিছন থেকে তানিয়া জড়িয়ে ধরে বললো -

"আপু তুমি আমার উপর এভাবে রাগ করে কই যাচ্চো? আমি তো শুধু তোমার সাথে একটু মজা করতিছিলাম ,তুমি প্লিজ রাগ করিও না আমার উপর।"

তিন্নি তানিয়াকে হটাৎ করে পিছন দিক দিয়ে জরিয়ে ধরায়, তানিয়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে, তারপর নিজেকে সামলিয়ে তিন্নির কথা গুলো শুনে সে বললো -

"তিন্নি শুন আমি তোর উপর রাগ হয়নি আর না অন্য কারো উপর বুঝলি।"

তানিয়া কথা তিন্নি বুঝলো না, সে তানিয়া কে আবার বললো —

"তুমি রাগ না করলে রুম থেকে বাইরে বের হলে কেন?"

তানিয়া তিন্নির দুই কাঁধ নিজের হাতের মুষ্টিতে আবদ্ধ করে, তার চোখে চোখ রেখে বললো —

"শুন তিন্নি আমার যে কি হইছে সেটা আমি নিজেও জানি না। আমার কেন জানি না এখন আর কোনো কিছুই ভালো লাগে না। যেই কাজ করতে চাই সেই কাজেই আমার অনীহা চলে আসে। আর তারা মূল কারণ কে জানিস।"

তিন্নি খুব মনোযোক দিয়েই নিজের বোনের কথা শুনতিছিলো, এখন নিজের বোনের এমন আচরণের কারণ কে টাকে তো সেটা জানতেই হবে তাই সে তানিয়াকে উত্তেজিত হয়ে জিজ্ঞাসা করলো —

"কে আপু? কে? কে আমার বোনের এই অবস্থা করেছে বলোতো?"

তানিয়া তিন্নির এমন উত্তেজিত হওয়া দেখে বললো-

"আরে থাম ভাই বলতিছি। এমন ভাবে বলতিছিস যেন কোনো মহামারী রোগ কেউ আমায় ধরায় দিছে ।"

তানিয়ার এমন কথা শুন তিন্নি নিজের অধরে তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে রাখে এর মানে সে আর কথা বলবে না, সব এখন চুপ চাপ শুনতে থাকবে। তানিয়া তিন্নিকে একপলক দেখে তারপর তারপর তিন্নির হাত ধরে তাকে রুমে নিয়ে আসে,যদি তাঁদের কথা অন্য কেউ শুনে নেয়। তাই সে তিন্নিকে নিজের রুমে নিয়ে আসে। তিন্নি আর তানিয়া রুমে আসে বিছানার উপর বসে পড়লো। তানিয়া একটা দীর্ঘশাস নিয়ে বললো -

"শুন তিন্নি তুই তো জানিস আমি নয়নের সাথে প্রেম করতাম, আর এই কথাটা এখন বাসার সবাই জানে। আর প্রেম করা নিয়ে আমার জীবনে কত কিছুই না হয়ে গেল, আর কত কিছুই না দেখতে হলো। নয়নের বিশ্বাসঘাতকতা, আমাদের আব্বু, আম্মুর মানসম্মান নষ্ট হওয়া, আর অন্য মানুষদের কটু কথা, কত কিছুই না সহ্য করতে হয়েছে আমাদের। কিন্তু আমাদের বাবা মা তাও আমার পক্ষে ছিল, তাঁদের নিজের মেয়ের প্রতি বিশ্বাস ছিল যে কখনই তাঁদের মেয়ে এমন অনৈতিক কাজ করতেই পারে না।তারা আমার জন্য অন্য মানুষদের কাছে লড়ছে। এমন বাবা মা কয়জনরী হয় বলত। আমি না নিজেকে অনেক লাকি মনে করি কেন জানিস। কারণ আমার কাছে এমন বাবা মা আছে তাই।"

তানিয়া থেমে গেলে কারণ তার চোখের কোনায় অশ্রুর ফোটা জমে রয়েছে। তিন্নিও তার ব্যতিক্রম নয় তানিয়ার মতোই অবস্থা। তানিয়া আবার আর একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো -

"যখন আমার কারণে আমার বাবা মার মানসম্মান নষ্ট হচ্ছিলো, তখন আমি আমার বাবা মার জন্য কিছুই করতে পারি নি। তখন উল্টো তারা আমাকে সাপোর্ট করে যাচ্ছিলো। তাই যখন আহিয়ান আমার সাথে কথা বলতে চায়, তখন আমার অনিচ্ছা সর্তেও আমাকে ওনার সাথে কথা বলতে হয়।তার কারণ হচ্ছে, আমার সেই বট গাছ দুটো। তারা আমার জন্য অনেক করেছে, এখন আমারো উচিত তাঁদের কে খুশি করা। আর আমি যদি ওনার সাথে কথা বলি মানে আমার যদি ওনার সাথে বিয়ে হয়ে যায় তাহলে আমার বাবা মা অনেক খুশি হবেন।"

তিন্নি এতক্ষন নীরব দর্শকের মতো সব শুনে যাচ্ছিলো, তানিয়ার কথা শেষ হওয়ার পর সে বললো -

"আপি আমি তো সব বুঝলাম,কিন্তু তোমার অস্থিরতার মূল কারণ তা কী? সেটা তো বললে না।"

তানিয়া তিন্নির কথা শুনার পর কিছুক্ষন চুপ থেকে তারপর বললো -

"জানি না রে তিন্নি, আমি নিজেই তো বুঝতেছি না।এই অস্থিরতার নাম আমি কী দিবো? আমি যখন প্রথম প্রথম ওই আহিয়ান চৌধুরীর সাথে কথা বলতাম, তখন আমি আম্মুর কথা শুনে তারপর একপ্রকার বাধ্য হয়ে কথা বলতাম। আর জানিস এখন যদি উনি সময়ের এক সেকেন্ড দেরি করে ফোন দেয়, তাহলে আমার কী জানি হয়ে যায়। মনে হয়,উনি ফোন না দিলে মনে হয় আমি নিঃশ্বাস নিতে পারবো না। যখন নয়নের সাথে প্রেম করতাম তখন তো আমার এমন হতো না। তাহলে ওনার সাথে আমার এক মুহূর্ত কথা না হলে কেন আমি এমন করি। নয়নের সাথে তো আমার কখনো কখনো এক সপ্তাহ পর দেখা হতো আর কথা হতো। হ্যা এটা সত্যি যে আমরা মেসেজে কথা বলতাম, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর শুনতে পেতাম মাঝে মাঝে। কিন্তু আমি ওনার ওই আকর্ষিত পুরুষালি কণ্ঠস্বর একবার যদি শুনতে না পাই তাহলে....

"তাহলে তোমার অবস্থা মরে যাওয়ার মতো হবে তাই না?"

তানিয়ার সম্পূর্ণ কথা শেষ হওয়ার আগেই তিন্নি তার কথার মাঝখানে এই কথা তা বলে ফেললো।তানিয়া তিন্নির কথা শুনে অবাক হলো, সেতো এটাই বলতে চেয়েছিলো। সে ভেবেছিলো তিন্নির সহজে তার কথা গুলো বুঝতে পারবে না। কিন্তু তিন্নি বুঝতে পেরেছে ভেবে তানিয়ার মনটা একটু হালকা হলো।এরিমধ্যে তিন্নির আবার বলে উঠলো।

"আপু আমি একটা কথা বলি?তুমি মন দিয়ে শুনিও প্লিজ। আমি জানি আমার এসব বিষয় ভাবার নয়, কিন্তু আমার বয়সের তুলনায় আমি এসব বিষয় একটু বেশি বুঝি, gen-z জেনারেশন এর তাই।"

তিন্নির একটা দুষ্টু হাসি দিলো তার সাথে সাথে তানিয়াও হাসলো স। তানিয়া হাসতে হাসতে বললো—

"তুই gen-z হইলে আমি তাইলে কী? আমি কী millennials?"

তিন্নিও তানিয়ার কথা শুনে হাসতে লাগলো। তারপর নিজের হাসি থামিয়ে আবার নিজের অর্ধেক কথাটা সম্পূর্ণ করতে চাইলো, তানিয়াও তাকে সম্মতি দিলো। তিন্নির সম্মতি পেয়ে বলতে লাগলো।

"আমরা দুইজন ছোট থেকে একসাথে বড়ো হয়েছি, তোমার কী ভালো লাগে, কী ভালো লাগে না আমি যেমন সব জানি। তেমন তুমিও আমারটা জানো। আজকে যখন তুমি আমাকে বললে, তুমি একটা কারণে অস্থির হয়ে আছ,আর এই অস্থিরতার কারণটা কে তখন আমার যা বোঝার আমি বুঝে গিয়েছি।আসলে যে তুমি আহিয়ান ভাইয়াকে ভালোবেসে ফেলেছো সেটা তুমি নিজেই এখনো বুজতে পারোনি।"

তিন্নির থেমে একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো—

"নয়ন ভাইয়া ছিল তোমার ভালোলাগা, ভালোবাসা নয়। তোমার ভালোবাসা হচ্ছে আহিয়ান ভাইয়া। কেননা, তোমার যখন নয়ন ভাইয়ার সাথে এক সপ্তাহেও কথা হতো না, তখন তোমার অস্থির অস্থির লাগতো না আর তার কারণ হচ্ছে,সে ছিলো শুধুই তোমার ভালোলাগা।আর তোমার ভালোবাসা হচ্ছে,আহিয়ান ভাইয়ার যার সাথে তোমার এক মুহূর্ত কথা না হলে তুমি অস্থির হয়ে পড়ো।"

তিন্নির এমন পাকা পাকা আর বড়োদের মতো কথা শুনে,তানিয়া খুশি হবে নাকি তাকে শাসন করবে। সে সেটা ভেবে পাচ্ছে না। এটা কী ওর নিজের বোন, নাকি তার বাবা মা তাকে কোথাও থেকে কুড়িয়ে নিয়ে আসছে।তারপর তানিয়া আবার নিজের ভুল শুধড়িয়ে বললো, না না এটা তো আমারই বোন। তানিয়ার এসব ভাবনার মাঝখানেই তানিয়ার আর তিন্নির মা তাঁদের ডাকতে তাঁদের রুমে আসলো। রুমে এসে বললো।

"কিরে তোদের হইলো? নাকি তোদের সাজতে সাজতে, বরযাত্রীরা আমাদের রেখেই চলে যাবে?"

তাঁদের মায়ের কথা শুনে তিন্নির আর তানিয়া একসাথে বিছানায় থেকে উঠে মেঝেতে দাঁড়িয়ে পড়ল, আর দুই জনেই একসাথে দাঁড়িয়ে তাঁদের মাকে বললো —

"আমাদের কেমন লাগছে আম্মু?"

রোকসানা বেগম নিজের দুই মেয়ের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, তার বড়ো মেয়ে তানিয়া আজকে পড়েছে অফ হোয়াইট রঙের একটি জর্জেদের গাউন যার উপর ছোট ছোট লাল গোলাপ ফুলের কাজ করা, আর তিন্নি পড়েছে এশ রঙের একটি লং ফ্রক তারো জামার উপর সোনালী রংগের ফুলের কাজ রয়েছে। দুই বোন একই স্টাইলের মাথা বেঁধেছে। মাঝখান দিয়ে সীতা করে দুই সাইডে দুই টা ফ্রান্স বেণী করা আর বাকি সব চুল ছেড়ে দেওয়া। তিন্নি হালকা একটু মেকাপ করলেও তানিয়া করেনি শুধুই একটা সানস্ক্রিন আর একটা লিপস্টিক দিয়েছে তাতেও তাকে এই সাজে পরীর থেকে কম মনে হচ্ছে না। রোকসানা বেগম নিজের দুই মেয়ের কপালে চুমু দিয়ে বললেন।

"মাশাআল্লাহ!আমার মেয়ে দুই টা কত সুন্দর। কারো যেন কোনো নজর না লাগুক।"

তানিয়া আর তিন্নি নিজের মায়ের কথা শুনে, দুইজনেই মুচকি হাসলো। এরপর তারা তাঁদের মায়ের সাথে রুম থেকে বের হলো। আজকে তাঁদের পাশের বাসায় বিয়ে সম্পর্কে তানিয়া আর তিন্নির বোন হয়, তার বড়ো ছেলের বিয়ে। তানিয়াদের সাথে তাঁদের দূরসম্পর্কে আত্মীয় হওয়ায়, আর এর পাশাপাশি বাসা একই পাড়ায় থাকায় তানিয়াদের বাসার সবাইকে আমন্ত্রিত করা হয়েছে।তানিয়ারা ড্রয়িং রুমে এসে দেখলো সোফায় রিয়ান আর তরিকুল ইসলাম বসে আছে। তারা ছেলে আর বাবা একই রঙের, একই ডিজাইনের পাঞ্জাবী পড়েছে।তরিকুল ইসলাম তানিয়াদের আসতে দেখে, তিন্নির দিকে খেয়াল করে দেখলো, তিন্নি নিজের ঠোঁটে এক গাদা লিপস্টিক লাগিয়েছে, তানিয়াও নিজের ঠোঁটে লিপস্টিক দিয়েছে কিন্তু সে টা নিজের সীমার মধ্যে, তিন্নির ঠোঁটে লিপস্টিক দেখে, তিন্নির বাবা তিন্নিকে রাগী কণ্ঠে বললো।

"তিন্নি!মায়ের হাত তো দেখতিছি একজনো ছাড়ো নি। নিজের মায়ের মতো ঠোঁটে ঠোট পলিশ লাগিয়েছো দেখতিছি।"

তিন্নি বুঝেছে যে বাবা তার এখন রেগে আছে, তার বাবা প্রত্যেকবারি কোথাও যাওয়ার আগে এমন রাগা রাগী করে।তিন্নি ভয় পেলেও তার বাবাকে বুঝতে না দিয়ে সে বললো —

"আব্বু ওটা ঠোঁট পলিশ না ওটা হচ্ছে লিপস্টিক।"

তিন্নির কথা শুনে, তানিয়া নিজের হাসি কন্ট্রোল করার চেষ্টা করতিছে। তরিকুল ইসলাম আর তিন্নিকে কিছু বললেন না। কেননা তিনি মেয়েদের বেশি বোকাঝকা করেন না। কিন্তু তাঁদের মা রোকসানা বেগম আর চুপ থাকলেন না, তিনি নিজের স্বামীর কাছে তেড়ে গিয়ে বললেন—

"লিপস্টিক দিয়েছে টা কী এমন হয়েছে?তিন্নি লিপস্টিক দিয়েছে তুমি তিন্নিকে বোকা দাও।আমাকে কেন এর মধ্যে নিয়ে আসতিছো।"

তরিকুল ইসলাম নিজের বউয়ের দিকে একপলক তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বললো —

"যেমন মা তার ঠিক তেমন সন্তান হয়েছে।"

তরিকুল ইসলাম এর কথা শুনে রোকসানা বেগম রাগে কট মট করে বললো —

"ওঃ সন্তান তো শুধুই একার আমার তাই না।"

তরিকুল ইসলাম আর রোকসানা বেগম এর ঝগড়া এতখন দাঁড়ায় দাঁড়ায় তারা তিন ভাই বোন দেখতিছিলো, আর বেশিক্ষন তাঁদের ঝগড়া চললে, তাঁদের দাওয়াতে যাওয়ার কথা ভুলে যেতে হবে,তাই তানিয়া এক চিৎকার দিয়ে বললো —

"বাস!তোমরা কী শুরু করছো বলোতো। আমরা এখন একটা জায়গায় যাচ্ছি, পরে বাসায় এসে নাহয় তোমরা তোমাদের ঝগড়া কোন্টিনিউ করিও।"

তানিয়ার কথা শেষ হওয়ার পর তিন্নি আর রিয়ান দুই জনেও তাঁদের বাবা মাকে চুপ হতে বললো। তরিকুল ইসলাম আর রোকসানা বেগম নিজের বাচ্চাদের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো।রোকসানা বেগম তাঁদের বাচ্চাদের দিকে এগিয়ে গিয়ে তাঁদের কে তাড়া দিলেন তাড়াতাড়ি যাতে তারা রোওনা হয় বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে। তানিয়ারাও তাড়াতাড়ি বাসার বাইরে বের হলেন আর তাঁদের সাথে তরিকুল ইসলামেও যোগ হলেন। আর রোকসানা বেগম তিনিও সদর দরজায় তালা দিয়ে বাসা থেকে বের হলেন।

তানিয়াদের বিয়ে বাড়ি থেকে বাসায় ফিরতে রাত ১১:৩০ টা বেজে যায়। তানিয়াদের ফ্রেশ হতেই সময় ঘড়িতে দেখা যায় রাত ১২:০০ টা বেজে গেছে। সবার জন্য সময় টা স্বাভাবিক মনে হলেও,তানিয়ার কাছে সময় টা স্বাভাবিক মনে হলো না। কেননা আহিয়ান তাকে এখনো ফোন দেয় নি, আর না দুপুরে। দুপুরে তানিয়া ভেবেছিলো হয়তো ব্যস্ত আছে তাই দেয় নি ফোন। আর তাছাড়া তানিয়াও তখন ব্যস্ত ছিলো তাই ওতো ভাবেনি সে। কিন্তু এখন তার তো ভিশন চিন্তা হচ্ছে আহিয়ান এর জন্য। কারণ আহিয়ান তাকে রাত ১১:০০ টা বাজলেই ফোন দিয়ে দেয় আর তার সাথে কথা বলে , কিন্তু আজ ১২:০০ টা বেজে গেছে এখনো আহিয়ান এর ফোন দেওয়ার কোনো নাম নেই। তাহলে আহিয়ানও নয়নের মতো তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলো। সে কী তাহলে আবার ঠকলো।তাকে কী কোনোদিন কেউ ভালোবাসবে না, নিজের করে নিবে না, তার ভাগ্যে কী কারো ভালোবাসা লেখা নেই, সে কী এতই অভাগা।

চলবে --

(এখন তানিয়ার কী হবে যদি আহিয়ান আর ওর সাথে সম্পর্ক না রাখে এখন সব আল্লাহ ভরসা। কী হবে তানিয়ার জীবনে, ভালোবাসা কী আসবে তার জীবনে। 😩🙂🤍)

সম্পূর্ণ গল্পের লিংক ---👇
https://www.facebook.com/share/p/1A8rLyuSYp/

Address


Saidpur
Rangpur

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jannatun nesa posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Subscribe

We will notify you when anything happens in Rangpur.